শান্ত-বিজয়ের পর সাকিবকে হারিয়ে আরও বিপদে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৫ এএম, ২৫ জুন ২০২২

৭ বছরেরও বেশি সময় পর দলে ফিরে এসে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না এনামুল হক বিজয়। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচের পর ম্যাচ যেভাবে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন, সেন্ট লুসিয়ায় তার ছিটেফোঁটাও দেখাতে পারলেন না। বরং, দলকে হতাশা উপহার দিয়ে ফিরে গেলেন মাত্র ২৩ রান করে।

ক্যারিবিয়ান অভিষিক পেসার অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে উইকেট হারিয়েছিলেন টপ অর্ডারের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়ও। ৬৮ রানে দুই উইকেট পড়ার পর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে জুটি গড়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত; কিন্তু দলকে ১০৫ রানে বসিয়ে রেখে পরপর আউট হয়ে গেলেন বিজয় এবং শান্ত। বিজয় আউট হয়েছেন কাইল মায়ার্সের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে।

এনামুল হক বিজয় আর নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে মনে করা হচ্ছিল, বাংলাদেশ বুঝি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। হয়তো উইকেটে জমিয়ে বসে যাচ্ছেন এই দুই ব্যাটার। কিন্তু অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে প্রথমে বিজয় হলেন এলবিডব্লিউর শিকার। পরের ওভারে কাইল মায়ার্সের বলে হলেন এলবিডব্লিউ। বিজয় ৩৩ বল খেলে করেছেন ২৩ রান এবং শান্ত খেলেছেন ৭৩ বল। করেছেন ২৬ রান।

শান্ত বিজয়ের পর জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান এবং লিটন দাস। কিন্তু এই জুটিও বেশিদুর এগুতে পারেননি। মাত্র ২০ রানের জুটি গড়ার পর তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেন জাইডেন সিলস। মাত্র ৮ রান করে সিলসের বলে বোল্ড হয়ে যান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশের রান ৩৯.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৫। ১৬ রান নিয়ে লিটন দাস এবং ৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন নুরুল হাসান সোহান।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে মাহমুদুল হাসান জয়ের উইকেট হারালেও হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। কিন্তু মাত্র ৪ রানের জন্য ক্যারিয়ারে ৩২তম ফিফটিটি মিস করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

ইনিংসের ২৩তম ওভারে আলজেরি জোসেফের বলে টাইমিং গড়বড় করে কভার পয়েন্টে ক্যাচ হয়েছেন তামিম। ৬৭ বলে গড়া তার ৪৬ রানের ইনিংসে ছিল ৯টি বাউন্ডারির মার। ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ৭৭ রান নিয়ে প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

গ্রস আইলেটের ড্যারেন স্যামি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টসভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েট টস জিতে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন।

প্রথম ওভারেই বিপদে পড়তে পারতো বাংলাদেশ। কেমার রোচের ওভারের পঞ্চম বলে জোরালো আবেদন হয়েছিল। তামিম ইকবালের প্যাডে বল লাগায় রিভিউও নিয়েছি ক্যারিবীয়রা। কিন্তু বল লেগ স্ট্যাম্প হালকা ছুঁয়ে গেলেও আউট পায়নি স্বাগতিকরা। বরং ওভারের শেষ বলটি ফ্লিক করে সীমানাছাড়া করেন তামিম।

রোচের পরের ওভারের প্রথম বলে আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান তামিম। এবার হাঁটু গেড়ে চমৎকার কভার ড্রাইভে। এমন শুরু করা তামিম এখন পর্যন্ত খেলছেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

তবে প্রথম টেস্টের মতো বিপজ্জনক জায়গায় বল ফেলে ইনিংসের যাচ্ছেন কেমার রোচ। উইকেট পাওয়ার খুব কাছাকাছিই চলে এসেছিলেন ক্যারিবীয় পেসার। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।

ইনিংসের সপ্তম ওভারের ঘটনা। ওভারের চতুর্থ বলটি মাহমুদুল হাসান জয়ের প্যাডে লাগলে আবেদন করেন রোচ। আউট দেন আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওর্থ। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। দেখা যায়, বল জয়ের লেগ স্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরে ছিলো।

পরের বলটি নিচু হয়ে লেগেছিল জয়ের প্যাডে। এবারও আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। বাংলাদেশ নেয় রিভিউ। এবারও দেখা যায়, বল লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যেতো। সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় আম্পায়ারকে। টানা দুই বলে বেঁচে যান জয়।

তারপরও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি না ডানহাতি এই ওপেনার। এবার আর রিভিউ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ব্যক্তিগত ১০ রানে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে সরাসরি বোল্ডই হয়েছেন অভিষিক্ত পেসার অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে। ১২.২ ওভারে জয়-তামিমের জুটিটি ছিল ৪১ রানের।

আইএইচএস/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]