বঙ্গবন্ধুতে ক্ষুদে ফুটবলারদের উৎসব

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮

লক্ষাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ছেঁকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আনা হয়েছে চারটি। দুটি ছেলেদের, দুটি মেয়েদের দল। বুধবার এ চার স্কুলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ঘিরে উসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলো দেশের খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্রে। যার মধ্যমনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার আগমনের আগেই বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা প্রাথিমক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পেয়ে যায় ছেলেদের চ্যাম্পিয়ন। ৬৪ হাজার ৬৮৮ বিদ্যালয়ের মধ্যে সেরা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের দল কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার পূর্ব উজানটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফাইনালে তারা ২-১ গোলে হারিয়েছে রাজশাহী বিভাগের দল পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ভুলবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।

মেয়েদের ফাইনালের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে খেলার মধ্য বিরতিতে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’- গানের তালে ডিসপ্লেতে অংশ নেয় একদল শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিভাগের দল ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পাঁচরুখি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খুলনা বিভাগের দল ঝিনাইদহের শৈলকুপার দোহারো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যেকার মেয়েদের ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মেয়েদের ফাইনাল বেশ জমেছিল। ছেলেদের লড়াই নির্ধারিত ৫০ মিনিটে শেষ হলেও মেয়েরা ছিল ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেবো সুচাগ্র মেদিনি’- মন্ত্রে উজ্জীবিত। কেউ কাউকে ছাড় নয়, একেবারে সমানে সমান। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর গড়ায় অতিরিক্ত ১০ (৫+৫) মিনিটে। বিরতির আগে ১-০ গোলে এগিয়েছিল পাঁচরুখি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে দোহারো সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই গোল করে শিরোপা নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই মেয়েদের ফাইনাল গড়ায় টাইব্রেকারে। ফুটবলের ফলাফল নির্ধারণের সর্বশেষ ধাপে গিয়ে বিজয়ের আনন্দে নেচে উঠে ঝিনাইদহের মেয়েরা। টাইব্রেকারে তারা ফাইনাল জেতে ৫-৪ গোলে।

পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রী; কিন্তু তাদের খেলা, গোল আর জয়ের পরের উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো। এই যেমন ছেলের বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার পূর্ব উজানটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেরা যেভাবে মাঠের চারদিকে চক্কর দিয়ে আনন্দ-উল্লাশ করেছে তা ছিল দেখার মতো। ৫০ মিনিট মাঠে যুদ্ধ করার কোনো ক্লান্তিই যেন ছিল না তাদের।

মেয়েদের ফাইনালে গোলের পর খেলোয়াড়রা যেভাবে কোমর দুলিয়ে মাঠে নৃত্য করেছে তা বাড়তি বিনোদন জুগিয়েছে গ্যালারির দর্শকদের। এক কথায় ক্ষুদে ফুটবলারদের দুটি ফাইনাল ঘিরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মেতে উঠেছিল ফুটবল উৎসবে।

আরআই/আইএইচএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :