নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেটে ‘বর্ণবাদি আচরণে’র বোম ফাটালেন রস টেলর

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৯ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

গত এপ্রিল মাসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রস টেলর। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৮ হাজারের বেশি রান করেছেন টেলর। অবসর নেয়ার পরই তিনি বাজারে আনলেন নিজের আত্মজীবনী, ‘রস টেলর ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’।

এই বইতেই গুরুতর অভিযোগ তুললেন রস টেলর। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে কিভাবে বর্ণবাদের চর্চা হয়। তার মতে, নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেট শুধুমাত্র সাদাদের খেলা। এখানে তিনি প্রতিনিয়ত কতটা বর্ণবাদি আচরণ এবং নিগ্রহের শিকার হতেন, সে বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এমনকি অন্য যারা বর্ণবাদের শিকার হতেন, সেটাও তুলে ধরেছেন।

রস টেলর পুরোপুরি শেতঙ্গ নন। মায়ের দিক থেকে তিনি একজন সামোয়ান। তার শরীরের রঙ কিছুটা বাদামী। এ কারণে, ড্রেসিংরুমেই তিনি সাদাদের কাছ থেকে অনেক বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, ড্রেসিংরুমে এসব বর্ণবাদকে স্রেফ ঠাট্টা হিসেবেই দেখা হতো।

টেলর লিখেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডে ক্রিকেট হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সাদাদের খেলা। আমার পুরো ক্যারিয়ারে সাদাদের মধ্যে আমিই ছিলাম একমাত্র ব্যতিক্রম। ভ্যানিলা লাইনআপে আমিই ছিলাম একমাত্র বাদামী মুখের।’

রস টেলরের অভিযোগ ওঠার পরই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) আজ জানিয়েছে, টেলরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

তবে ঠিক কোন পর্যায়ের খেলায় বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে টেলর জানিয়েছেন, ‘ড্রেসিংরুমের টিপ্পনি অনেকভাবেই চাপ বিস্তার করত। এক সতীর্থই আমাকে বলত, রস, তুমি অর্ধেক ভালো মানুষ। কিন্তু কোন অর্ধেকটা ভালো? আমি কী বোঝাচ্ছি সেটা তুমি জানো না। কিন্তু আমি বুঝে নিতাম। জাতিগত বিষয় নিয়ে এমন সব কথা অন্য খেলোয়াড়দেরও মেনে নিতে হয়েছে। একজন পাকেহা (নিউজিল্যান্ডের সাদা চামড়ার মানুষ) এসব শুনে ভাবত, ওহ, এসব তো স্রেফ ঠাট্টা–মশকরা। কিন্তু তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা সাদা চামড়ার মানুষ হিসেবে, আর এসব কথা তাদের শুনতে হয় না। তাই কোনো প্রতিবাদ হতো না, কেউ শুধরে দিত না।’

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।