ব্যাটে রান নেই, তবু কোহলির বিশ্বাস- জীবনের সেরা সময় পার করছেন

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ১৯ মে ২০২২

আইপিএলের আগে থেকেই ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। ভক্তরা ভেবেছিল আইপিএলে হয়তো স্বরূপে ফিরবেন তিনি। কিন্তু না, আইপিএলেও ব্যাট হাতে যারপরনাই ব্যর্থ বিরাট কোহলি। যে কারণে তাকে অনেকেই বলছেন বিরতি নিতে।

কিন্তু বিরাট কোহলি মনে করছেন, বিরতি নেয়া নয়, জীবনের সেরা সময়টাই পার করছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগ পর্যন্ত চলতি আইপিএলে ১৩ ম্যাচে ২৩৬ রান করেছেন কোহলি। এর মধ্যে মাত্র একটি ইনিংসে অর্ধশতরান রয়েছে। গড় মাত্র ১৯.৬৭। শুধু তাই নয়, তিনটি ম্যাচে প্রথম বলে আউট হয়েছেন, যেটাকে বলা হচ্ছেন গোল্ডেন ডাক। অনেক সমালোচনাও ভেসে এসেছে তার দিকে।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ওয়েবসাইটে কোহলি বলেছেন, ‘অনেকেই আমাকে বিরতি নেওয়ার কথা বলেছেন; কিন্তু যিনি সবচেয়ে জোর দিয়ে সেই কথা বলেছেন, তিনি রবি শাস্ত্রী। কারণ, আমি কখন কী পরিস্থিতিতে থাকি সেটা উনি ছয়-সাত বছর ধরে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। যে পরিমাণে ক্রিকেট আমি খেলেছি, যে উত্থান-পতন আমার জীবনে এসেছে, আইপিএলসহ তিন ফরম্যাটে ১০-১১ বছর একটানা খেলার যে চাপ সেটা উনি বুঝতে পারেন।’

কোহলী স্বীকার করে নিয়েছেন, বিরতি নিলে মানসিকভাবে অনেক তরতাজা হয়ে নামতে পারবেন তিনি, যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার ক্ষেত্রে দরকার। তিনি বলেন, ‘সবাইকেই কোনো না কোনো সময় বিশ্রামের ব্যাপারে ভাবতে হয়। নিজের শতভাগ দিতে না পারলে কোনও কাজ করা উচিত নয়। আমি সারা জীবন এটাই বিশ্বাস করে এসেছি। ঠিক কখন বিরতি নেওয়া দরকার সেটা আমাকেই ঠিক করতে হবে। নিজেকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে গেলে একটা বিরতি দরকার। শারীরিক ভাবে ততটাও নয়, কারণ খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকলে এমনিতেই সেদিকে খেয়াল রাখি। কিন্তু মানসিকভাবে উজ্জীবিত হওয়াটা খুব দরকার। যে কাজই করি না কেন, তার জন্য উৎসাহিত হওয়া উচিত। জোর করে করতে হচ্ছে, এমন পরিস্থিতি যেন না আসে।’

কেন বিরতি নেওয়া দরকার সেটা ব্যাখ্যা করে কোহলি বলেছেন, ‘বিশ্রাম নেওয়ার মধ্যে কোনও ভুল নেই। যে পরিমাণ ক্রিকেট আমরা খেলি এবং যে পরিমাণ ক্রিকেট আমরা খেলে এসেছি, তাতে এটা দরকার। ক্রিকেট এবং বিশ্রাম, এই দুটোর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখা উচিত। রাহুল (দ্রাবিড়) ভাই এবং দল পরিচালনা কমিটির সঙ্গে অবশ্যই এটা নিয়ে আলোচনা করব।’

আইপিএলে নিজের খারাপ ছন্দকে ২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতার সঙ্গে তুলনা করেছেন কোহলি। বলেছেন, ‘এ সময়টাকে যে তাড়াতাড়ি ভুলে যেতে চাইছি এমনটা কিন্তু নয়। ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং সেটা পেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। এখন কোনও নির্দিষ্ট জিনিস বেছে নিয়ে বলতে পারব না যে আমার এখানে সমস্যা রয়েছে। কারণ, অনেক সময় ভাল ব্যাটিং করলে মনে হয় ছন্দ ফিরে পেয়েছি। ইংল্যান্ডে কিন্তু সেটা হয়নি। বুঝতে পারছিলাম যে আমি ভাল ব্যাটিং করতে পারছি না। তাই তখন আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখন আমি জানি, যে কোন জায়গায় রয়েছি। কিভাবে পরিস্থিতি বা বিভিন্ন বোলারের মোকাবিলা করতে হয় সেটা বুঝতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত দিন খেলতে পারতাম না।’

কোহলি সঙ্গে যোগ করেন, ‘এখনকার পরিস্থিতি আমি সহজেই বুঝতে পারছি এবং এখান থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটাই একটা প্রক্রিয়া। যতক্ষণ জানি যে ঠিক কাজ করছি, ততক্ষণ সেটাই করে যাব। জানি আমার জীবনে এখন উত্থান-পতনের সময় চলছে। এই সময়টা পেরিয়ে গেলে বুঝতে পারব যে কতটা ধারাবাহিক হতে পারি। আমি জানি যে দলের হয়ে অবদান রাখার ক্ষমতা এখনও আমার মধ্যে রয়েছে। এই ইচ্ছে শক্তিটাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

কোহলি জানিয়েছেন, জীবনের এ পর্যায়ে এসে কারো কাছে কিছু প্রমাণ করার দায় নেই তার। যতটুকু খেলবেন, ক্রিকেট এবং মানুষ হিসেবে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করবেন। সব ধরনের অভিজ্ঞতাই তিনি পেতে চান। তিনি বলেন, ‘অনেক আশীর্বাদ পেয়েছি গত কয়েক বছরে। মানুষের ভালবাসা, অভিনন্দন পেয়েছি। আগে কখনও এই দিকটা ভেবে দেখিনি। কারণ তখন নিজের খেলা নিয়ে অনেক ব্যস্ত ছিলাম।’

চলতি বছরে নিজের লক্ষ্যও স্থির করে নিয়েছেন কোহলি। বলেছেন, ‘এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে চাই। এটাই আমার অনুপ্রেরণা। তার জন্য ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্রাম নিতে হবে। নিজেকে তরতাজা রাখতে হবে। একবার মানসিকভাবে ঠিকঠাক জায়গায় চলে গেলে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না।’

সূত্র: আনন্দবাজারপত্রিকা

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]