আবার সামনে সেই পাকিস্তান, এবার কী করবেন সাকিব-সাব্বির?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০২২

তিনি দলের সাথে নেই বেশ ক’দিন। দেশে কোন ব্যক্তিগত অনুশীলন করেননি। দুবাইতে দলের সঙ্গে ছিলেন না। চারদিনের অনুশীলনেও যোগ দেননি। আর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলেননি। এমনকি সিপিএল খেলা শেষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আমেরিকা গিয়ে বিলম্ব করে ফেরায় ক্রাইস্টচার্চেও দলের সাথে তিনদিনের প্র্যাকটিস সেশনের একটিও ধরা সম্ভব হয়নি।

টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ফটোসেশনেও থাকা হয়নি তার। তার পরিবর্তে ট্রফির সঙ্গে অফিসিয়াল ফটোসেশনে ছিলেন সোহান। মোটকথা, সাকিব আল হাসানের কাছে শুক্রবার পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটি যেন পাড়ার ম্যাচের মত, হঠাৎ বল ও ব্যাট হাতে নেমে পড়বেন তিনি। শুক্রবার সাকিব সেভাবেই মাঠে নামবেন।

কেউ কেউ হয়ত বলবেন তিনি তো খেলার মধ্যেই ছিলেন। কিন্তু যতই খেলার ভেতরে থাকুন না কেন, সিপিএলে যতই অনুশীলন করুন না কেন, সেই এশিয়া কাপের পর থেকেই অধিনায়ক তার দলের সঙ্গে নেই।

কি প্র্যাকটিস, কি খেলার মাঠে, ড্রেসিং রুম, টিম হোটেল কিংবা টিম বাসের কোথাও এক ঘণ্টা নিজ জাতীয় দলের সাথে থাকা হয়নি। খুব স্বাভাবিকভাবেই একটা খাপছাড়া ও অস্বাভাবিক অবস্থা। দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে যে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কথা, তেমনটাই তো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি তার সামনে।

তারপরও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সাকিবকে ঘিরেই ভক্ত ও সমর্থকদের যত আশা ভরসা। কিন্তু তারা কী জানেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে দুই ম্যাচ জিতেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে, তার একটিতেও ম্যাচ সেরা পারফরমার নন সাকিব আল হাসান।

পাকিস্তানিদের সঙ্গে ৯ ম্যাচে সাকিবের তিনটি ফিফটিসহ মোট রান ২৯২। সর্বোচ্চ ৮৪। আর উইকেট ৬টি। সেরা বোলিং ২৪ রানে ২।

তবে ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, এর আগে তিনবার সাকিব ব্যাট ও বল হাতে নজর কেড়েছেন পাকিস্তানিদের বিপক্ষে। কিন্তু ম্যাচ জেতানো পারফরমার হিসেবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতা হয়নি। আর ৬ বছর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ফিফটি (৪০ বলে ৫০) আছে তার।

আসুন পাকিস্তানের বিপক্ষে সাকিবের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এক পলকে দেখে নেয়া যাক, ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একই ম্যাচে ২৭ রানে ২ উইকেট দখলের পাশাপাশি ৩১ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেও দল জেতাতে পারেননি তিনি।

২ বছর পর ২০১২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৪ বলে ৮৪ রানের ঝড়ো ইনিংসের পাশাপাশি ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দেয়া সাকিবও ম্যাচ সেরা হতে পারেননি। ইমরান নাজিরের ৩৬ বলে ৭২ রানের হ্যারিক্যান ইনিংসে জিতে যায় পাকিস্তান। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়ের অন্যতম রূপকার, কারিগর সাকিব (৪ ওভারে ০/১৭ ও ৪১ বলে ৫৭)।

কিন্তু জানেন কি, ৭ উইকেটে জেতা ম্যাচেও সেরা পারফরমার সাকিব নন? সে ম্যাচের ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাব্বির রহমান রুম্মন। ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল শেরে বাংলায় বাংলাদেশ পাস্তিানকে হারায় ৭ উইকেটে। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ সাব্বির রহমান রুম্মন; ৩২ বলে ৭ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৫১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সাব্বির।

সঙ্গে আরও ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানও। তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৪১ বলে ৫৭ রানের আরও একটি ইনিংস। সাকিব আর সাব্বিরের ফিফটি দিয়ে সাজানো ১০৫ রানের হার না মানা ইনিংস বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় ৭ উইকেটে জয়ের বন্দরে।

সেটা ছিল এক ম্যাচের সিরিজ। ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানিদের বাংলাওয়াশ করার পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও খুব সহজে জিতেছিল বাংলাদেশ এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সেটাই ছিল পাকিস্তানিদের বিপক্ষে টাইগারদের প্রথম জয়।

এর ঠিক পরের বছরই বাংলাদেশ পাকিস্তানকে আবার হারায়। সেটাও এই শেরে বাংলায়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপে ৫ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। বল সমান ৪৮ রানের দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলকে ৫ বল আগে দল জিতিয়ে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন সৌম্য সরকার।

এবার সৌম্য একাদশে থাকবেন কি না তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। সাব্বির দলে রয়েছেন। হয়তো বা তিনিই ইনিংস ওপেন করবেন মেকশিফট ওপেনার হিসেবে। সাকিব আল হাসান ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়ে নামবেন খেলতে। তারা কি করতে পারবেন এই ম্যাচে- সেটাই দেখার বিষয়।

এআরবি/আইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।