আজ ৩০০ করতে পারবে বাংলাদেশ?

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০২২

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। তবু ম্যাচটি জিততে পারেনি। আজ দলীয় দেড়শ রান হওয়ার আগেই সাজঘরে ফিরে গেছেন চার ব্যাটার। তাই শঙ্কা জেগেছে, আজ কি আদৌ তিনশ রান করতে পারবে বাংলাদেশ?

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২০৬ রান। দলীয় ১০০ রান করতে বাংলাদেশ খেলেছিল মাত্র ১৭.১ ওভার। সেখান থেকে পরের ১০০ রান করতে লেগেছে আরও ২২.২ ওভার। এখন শেষ দশ ওভারে কত রান আসে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে খেলছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজন করছেন পুরোপুরি দুই মেরুর ব্যাটিং। একদিকে রানের জন্য রীতিমতো ধুঁকছেন ৫০ বলে ২৭ রান করা মাহমুদউল্লাহ। অন্যদিকে উইকেটের চারদিকে দারুণ সব শটে রানের চাকা সচল রেখেছেন ৩৪ বলে ৩৫ রানে খেলতে থাকা আফিফ।

আজ হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে চলতি জিম্বাবুয়ে সফরে টানা পঞ্চমবারের মতো টস হেরেছে বাংলাদেশ দল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ইতিবাচক অ্যাপ্রোচে দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন তামিম। ইনিংসের তৃতীয় বলেই বাউন্ডারি হাঁকান টাইগার অধিনায়ক, এক বল পর আরও একটি।

প্রথম ওভার থেকে শুরু হওয়া এই মারমুখী ব্যাটিং পুরো ইনিংসেই টেনে নেন তামিম। প্রায় প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানরেট সবসময় উঁচুতে রাখেন তিনি। তামিমের দাপুটে ব্যাটিংয়ের সামনে একপ্রকার দর্শকই ছিলেন বিজয়। প্রথম পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১৬ বল খেলার সুযোগ পান এ ডানহাতি ওপেনার।

ইনিংসের দশম ওভারে নিজের দশম বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ৪৩ বলে ফিফটি পূরণ করেন তামিম। যেখানে ছিল থার্ড ম্যান দিয়ে একটি ছয়ের মারও। অভিষিক্ত ব্র্যাডলি ইভান্সের খাটো লেন্থের ডেলিভারিতে আপার কাট করে ছয় মারেন তামিম। সেই ওভার থেকে ১৪ রান পায় বাংলাদেশ।

তামিমের ফিফটি পূরণ হওয়ার পর ১১তম ওভারে জোড়া চার মারেন বিজয়। এর মধ্যে ওভারের তৃতীয় বলে দৃষ্টিনন্দন কভার ড্রাইভে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের বাহবা কুড়ান এ ডানহাতি ওপেনার। তবে সেই ওভারেই শেষ বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়েন তামিম।

মাঠের সেই পাশে বাউন্ডারির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মিটার। সেই বড় বাউন্ডারিতে ছক্কার চেষ্টায় ভাঙে তামিম-বিজয়ের ৭১ রানের উদ্বোধনী জুটি। অধিনায়ককে হারানোর পর বিজয় ও শান্তর কাঁধে আসে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব। ইনিংসের ১৩তম ওভারের প্রথম বলে দারুণ ড্রাইভে সেই মিশনে নিজেকে প্রস্তুত ঘোষণা দেন শান্ত।

কিন্তু এক বল পর তার স্ট্রেইট ড্রাইভ তানাকা চিভাঙার হাতে লেগে ননস্ট্রাইক প্রান্তের স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়। ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে সেটি স্ট্যাম্পে আঘাত করতে দেখেন বিজয়। কিন্তু ব্যাট ভেতরে ঢোকানোর মতো সময় তিনি পাননি। ফলে ২০ রানেই থেমে যায় বিজয়ের ইনিংস।

তিন ওভারের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে খানিক চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে রানরেট খুব একটা কমতে দেননি। দুজন মিলে ১০.৪ ওভারে যোগ করেন ৫০ রান। তামিমের মতো বাউন্ডারি নির্ভর ব্যাটিং না করে সিঙ্গেল-ডাবলসের ওপর নজর দেন মুশফিক।

তবে মুশফিকের বিদায় তামিমের মতো ঠিক বড় পাশ দিয়ে মারতে গিয়েই। ওয়েসলে মাধভেরের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল দারুণ স্লগ সুইপ করেছিলেন মুশফিক। কিন্তু সীমানার অনেক আগেই টনি মুনিয়োঙ্গার হাতে ধরা পড়ে যান তিনি। আউট হওয়ার আগে এক চারের মারে ৩১ বলে ২৫ রান করেছেন মুশফিক।

মুশফিকের পর নাজমুল শান্তকেও সাজঘরে পাঠান মাধভের। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি সম্ভাবনা জাগানো শান্ত মাধভেরের করা ৩০তম ওভারে লেট কাট করার চেষ্টা করেছিলেন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। ফলে সমাপ্তি ঘটে ৫৫ বলে ৫ চারের মারে খেলা ৩৮ রানের ইনিংসের।

এসএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।