ছেলের হাত ধরে ঘুচলো বাবার ২৩ বছরের আক্ষেপ

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৪ এএম, ২৭ জুন ২০২২

রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে আরও একবার ফেবারিট ছিল মুম্বাই। তাদেরকে হতাশায় ডুবিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মর্যাদার এই টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলেছে মধ্য প্রদেশ। ব্যাঙ্গালুরতে রোববার শেষ হওয়া ফাইনালে রঞ্জির ৪১ বারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে আদিত্য শ্রিভাস্তাবের দল।

এরই মাধ্যমে নিজের বাবার ২৩ বছরের একটি আক্ষেপও মিটিয়ে দিয়েছেন মধ্য প্রদেশের অধিনায়ক। ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মধ্য প্রদেশের হয়ে খেলেছেন আদিত্যের বাবা চন্দ্রকান্ত পন্ডিত, করেছেন অধিনায়কত্বও। সেই চন্দ্রকান্তই এখন আবার মধ্য প্রদেশের কোচ।

১৯৯৯ সালে চন্দ্রকান্তের নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল মধ্য প্রদেশ। এবারের মতো সেবারও ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামে তারা। কিন্তু সেই ফাইনালে কর্ণাটককে হারাতে পারেনি চন্দ্রকান্তের মধ্য প্রদেশ। সেদিন থেকে ২৩ বছর পর এসে তা করে দেখালো আদিত্যের মধ্য প্রদেশ।

ছেলের হাত দিয়েই মধ্য প্রদেশকে চ্যাম্পিয়ন করার আক্ষেপ মিটেছে কোচ বাবা চন্দ্রকান্তের। ফাইনাল শেষে সেই ২৩ বছর আগের স্মৃতিতে ফিরে যান তিনি। সেবার না পারলেও এবার আদিত্যের হাত দিয়ে আশায় আক্ষেপ মেটার আনন্দ চন্দ্রকান্তের কণ্ঠে।

বিসিসিআইয়ের ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘এটি আমার জন্য আবেগঘন মুহূর্ত। এখন ২৩ বছর আগের কথা মনে পড়ছে। এই মাঠেই মধ্যপ্রদেশের অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে হারতে হয়েছিল। এবার এই মাঠেই রঞ্জিতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হলাম। অনেকে বলে বাবা যেটা করতে পারেননি, আজ ছেলে আদিত্য সেটা করে দেখালো।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি প্রায় ছয় বছর মধ্য প্রদেশের হয়ে খেলেছি। গত মার্চে এই দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। আমি দ্বিতীয়বার ভাবিনি। অন্য কোনো প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার আগে আমি ভেবেছি মধ্য প্রদেশেই ফিরে যাই, যেখানে আমার ২৩ বছর আগের কিছু বাকি রয়ে গেছে।’

নিজের ছেলের প্রশংসায় চন্দ্রকান্ত বলেছেন, ‘আমাকে বলতেই হবে, অধিনায়ক হিসেবে পরিকল্পনা ও কৌশলগত দিকে আদিত্য দুর্দান্ত। আমরা যা কিছু আলোচনা করতাম, সেগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করতে কখনও সমস্যা হয়নি তার। আমার মতে, অধিনায়ক-ই যেকোনো দলের জয়ের সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।’

দলের অন্যান্যদের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যদিও আদিত্য রানের মধ্যে ছিল না, তবু নিজের কাজটা ভালোভাবেই করছিল। তার ওপর আমার আস্থা ছিল। একইসঙ্গে রজত পাতিদার, শুভাম শর্মা, কুমার কার্তিকসহ আরও অনেকে... তরুণ আকসাত রাঘুবংশিও মধ্য প্রদেশের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছে।’

এসএএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]