ত্রিদেশীয় সিরিজ

উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:০৩ এএম, ০৭ অক্টোবর ২০২২
সকালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপের ওয়ার্ম আপ ম্যাচের আগে শুক্রবার ৭ অক্টোবর থেকে নিউজিল্যান্ডে শুরু হচ্ছে ‘বাংলা ওয়াশ’ ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।

রাত পোহালেই সে বাংলা ওয়াশ ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। শুক্রবার সকাল ৮ টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

বাবর আজমের দলের বিপক্ষে কি করবে সাকিবের বাংলাদেশ? টি-টোয়েন্টিতে বারবার নুয়ে পড়া, এই সেদিন দুবাইতে আরব আমিরাতের মত অনভিজ্ঞ, অদক্ষ, অপরিণত দলের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ জিততেও যথেষ্ঠ ঘাম ঝরেছে টাইগারদের। পরে সাত রানের এক স্বস্তির জয়ে মাঠে নুরুল হাসান সোহানের দল।

সেই দল মুখোমুখি পাকিস্তানের। যে দলের দুই ওপেনারের নাম বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ান, সেই দল বাংলাদেশের চেয়ে কতটা এগিয়ে, খালি চোখেই তা দেখা যায়।

কিন্তু আসলে কি তাই? পাকিস্তান দলটির মিডল অর্ডারে যে বিরাট শূন্যতা। হায়দার আলি, ইফতিখার আহমেদ, খুশদিল শাহ, আসিফ আলি আর সাদাব খানরা যে সবাই ঘোর বিপদে যাওয়া-আসার পালায় অংশ নেয়া পথিকের মতো!

তাদের যে কারো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ফিফটি নেই তা নয়। আছে; কিন্তু সবই দলের ভালো সময়ে। অর্থ্যাৎ, শক্ত ভীতের ওপর দাঁড়িয়ে। দুর্বল ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় সবাই জবুথবু। আড়ষ্ঠ। কঠিন বিপদে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সামর্থ্য বেশ কম সবার। আর তাই পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স সে অর্থে ভালো না।

যেদিন বাবর আর রিজওয়ানের ব্যাট একসঙ্গে জ্বলে ওঠে, সেদিনই সাফল্য পায় পাকিস্তান। দু’জনার একজন যেদিন ব্যর্থ হন সেদিনই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তানিরা। আর দু’জন একসঙ্গে খারাপ খেললে তো কথাই নেই, ম্যাচ হেরে যায় বাবর আজমের দল।

এটাই শুধু ব্যাটিংয়ের চিত্র নয়। পাকিস্তানের পুরো দলের চিত্র এমনই। বোলিংয়েও প্রায় একই অবস্থা। প্রধান স্ট্রাইক বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি নেই। হাসান আলি ইনজুরি থেকে ফিরে আর নিজেকে খুঁজে না পেয়ে একাদশের বাইরে। নাসিম শাহও অসুস্থ।

এখন পাকিস্তান খেলছে তাদের দ্বিতীয় সেরা পেস অ্যাটাক নিয়ে। যার প্রধান বোলার হলেন হারিস রউফ। সঙ্গে মোহাম্মদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ হাসনাইন আর নবাগত আমির জামাল।

ইংলিশ ব্যাটারদের দাপটে শেষ ৩ ম্যাচে যাদের নাভিঃশ্বাস উঠেছে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজে প্রমাণ হয়েছে দুই ওপেনার বাবর আজম আর রিজওয়ানই পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের মূল। তারা আউট হওয়া মানে মেরুদন্ড ভাঙ্গা। মিডল অর্ডারে একজন ধরে খেলার পারফরমার নেই। যারা আছেন তারা ‘ইয়াহু’ মার্কা ব্যাটিং মানে চালিয়ে খেলে অভ্যস্ত ।

সংকটে রয়ে সয়ে দেখে খেলার সামর্থ্য ও অভ্যাস দুই’ই কম। পেস বোলিংটাও অনভিজ্ঞ। বলে গতি থাকলেও লাইন-লেন্থে তত নিয়ন্ত্রণ নেই কারোরই। আর তাই নিজেদের মাঠ লাহোরের করাচিতেও ইংলিশদের বিপক্ষে শেষ তিন ম্যাচে হালে পানি পায়নি পাকিস্তান।

সদ্য শেষ হওয়া ওই সাত ম্যাচের সিরিজই বলে দিচ্ছে, পাকিস্তান আসলে ততটা শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ দল নয়। তাদের বধ করা সম্ভব। এখন টাইগারদের নিজেদের কাজগুলো করতে হবে আগে। ব্যাটিং ভালো করার বিকল্প নেই। ওপেনিং যতটা ভাল করা সম্ভব, তা করতে হবে।

মিডল অর্ডারে সাকিব, আফিফ, মোসাদ্দেক আর সোহানকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। এদের দু’জন হলে খুব ভাল, না হয় অন্তত একজনকে শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হবে, সেটা আগে পরে যখনই হোক না কেন। আর সর্বোপরি বোলারদের প্রথম কাজই হবে বাবর ও রিজওয়ানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গা। সাকিবের দল এ কাজগুলো ঠিকমত পারলে বাংলাদেশের জয় অসম্ভব নয়।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য ১২ জনের দল
মেহেদী হাসান মিরাজ, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোসাদ্দেক হোসেন, ইয়াসির আলী রাব্বি, নুরুল হাসান সোহান, সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান এবং এবাদত হোসেন।

এআরবি/আইএইচএস/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।