বড় হারে হতভম্ব আবাহনী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:৩৬ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ঘরোয়া ফুটবলে প্রিয় দল আবাহনীর নামের আগে ‘অপ্রতিরোধ্য’ শব্দটি অনেক আগেই লাগিয়ে দিয়েছে সমর্থকরা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে একচেটিয়া প্রধান্য তাদের। এ মৌসুমে তারা জিতেছে ষষ্ঠ শিরোপা। আবাহনী মাঠে আসবে, জিতবে-এটাই যেন স্বাভাবিক। কিন্তু শুক্রবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মূদ্রার অন্য পিঠও দেখলো আকাশী-হলুদ দলটি। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে তারা বিদায় নিলো আরামবাগের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে। ৬১ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ম্যাচের পরের ২৩ মিনিটে ধানমন্ডি শিবিরে সুনামি বইয়ে দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে দুর্দান্ত এক জয় নিয়ে ঘরে ফিরলো আরামবাগ।

নকআউট পর্বে যে কোনো দলই হারতে পারে। স্বাধীনতা কাপে নেই বিদেশি ফুটবলারও। স্থানীয় ফুটবলারদের এ টুর্নামেন্টকে অনেকেই বলেছিলেন ‘সবার জন্য উম্মুক্ত, যে কোনো দলই চ্যাম্পিয়ন হতে পারে।’ শুক্রবার সে ধারণাকে খুব শক্তভাবেই প্রতিষ্ঠিত করলো মারুফুল হকের তারুণ্য নির্ভর আরামবাগ। তারকাবিহীন আরামবাগের সামনে খড়-কুটোর মতো উড়ে গেলো শক্তিশালী আবাহনী। ফলটা রীতিমতো হতভম্ব করে দিয়েছে আকাশী-হলুদদের।

হারতেই পারে। তাই বলে আরামবাগের কাছে ৩-০ গোলে হার! এর কোনো ব্যাখ্যা নেই আবাহনীর কাছে। নেই কোনো হিসাবও। ম্যাচের পর এক দন্ডও মাঠে থাকেননি আবাহনীর কোচ-খেলোয়াড়রা। দলটির ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রুপু ম্যাচ শেষে মিডিয়াকে বলেছেন, ‘এভাবে প্রতিপক্ষকে গোল উপহার দিলে এবং নিজেরা গোল মিস করলে কী আর ম্যাচ জেতা যায়?’

তৃতীয়বার আবাহনীর জালে বল যাওয়ার পরই রেকর্ড ঘাঁটা শুরু প্রেসবক্সে। আবাহনী কবে তিন গোল খেয়েছে? পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২-১৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৪-১ গোলে হারার পর এমন দশা হয়নি চারবারের চ্যাম্পিয়নদের। বড় হারটা বড় কোনো দলের বিরুদ্ধে হলে একটা স্বান্তনা হয়তো খুঁজে পেতো আকাশী-হলুদ সমর্থকরা; কিন্তু যে আরামবাগ কোনোভাবে অবনমন ঠেকিয়েছে প্রিমিয়ার লিগে, স্বাধীনতা কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়তে পড়তে হলুদ কার্ডের মারপ্যাঁচে উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালে, সেই দলটিই কি না বাজেভাবে বিদায় করে দিলো তাদের!

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট গ্যালারিতে দাঁড়িয়েছিল আবাহনী সমর্থকরা। তাদের আত্মবিশ্বাস ছিল অন্তত সমতা ফিরিয়ে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে পারবে তাদের প্রিয় দল; কিন্তু তারা আশায় দাঁড়িয়ে হতাশা নিয়ে দেখেছে আরামবাগের ঝড়। ২৩ মিনিটের সে ঝড়ে ভেঙ্গে দিয়েছে তাদের ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন।

‘ফুটবল গোলের খেলা, জিততে হলে গোল করতে হবে। আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি ওরা পেরেছে। পুরো লিগে যে দল হাতেগোনা ভুল করেছে, তারা এক ম্যাচে এতো ভুল করে কিভাবে? প্রথম ২ গোল তো প্রতিপক্ষকে উপহার দিলাম নিজেদের ভুলে’- বলতে গিয়ে হতাশায় ডুবে গেলেন অনেক দিন ধরে আবাহনীর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা সত্যজিৎ দাশ রুপু।

কোনো চাপে ছিলেন মনে হয়? ‘কিসের চাপ। আপনারই তো দেখলেন, প্রতিপক্ষ কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে কি না। আসলে জয়টা আমরাই উপহার দিয়েছি তাদের। ভুলে গোল খেয়েছি, সহজ সুযোগ কাজেও লাগাতে পারিনি’-জবাব আবাহনীর ম্যানেজারের।

পেশাদার লিগে আবাহনীর বিরুদ্ধে কোনো জয় নেই আরামবাগের। তবে তারা টুর্নামেন্টগুলোতে কখনো দূর্বার হয়ে উঠে। বেশি দিন নয়। এই তো ২০১৬ সালে ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্বে আবাহনীকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল আরামবাগ। ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। আবাহনীকে সহজে ছাড়েনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে। মাত্র ১ গোলে আরাবাগকে হারিয়েছিল আবাহনী।

আরআই/আইএইচএস/এআরএস

আপনার মতামত লিখুন :