চ্যালেঞ্জ নিয়েই আবাহনীতে কোচ টিটু

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ফুটবলার হিসেবে কখনো আবাহনীর জার্সি গায়ে জড়াননি সাইফুল বারী টিটু। কোচিং ক্যারিয়ারেও আগে কখনো পা পড়েনি ধানমন্ডির ক্লাবটিতে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বাধিক ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন সেই আবাহনীর ডাগআউটে এবার দেখা যাবে জাতীয় দলের সাবেক এ কোচকে।

আকাশী-হলুদ দলে টিটুর অভিষেক হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে। এএফসি কাপের জন্য সাবেক এ ডিফেন্ডারকে খন্ডকালীন কোচ নিয়োগ দিয়েছে আবাহনী। ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন শিষ্যদের নিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়বেন টিটু। এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচ ৭ মার্চ ঢাকায় মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাবের বিরুদ্ধে।

চলমান ফুটবল মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিকে চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে বরখাস্ত হন টিটু। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে পড়ার পর চট্টলার দলটি টিটুকে বরখাস্ত করে দায়িত্ব দেন তারই সহকারী জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুকে। মিন্টুর কোচিংয়েই লিগের শেষ দুই ম্যাচ খেলে চট্টলার দলটি। স্বাধীনতা কাপের ফাইনালেও তারা উঠেছে মিন্টুর কোচিংয়ে।

৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর কর্মহীনই ছিলেন দেশের অভিজ্ঞ কোচ সাইফুল বারী টিটু। দল খুঁজছিলেন তিনি। দ্রাগো মামিচ চলে যাওয়ায় এএফসি কাপের জন্য কোচ খুঁজছিল আবাহনীও। শেষ পর্যন্ত কোচবিহীন আবাহনী আর দলবিহীন টিটুর ব্যাট-বলে মিলে যাওয়ায় নতুন করে শুরু হলো দুই পক্ষের পথচলা।

আবাহনী ফেডারেশন কাপ ও প্রিমিয়ার লিগ জিতলেও স্বাধীনতা কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় আরামবাগের কাছে হেরে। ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর আকাশী-হলুদদের সব মনসংযোগ এখন এএফসি কাপে। তাদের এ মিশনে চ্যালেঞ্জ নতুন কোচ সাইফুল বারী টিটুরও। জাতীয় দল, মোহামেডান, শেখ জামাল ও চট্টগ্রাম আবাহনীর ডাগআউটে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকা এ কোচও নতুন দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন।

নতুন দায়িত্বকে একদিকে চ্যালেঞ্জ, অন্য দিকে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন সাইফুল বারী টিটু, ‘এটা আমার জন্য বড় এক সুযোগ। এএফসি কাপ একজন কোচের জন্য বড় এক মঞ্চ। সব সময় আপনি এমন সুযোগ পাবেন না। পাশপাশি এটা বড় চ্যালেঞ্জও। ঘরোয়া ফুটবলে পরাশক্তি আবাহনীর মতো ক্লাবে কাজ করা বড় দায়িত্বও বটে।’

সার্বিয়ান দ্রাগো মামিচ চলে যাওয়ার পর আবাহনী একজন বিদেশি কোচ খুঁজছিলাঁ। বেশ কয়েকজন বিদেশি নিজেদের আগ্রহে আবাহনীতে জীবন বৃত্তান্তও পাঠিয়েছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা এএফসি কাপের জন্য টিটুকে বেছে নিয়েছে। বিদেশি থেকে চোখ ফিরিয়ে দেশি কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রুপু বলেন, ‘আমরা টিটুকে নিয়োগ দিয়েছি এএফসি কাপের জন্য। স্থানীয় ফুটবলারদের সম্পর্কে টিটুর ভালো ধারণা আছে। তাছাড়া এখন স্বপ্ল সময়ের মধ্যে কোনো বিদেশি কোচ নিয়োগ দেয়াও কষ্টকর।’

এএফসি কাপের জন্য এশিয়ান কোটায় একজন বিদেশি অন্তর্ভূক্তির জন্য ভিয়েতনাম, ইরান ও জাপানের ফুটবলার এনে ট্রায়াল দিয়েছিল আবাহনী। এর মধ্যে তারা পছন্দ করেছে জাপানী ফুটবলার সেইয়া কোজিমাকে এবং তাকে নিবন্ধনও করিয়েছে ধানমন্ডির ক্লাবটি। কোজিমা ছাড়াও আরো তিন বিদেশি নিয়ে এএফসি কাপ খেলতে নামবে আবাহনী। নাইজেরিয়ান সানডে ও চট্টগ্রাম আবাহনীর নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এলিসন উদুকাকে নিচ্ছে আবাহনী।

আরআই/আইএইচএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :