প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে এএফসির কড়া নির্দেশনা

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:৪৭ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

অনেক হয়েছে, আর না- বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে এমন কঠোর মনোভাবই দেখিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এ আসরকে নিয়মের মধ্যে চালাতে বাফুফেকে কড়া নির্দেশনাও দিয়েছে এশিয়ার ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। এখন থেকে পেশাদার ফুটবলে নিয়ম-নীতি মেনেই লিগ আয়োজন করতে হবে বাফুফেকে। এএফসির এ নির্দেশনা পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের ফুটবলের প্রধান সংস্থাটি।

শুরু থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চলে আসছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। বলতে গেলে নামকাওয়াস্তে। এখনো পেশাদার লিগের বেশিরভাগ শর্তই অপূর্ণ বাংলাদেশে। যার প্রধান ক্লাবগুলোর নিজস্ব ভেন্যু। যেভাবে লিগ চলে আসছে, সেভাবে আর চলতে দিতে চায় না এএফসি। কিছুদিন আগে সংস্থাটির এক প্রতিনিধি ঢাকা সফর করেও গেছেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই সব খেলা হয় শুনে অবাক হয়েছেন এএফসির প্রতিনিধি। তারপরই কঠোর নির্দেশনা এসেছে বাফুফেতে।

এএফসির অনেক গাইডলাইন উপেক্ষিত হয় বাংলাদেশে। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তা দেখেও চুপচাপ থাকে এএফসি। তবে পেশাদার লিগ সঠিক নিয়মে চালানোর বিষয়ে আর কোনো ছাড় দিতে চায় না তারা। যে কারণে বাফুফেও আগামী মৌসুম সামনে রেখে এএফসির শর্ত যতটা সম্ভব পূরণ করার অঙ্গীকার করে সেভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছে। কিভাবে লিগ চালাতে হবে তা নিয়ে আলোচনার জন্য আর চিঠি চালাচালি নয়, এএফসির আরেকটি প্রতিনিধি দল আবার ঢাকা সফরে আসবেন।

এএফসির শর্তগুলোর অন্যতম ভেন্যু বাড়ানো। একটি দেশের শীর্ষ লিগ ও টুর্নামেন্টগুলো এক মাঠে হয়- এটা আশ্চর্যই মনে হয়েছে এএফসির কাছে। তাই আগামী লিগ আর শুধু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হওয়ার সুযোগ নেই। ভেন্যু বাড়াতেই হবে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের কিছু বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্টি আছে এএফসির। লিগটাকে কিভাবে নিয়মের মধ্যে আনা যায় তা নিয়ে তৎপর সংস্থাটি। এএফসির প্রতিনিধি দল এসে সে দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করবে আমাদের সঙ্গে।’

এএফসি চায় পেশাদার লিগ বিকেন্দ্রীকরণ হোক। খেলা ছড়িয়ে দেয়া হোক রাজধানীর বাইরে। ঢাকার বাইরে খেলা চালানোর বাফুফের চেষ্টার ত্রুটি না থাকলেও পারেনি ক্লাবগুলোর কারণে। ক্লাবগুলো নানা বাহানা দেখিয়ে ঢাকার বাইরে যেতে চায় না। তাই বাফুফে উদ্যোগ নিয়েও আবার থেমে যায়। যে কারণে, কোনো বছর ঢাকার বাইরেও খেলা হয়, কোনো বছর শুধুই ঢাকাতে।

এএফসির কড়া চিঠি পাওয়ার পর এবার বাফুফে কঠোর অবস্থানে যাবে বলেই মনে হচ্ছে। ক্লাবগুলো যতই আপত্তি করুক, খেলা ঢাকার বাইরেও হবে। ঢাকায় একটির পরিবর্তে হবে দুটি ভেন্যু। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের খেলা হবে কমলাপুরেও। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম আর ঢালাওভাবে ক্লাবগুলোর হোম ভেন্যু হবে না। সর্বোচ্চ দুটি বেশি ক্লাব এ স্টেডিয়ামকে ভেন্যু হিসেবে নিতে পারবে।

কমলাপুর স্টেডিয়ামকে নিজেদের ভেন্যু করতে চায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। চট্টগ্রাম আবাহনী ফিরে যাবে তাদের শহরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে। মুক্তিযোদ্ধাকে আবার গোপালগঞ্জে ভেন্যু করতে বলবে বাফুফে। প্রিমিয়ার লিগের নতুন দল বুসন্ধরা কিংস ইতিমধ্যেই রংপুরকে নিজেদের হোম ভেন্যু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাফুফের কাছে। বাফুফে নতুন ভেন্যু হিসেবে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনার কথাও ভাবছে। সিলেটতো পরীক্ষিত ভেন্যুই। আবার এ ভেন্যুতে দেখা যেতে পারে প্রিমিয়ার লিগ।

এএফসির নির্দেশনা নিয়ে স্বাধীনতা কাপের পর ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে বাফুফে। দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি ক্লাবগুলোকে পরিস্কার জানিয়ে দেবে- যেভাবে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করলে ভালো হবে সেভাই তারা করবে। এ ব্যাপারে বাফুফে এখন থেকেই কঠোর মনোভাগ শুরু করছে। ঢাকার বাইরে যাবো না- ক্লাবগুলো এভাবে জিদ করলে প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ করেও দেয়া হতে পারে।

এএফসির আরেকটি শর্ত মৌসুম ঠিক রাখা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর যে ছিল না একদম। একেক মৌসুমে একেক সময়ে শুরু হয় প্রিমিয়ার লিগ। বিশ্বের অন্যান্য দেশে খেলা হয় নির্দিষ্ট সময়ে এবং সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে। ‘আমরা খেলার মৌসুম ঠিক রাখতে পারি না। যখন তখন খেলা বন্ধ করতে হয়। আগামীতে মৌসুম নির্ধারণ হবে। ম্যাচও করবো সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে। শুক্র ও শনিবারকে ম্যাচ ডে রেখে হতে পারে খেলার ফিকশ্চার’-বলেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক।

আরআই/আইএইচএস/এআরএস

আপনার মতামত লিখুন :