উড়ন্ত ফর্মের রহস্য গোপনই রাখলেন লিটন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪২ পিএম, ২৪ মে ২০২২

লিটন দাসের টেস্ট ক্যারিয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগে অভিষেকের পর থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময় আর পরের ভাগে ২০২১ থেকে বাকি সময়। পরের ভাগে পুরো ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানই বদলে নিয়েছেন লিটন। তবে এই বদলে যাওয়ার রহস্য ঠিক খোলাসা করতে রাজি নন তিনি।

ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ বছরে ২০ টেস্টের ৩৪ ইনিংসে মাত্র ২৬ গড়ে পাঁচ ফিফটিতে করেছেন ৮৫৯ রান। সেখানে ২০২১ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচের ২১ ইনিংসে ৫২.৩৮ গড়ে করেছেন ১১০০ রান। এ সময়ের মধ্যেই হাঁকিয়েছেন ক্যারিয়ারের তিন সেঞ্চুরি, সঙ্গে রয়েছে সাতটি ফিফটিও।

পরিসংখ্যানেই পরিস্কার, গত দেড় বছরে উড়ন্ত ফর্মে রয়েছেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। কিন্তু ঠিক কী কাজ করে নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন সেটি খোলাসা করেননি। তবে অনুশীলনের ধরনে যে বদল এনেছেন তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন লিটন। সংবাদ সম্মেলনে এর বাইরে কিছুই জানাননি তিনি।

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে লিটন বলেছেন, ‘(মানসিক দিক পরিবর্তন কি না) আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার কাছে মনে হয় আমার অনুশীলনের ধরনটা বদলেছে। কী বদলেছে সেটা কীভাবে বিশ্লেষণ করবো? আমি কীভাবে বিশ্লেষণ দেবো কী বদল হয়েছে!’

জানতে চাওয়া হয় আগে কোন জিনিসগুলো এখন আর করেন না? তার জবাব, ‘খুব কঠিন এই জিনিস বলা যে কী কী করি না। আমার কাছে মনে হয় আমার অনুশীলনের ধরনে পরিবর্তন এসেছে সেটা আমি বলতে পারি। কিন্তু কী কী জিনিস পরিবর্তন তা বলতে পারবো না। এই জিনিস আমার ভেতরে থাক।’

আগে পরিসংখ্যানে চোখ রাখলেও এখন আর তা করেন না জানিয়ে লিটন বলেছেন, ‘যখন পরিসংখ্যান দেখতাম তখন দেখতাম খুব কোণঠাসা অবস্থায় আছি। ওখান থেকে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন আর (পরিসংখ্যান) দেখি না। এখন ধারাবাহিকভাবে সামনের দিকে এগোনোর চিন্তাধারা। জানি না কতদূর যেতে পারবো।’

চলতি বছর উড়ন্ত ফর্মে থাকলেও, গতবছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় পর্যন্ত নানান সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল লিটনকে। ব্যাট হাতে রান থাকায় দলে তার জায়গা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এমনকি অক্রিকেটীয় অনেক বিষয় নিয়েও তুমুল কটাক্ষ করা হয়েছে এ ড্যাশিং ব্যাটারকে।

মাঠের বাইরের এসব চাপ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সমালোচনা জিনিসটা হবেই। আমার যেহেতু জীবনটা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে, ভালো খেললে আপনারা বাহ্বা দেবেন বা জনগণ বাহ্বা দেবে। একইভাবে খারাপ খেললে ঐ জিনিসটাও (প্রতিক্রিয়া) দেবে। কারণ তারা চায় আমি পারফর্ম করি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমালোচনার বিষয়টা এখন আর আমাকে চিন্তিত করে না। আমি চেষ্টা করি আমি কতখানি মনোযোগী, অনুশীলনের ধরনটা কি আমি নিয়মিত অনুসরণ করছি কি না। আমি যদি আমার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করি তাহলে নিজের কাছেই অপরাধী মনে হয় যে আমি করছি না। তাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার চেষ্টা করি, বাকিটা উপরওয়ালার হতে।’

এসএএস/আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]