এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হতে ‘১১০ ভাগ আশাবাদী’ বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হওয়া নারী এশিয়া কাপের সবশেষ আসরের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে শেষ বলের রোমাঞ্চকর জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্য ধরে রাখার মিশনেই এবার ঘরের মাঠে হতে যাওয়া এশিয়া কাপে নামবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে ১১০ ভাগ আশাবাদী অধিনায়ক জ্যোতি। মঙ্গলবার সকালে তিনি বলেছেন, ‘(শিরোপা ধরে রাখতে) ১১০ পারসেন্ট আশাবাদী কারণ নিজের মাটিতে খেলা এবং দল ভালো শেপে আছে। তাই অবশ্যই চাইবো ঘরের মাঠে যাতে ঘরের শিরোপা থাকে।’

আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সফল অভিযান শেষে আজ (মঙ্গলবার) সকালে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সকাল ৯টা নাগাদ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রেখেছেন নারী দলের ক্রিকেটাররা।

দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন জ্যোতি। যেখানে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে এশিয়া কাপের প্রসঙ্গ। মাত্র তিনদিন পরই সিলেটে শুরু হতে চলেছে এশিয়া কাপের অষ্টম আসর। যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

নারী ক্রিকেট দলের বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল জিতেছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। খেলাধুলায় নারীদের এ সাফল্য এশিয়া কাপেও অনুপ্রাণিত করবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে। তবে এক্ষেত্রে নিজেদের চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেই অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন জ্যোতি।

তার ভাষ্য, ‘অনুপ্রেরণা... আমি আমাদের দিক থেকে চিন্তা করতেছি কারণ আমরা কিন্তু ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। আমাদের দলে অনেকেই আছে যারা (গত) এশিয়া কাপ খেলেছে। তাই তারা সবাই অভিজ্ঞ। ঘরের মাঠে যেহেতু খেলা নিজেদেরকে এগিয়ে রাখাই উচিত।’

জ্যোতি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা ভালো একটা প্রস্তুতি পেয়েছি। চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় অনুপ্রেরণা কিন্তু কিছু হতে পারে না আমার মতে। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো আমরা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে এসেছি। যেটা হচ্ছে পুরো দলকে উজ্জীবিত করছে।’

এসময় বাছাই জিতে আসায় প্রস্তুতি দারুণ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলবো যে এটি আমাদের জন্য সেরা প্রস্তুতি ছিল। কারণ ম্যাচ প্র্যাকটিসের চেয়ে ভালো কোনো প্রস্তুতি হতে পারে না। যেহেতু আমরা এই ফরম্যাটেই খেলে এসেছি, তাই এশিয়া কাপে এটি আমাদের অনেক বেশি সাহায্য করবে।’

আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে নারী এশিয়া কাপের অষ্টম আসরের খেলা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। সবগুলো ম্যাচই হবে সিলেটের মাঠে। সাত দলের অংশগ্রহণে ২৪ ম্যাচের এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ হবে ১৫ অক্টোবর।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ অক্টোবর সকাল ৯টায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। এরপর ৬ অক্টোবর মালয়েশিয়া, ৮ অক্টোবর ভারত, ১০ অক্টোবর শ্রীলঙ্কা ও ১১ অক্টোবর আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচ খেলবে জ্যোতির দল।

রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হওয়া এ গ্রুপপর্বের সেরা চার দল পাবে সেমিফাইনালের টিকিট। যেখানে প্রথম দলের মুখোমুখি হবে চতুর্থ দল। অন্য সেমিতে খেলবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দল। এ দুই ম্যাচই হবে ১৩ অক্টোবর। পরে ১৫ অক্টোবর দুপুর দেড়টায় মাঠে গড়াবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল।

এশিয়া কাপের জন্য তারকা পেসার জাহানারা আলম ও টপঅর্ডার ব্যাটার ফারজানা হক পিঙ্কিকে ফিরিয়ে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া দলে ফিরেছেন ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণাও।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ নারী দল: নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), শামীমা সুলতানা, ফারজানা হক পিংকি, রুমানা আহমেদ, রিতু মনি, লতা মণ্ডল, সালমা খাতুন, সোবহানা মোস্তারি, নাহিদা আক্তার, মুরশিদা খাতুন, জাহানারা আলম, ফাহিমা খাতুন, সানজিদা আক্তার মেঘলা, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সোহালি আক্তার।

স্ট্যান্ড বাই: মারুফা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা, নুজহাত তাসনিয়া, রাবেয়া খান।

এসএএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।