প্রতিভা তুলে আনতে ‘পাকিস্তান জুনিয়র লিগ’, কাজ করছেন আফ্রিদিরা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, ২৯ জুন ২০২২

শুধু সিনিয়র ক্রিকেটারদের ফ্রাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করলেই কী প্রতিভা বেরিয়ে আসবে? আইপিএল-বিপিএল-পিএসএল থেকে অনেক প্রতিভা হয়তো বেরিয়ে আসে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবার ভিন্ন এক চিন্তা করলো।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কঠিন লড়াই কিংবা ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীতার অভ্যাস যেন ক্রিকেটারদের কিশোর বয়স থেকেই গড়ে ওঠে, সে জন্য তারা আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান জুনিয়ার লিগ (পিজেএল)।

‘পিজেএল’ পুরোটাই পিসিবির বর্তমান চেয়ারম্যান রমিজ রাজার ব্রেইনচাইল্ড (মস্তিষ্কপ্রসূত)। তার লক্ষ্য মূলত তরুণ প্রতিভা তুলে আনা এবং সঙ্গে ক্রিকেট বাণিজ্যকে আরও বাড়িয়ে তোলা। জুনিয়র পর্যায়ের ক্রিকেটে বাণিজ্যের প্রসারতা ঘটলে দেশের ক্রিকেটেরই লাভ হবে, এ চিন্তা থেকেই পাকিস্তান জুনিয়র লিগের (পিজেএল) আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রথমবারেরমত আয়োজন হতে যাওয়া জুনিয়রদের এই লিগে এরই মধ্যে মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন চার কিংবদন্তি ক্রিকেটার। শহিদ আফ্রিদি, ড্যারেন স্যামি, জাভেদ মিয়াঁদাদ এবং শোয়েব মালিক।

আগামী অক্টোবর মাসে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই লিগটি। ১ তারিখ শুরু হয়ে শেষ হবে ১৫ তারিখ। প্রথম আসরের জন্য নিলামের মাধ্যমে মোট ৬টি ফ্রাঞ্চাইজি বিক্রি করা হবে।

এই ৬টি ফ্রাঞ্চাইজির নাম রাখা হবে দেশের প্রধানতম শহরগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হবে। তবে, পিএসএলের ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর যে ধরনের নাম রাখা হয়েছে, পিজেএলে যেন সে ধরনের কোনো নাম রাখা না হয়, সে দিকে নজর রাখবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

Ramij raja

পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজার এই চিন্তার ফলে আমূল বদলে যাবে পাকিস্তানের ক্রিকেট

গত এপ্রিলেই পিসিবি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিজেএলে অংশ নেয়ার জন্য আহ্বানপত্র পাঠায়। মোট ২৪টি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করে ফ্রাঞ্চাইজি কেনার জন্য। তবে তারা সরাসরি মালিকানা না কিনে ভিন্ন ভিন্নভাবে যুক্ত হতে চায়।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানাচ্ছে, পিএসএলের শেষ তিনটি দল পিজেএলের দল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও, ৬টি ফ্রাঞ্চাইজিই এখনও অবিক্রিত রয়েছে। তবে পিসিবি বলছে, কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

পিসিবির ইচ্ছা, পিজেএলে খেলার জন্য যে সব খেলোয়াড়কে নেয়া হবে তাদের বয়স হবে ১৫ থেকে ১৯ - এর মধ্যে। প্লেয়ার ড্রাফটের মাধ্যমে এসব ক্রিকেটারকে বিক্রি করা হবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে। শুধুমাত্র পাকিস্তানের স্থানীয় ক্রিকেটারই নয়, বিদেশী ক্রিকেটাররাও এর অংশ হতে পারে।

যখন এই বয়সের ক্রিকেটারদের এর আগে এ ধরনের বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা হবে, তখন পিসিবি পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে বাধ্য করবে এখান থেকে অন্তত ২জন করে ক্রিকেটারকে দলে নেয়ার জন্য এবং অবশ্যই একজনকে রাখতে হবে প্লেইং ইলেভেনে।

পাকিস্তানের ঘরোয়া পর্যায়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট অবকাঠানো খুবই শক্তিশালী। অনূর্ধ্ব-১৫ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে নানা ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয় দেশটিতে। ঐতিহাসিকভাবেই দেশটিতে তরুণ ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করা হয় দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে খেলার মাধ্যমে। তাদের মধ্যে দুই দিনের এবং তিনদিনের ম্যাচের আয়োজন করা হয়। সঙ্গে থাকে একদিনের ক্রিকেটও।

যে কারণে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা তরুণ বয়স থেকেই পুরোপুরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি হয়ে আসে। যে কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সব ফরম্যাটেই দারুণ অবস্থান পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের।

পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা চিন্তা করলেন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটকে যদি আরও বাণিজ্যিকীকরণ করা যায়, তাহলে ক্রিকেটের প্রতি সবার আকর্ষণ আরো বৃদ্ধি পাবে। এ কারণেই পিসিবি জুনিয়র পর্যায়ে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রচলন করতে যাচ্ছে। যেখানে প্রতিটি ফ্রাঞ্চাইজিতে থাকবে একজন করে লিজেন্ড। যারা হবেন মেন্টর এবং থাকবেন একজন করে ভালোমানের কোচ।

তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বীতা বৃদ্ধি পাবে, পৃষ্ঠপোষকরা সন্তুষ্ট হবে, তাদের বিনিয়োগ স্বার্থক হবে, লাভ উঠে আসবে। সে সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট একেবারে গভীর থেকে আরও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে উঠবে।

শহিদ আফ্রিদি, জাভেদ মিয়াঁদাদ, শোয়েব মালিক এবং ড্যারেন স্যামিরা শুধু মেন্টরই নয়, তারা দায়িত্ব পালন করবেন পুরো টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও। তারা তাদের জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন তরুণদের মাঝে। যাতে করে এই লিগকে কেন্দ্র করে পুরো পাকিস্তানে ক্রিকেটের এক নব জাগরণ সৃষ্টি হয়।

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]