ছক্কা মেরে গুজরাটকে এককভাবে শীর্ষে তুললেন রশিদ খান

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ২৮ এপ্রিল ২০২২

শেষ ওভারে প্রয়োজন ২২ রান। উইকেটে রাহুল তেওয়াতিয়া এবং রশিদ খান। বোলার দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো জানসেন। প্রোটিয়া এই পেসারের কাছ থেকে ২২ রান নেওয়া হবে খুব কঠিন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ শিবিরে চলছিল আগাম বিজয় উদযাপনের প্রস্তুতি।

কিন্তু অসাধ্য সাধন করলেন তেওয়াতিয়া এবং রশিদ খান। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকালেন রাহুল তেওয়াতিয়া। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল রান নিয়ে তিনি স্ট্রাইকে দিলেন রশিদ খানকে।

স্ট্রাইকে এসে রীতিমত বিধ্বংসী ব্যাটারে পরিণত হলেন আফগান লেগ স্পিনার। তৃতীয় বলে মারলেন ছক্কা। চতুর্থ বল মিস যাওয়ার পর পঞ্চম বলে আবারও ছক্কা। ৫ বলে উঠে গেলো ১৯ রান। শেষ বলে প্রয়োজন ৩ রান।

শেষ বলে মার্কো জানসেনকে কোনো সুযোগ দিলেন না রশিদ, ঝুঁকিও নিলেন না। বলটা সোজা পাঠিয়ে দিলেন বাউন্ডারির ওপার দিয়ে। ছক্কা। প্রয়োজন ছিল ২২ রান, রশিদ খানের তিন এবং তেওয়াতিয়ার এক ছক্কায় উঠলো ২৫ রান। অবিশ্বাস্য এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন রশিদ এবং তেওয়াতিয়া।

সে সঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়ার গুজরাট টাইটান্সকে এককভাবে তুলে দিলেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ৮ ম্যাচ শেষে গুজরাটের পয়েন্ট এভন ১৪। সমান ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১০ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। লখনৌ সুপার জায়ান্টসের পয়েন্টও ১০। তারা রয়েছে চতুর্থ এবং ৯ ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে রান রেটের ব্যবধানে পঞ্চম স্থানে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ১৯৬ রানের বিশাল স্কোর তাড়া করার। উড়তে থাকা গুজরাট টাইটান্সের কাছে এই বিশাল লক্ষ্যও আর বড় থাকলো না। ইনিংসের একেবারে শেষ বলে এসে ছক্কা মেরে দলকে জয় এনে দিলেন রশিদ খানরা। ১১ বলে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন রশিদ, ২১ বলে ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন রাহুল তেওয়াতিয়া। ৩৮ বলে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন ঋদ্ধিমান সাহা।

তবে হারলেও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তরুণ পেসার উমরান ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট দিয়ে জিতে নিয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

মুম্বাইর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ব্যাট করতে পাঠান গুজরাট অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মার ৪২ বলে ৬৫ এবং এইডেন মারক্রামের ৪০ বলে ৫৬ রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

শেষ দিকে শশাঙ্ক সিং ৬ বলে করেন ২৫ রান। গুজরাটের হয়ে মোহাম্মদ শামি নেন ৩ উইকেট।

জবাব দিতে নেমে ঋদ্ধিমান সাহা এবং শুভমান গিল মিলে দারুণ সূচনা এনে দেন গুজরাটকে। ৭.৪ ওভারে ৬৯ রানের জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হন তারা দু’জন। ২৪ বলে ২২ রান করেন শুভমান। ৩৮ বলে ৬৮ রান করেন ঋদ্ধিমান সাহা।

তবে রানের গতি কম থাকায় রীতিমত হারের শঙ্কায়ই পেয়ে বসেছিল গুজরাটকে। কিন্তু শেষ ওভারে রশিদ খানের ওই ঝড়ই ম্যাচের সব চিত্র পাল্টে দেয়। সানরাইজার্সের হয়ে কোনো বোলারই সফল ছিলেন না, উমরান মালিক ছাড়া। গতির ঝড় তুলে তিনে একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট।

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]