সোহানের ঝড়ো ফিফটিতে ইনিংস হার এড়িয়ে লিড বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪৬ এএম, ২৮ জুন ২০২২

ভেজা মাঠ অনেকটা সময় বাঁচিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের হার। প্রথম দুই সেশনে আউটফিল্ড প্রস্তুতই করতে পারেননি মাঠকর্মীরা। অবশেষে চা-বিরতির পর খেলা শুরু হয়।

মেহেদি হাসান মিরাজ দিনের চতুর্থ ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেন ৪ রান করে। ইনিংস হার এড়াতে তখনও ২৬ রান দরকার বাংলাদেশের। নুরুল হাসান সোহান এরপর মারকুটে চেহারায় হাজির হলেন।

একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে বাঁচালেন ইনিংস হারের লজ্জা থেকে। ৪০ বলে ঝড়ো ফিফটি পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গে দলকে লিডও এনে দেন সোহান।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ৯ উইকেটে ১৮৫ রান। সোহান ৪৩ বলে ৬০ আর খালেদ আহমেদ শূন্য রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের লিড ১১ রানের।

তৃতীয় দিন শেষেই সেন্ট লুসিয়া টেস্টে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল সাকিব আল হাসানের দল। লক্ষ্য ছিল একটাই, কোনোমতে ইনিংস হারটা এড়ানো যায় কি না। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ইনিংস পরাজয় এড়াতে আরও ৪২ রান করতে হতো সফরকারীদের।

ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৩২ রান। প্রথম ইনিংসে সাকিব আল হাসানের দল গুটিয়ে গিয়েছিল ২৩৪ রানে। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৮ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে নেয় ১৭৪ রানের লিড।

১৭৪ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামার পর তামিমদের কাছ থেকে যেটুকু ধৈর্য আশা করেছিল সবাই, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। বরং কেমার রোচের ইনসুইংগার-আউটসুইংগার বাছবিচার না করে শট খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।

মাত্র ৮ বল খেলে ৪ রান করে দলীয় ৪ রানের মাথায় উইকেট বিলিয়ে দেন তামিম। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি বাঁধেন মাহমুদুল হাসান জয়। কয়েকটি ভালো শট, কয়েকটি আলগা শটও খেলেন তিনি। রোচকে ৭ম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মারার পরের বলেই তার ইনসুইংগার বলটিকে ঠেকাতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বসেন।

বল চলে যায় থার্ডম্যানে জার্মেই ব্ল্যাকউডের হাতে। ১৩ রান করে আউট হয়ে যান জয়। দলীয় ৩২ রানের মাথায় কেমার রোচের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন এনামুল হক বিজয়। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে হলেন এলবিডব্লিউ। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি আট বছর টেস্টে ফেরা বিজয়।

মাত্র ৪ রান করে আউট হন বিজয়। তিনি আউট হতে না হতেই নামে বৃষ্টি এবং খেলা বন্ধ হয়ে যায় এ সময়। বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হলেও বদলায়নি বাংলাদেশের ভাগ্য। একপ্রান্তে নাজমুল শান্ত আশা দেখালেও হতাশ করেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসরা।

বছরের শুরু থেকে দারুণ ফর্মে থাকা লিটন সাজঘরে ফিরে যান ১৬ রান করে, সাকিব থামেন ব্যক্তিগত ১৯ রানে। দারুণ খেলতে থেকে ফিফটি আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত আলগা শটে আউট হন ৪২ রান করা শান্ত। ১১৮ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর মিশনে ব্যাটিং শুরু করেন নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। সোহান ১৬ রান আর মিরাজ শূন্যতে অপরাজিত ছিলেন।

এমএমআর/জেডএইচ/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]