লিটন, বিজয়, শান্তরা কি তামিমের অভাব মেটাতে পারবেন?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২

তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন। অবসর নেওয়ারও প্রায় দুই বছর আগে থেকে (২০২০ সালের ৯ মার্চের পর) আর টি-টোয়েন্টি খেলছেন না। আর তাই বাংলাদেশ এখন যখন টি-টোয়েন্টি খেলতে নামে, তখন আর তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিটাকে বড় করে দেখা হয় না।

অতিবড় তামিমভক্তও এখন আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাকে টিম বাংলাদেশের অপরিহার্য্য সদস্য বলে মনে করেন না। তামিমকে ছাড়াই এক বছরে দু’ দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছে টিম বাংলাদেশ।

কিন্তু ওয়ানডেতে তামিমকে হিসেবের বাইরে রাখা কঠিন। কঠিন বলা বোধকরি কম হয়ে গেল। তামিমকে ছাড়া আসলে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলকে কল্পনা করাও যায় না। সন্দেহাতীতভাবেই তিনি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যাটিং পারফরমার। সবচেয়ে বেশি (২৩১ ম্যাচে ৮০৭৪) রান তামিমের। সর্বাধিক ১৪টি সেঞ্চুরি এবং ৫৫টি হাফ সেঞ্চুরির মালিক তিনি।

বাকিরা কেউ রান তোলায় তামিমের তার ধারে কাছেও নেই। দ্বিতীয় টপ স্কোরার মুশফিকুর রহিম তামিমের চেয়ে ৫ ম্যাচ বেশি খেলেও রান করেছেন ৬৭৭৪, মানে ১৩০০ কম। সেটাই শেষ কথা নয়। বাংলাদেশের শেষ তিন ওয়ানডে সিরিজেও তামিম ছিলেন দলের অন্যতম সফল পারফরমার ।

টাইগারদের শেষ তিন সিরিজে তামিমের ব্যাট থেকে অন্তত একটি হাফ সেঞ্চুরি বেরিয়ে এসেছে। জিম্বাবুয়ের বিক্ষে গত আগস্টে সর্বশেষ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও দুটি ফিফটি (৮৮ বলে ৬২, ৪৫ বলে ৫০) হাঁকিয়েছেন। তার আগে জুলাইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (প্রভিডেন্সে ৬২ বলে ৫০*) আর মার্চে দক্ষিণ অফ্রিকার (সেঞ্চুরিয়ানে ৮২ বলে ৮৭*) বিপক্ষে সিরিজেও একবার করে পঞ্চাশের ঘরে পা রেখে দলের সাফল্যে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন দেশ সেরা এই ওপেনার ।

২০১৫ সালের জুনে ভারতের বিপক্ষে ২-১‘এ সিরিজ বিজয়ের সফল মিশনেও তামিমের ছিল বড় ভূমিকা। এই শেরে বাংলায় প্রথম খেলায় ৭৯ রানে জয়ের ম্যাচে তামিম খেলেছিলেন ৬২ বলে ৬০ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস।

এবার ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নেই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সফল ব্যাটার। রোহিত, বিরাট, লোকেশ রাহুলদের বিপক্ষে লিটন দাসের দলকে খেলতে হবে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়াই।

কি ভাবছেন লিটন? আজ মিরপুরে অফিসিয়াল প্রেস কনফারেন্সেও উঠলো এ প্রশ্ন। এক সাংবাদিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, তামিম এবং তাসকিনকে ছাড়া খেলতে হবে। তাদের অভাব ও অনুপস্থিতি কতটা অনুভুত হবে?

ছোট্ট জবাবে তামিম ইকবালের পাশাপাশি তাসকিনকেও টেনে আনলেন লিটন দাস। বললেন, ‘অবশ্যই দুই মূল খেলোয়াড়কে মিস করব।’

এটুকু বলে বাংলাদেশ অধিনায়কের শেষ কথা, ‘তবে যারা আছে ওরাও ভালো করার সামর্থ্য রাখে।’ অধিনায়ক লিটন বড় গলায় আরও বলে দিয়েছেন, শান্ত ছাড়া উপরের ৫-৬ ব্যাটারের সবার ওয়ানডে সেঞ্চুরি আছে। শান্তর দিন থাকলে সেও ১০০ করতে পারে। সব ব্যাটারের ওপর এই বিশ্বাস আছে। যার দিন ভালো সে-ই রান করতে পারবে।’

লিটন, এনামুল হক বিজয় আর নাজমুল হোসেন শান্তরা কি সত্যিই তামিমের অভাব মেটাতে পারবেন? আপাতত ম্যাচ মাঠে না গড়ানো পর্যন্ত অপেক্ষা।

এআরবি/আইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।