বিশ্বকাপের আগে কিয়েভে যেন ‘বিশ্বকাপ ফাইনাল’

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩৫ পিএম, ২৬ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৩:৩৯ পিএম, ২৬ মে ২০১৮

তিল ধারনের ঠাঁই নেই। এমনকি বিমান অবতরণের পর্যন্ত জায়গা নেই। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে তিন-তিনটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। রাগে ফুঁসছে একদল লিভারপুল সমর্থক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের টিকিট কেটেও খেলা দেখতে না পারার রাগ!

উত্তেজনা চরম কিয়েভেও। রাস্তাঘাটে দু’দলের সমর্থকদের হাতাহাতির খবরও আসছে অনেক। এমনকি শুক্রবার রাতে দু’জনকে গ্রেফতারও করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোনালদো-সালাহরা যে রাস্তা দিয়ে হোটেলে পৌঁছেছেন, সেই রাস্তার দুই ধারে ছিল হাজার হাজার ভক্ত সমর্থকের ভিড়। কেই পতাকা হাতে, কারো গায়ে জার্সি পরে, কেউ ফেস্টুন কিংবা হেড ব্যান্ড বেধে নিয়ে দাঁড়িয়ে। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখার লোভে চরম ভিড় আর ঠেলাঠেলি উপেক্ষা তারা দাঁড়িয়ে কিয়েভের রাসজপথে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিশ্ব ফুটবলে বিশাল আলোড়ন! যেন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ১৫ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আরও একটি ফাইনাল। বিশ্বকাপের ফাইনালের চেয়ে কম কিছু নয়। কম উত্তেজনাপূর্ণও নয়। বরং, লুঝনিকি স্টেডিয়ামের এই ফাইনাল নিয়েই এখন ফুটছে সারাবিশ্ব। যেখানে মুখোমুখি নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ে ইউরোপের সেরা দুই ক্লাব লিভারপুল এবং রিয়াল মাদ্রিদ।

রিয়াল মাদ্রিদ এবং লিভারপুল- দুই স্কোয়াডের মধ্যেই বিশ্বকাপে খেলবেন এমন প্রায় ২০জন ফুটবলার রয়েছেন। স্পেন, পর্তুগাল, জার্মানি, ব্রাজিল, ফ্রান্স, মিশর, সেনেগাল, ইংল্যান্ড, কোস্টা রিকা- নানান দেশের ফুটবলার রয়েছেন। যাদের কেউ না কেউ অন্তত বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবেন- এটা অনেকটাই নিশ্চিত। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলা রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াডেই রয়েছেন ৬জন স্প্যানিশ ফুটবলার। দুই দল মিলে ব্রাজিলের তিনজন।

ইংল্যান্ড এবং স্পেনের দুই দলের ফাইনাল নিয়ে তুমুল উৎসাহ কিয়েছে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে। পুরো ফুটবল বিশ্বেই এই উত্তেজনা রেশ। ম্যাচের চার দিন আগেই কিয়েভে পৌঁছে যাওয়া লিভারপুল সাংবাদ সম্মেলন করতে এল দল বেঁধে এবং অলরেডদের ফাইনালে তুলে আনার অন্যতম রূপকার ইয়ুর্গেন ক্লুপ বলে গেলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা কিন্তু ভাল দল হয়ে উঠেছি। ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ছিলই। সেটা সম্ভব হয়েছে শুধু আমাদের পারফরম্যান্সের জন্য। ফাইনালেও এই পারফম্যান্সই আমাদের শক্তি হয়ে উঠবে।’

পাশে বসা জর্ডন হেন্ডারসনের সদম্ভ ঘোষণা, ‘মনে রাখবেন লিভারপুলের ডিএনএ-তে আছে ট্রফি জেতা। খালি হাতে ফিরে যেতে আসিনি।’ হেন্ডারসন বা ক্লুপ যে ভঙ্গিতে সয়বাদ সম্মেলন করে গেলেন, তাতে মনে হতেই পারে, রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের হ্যাটট্রিক রুখে দেওয়াটা এখন নিছক সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্যদিকে স্পেনের একদল বোদ্ধা তো ইতোমধ্যে বলেই ফেললেন, ‘জিদানের ফুটবল মস্তিষ্ক ক্লপের মতো ধারাল নয়। তাই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো বিশ্বসেরাদের নিয়েও ফল ভুগতে হবে ফাইনালে।’

তবে ইয়ুর্গেন ক্লুপ খুবই বাস্তববাদী। তিনি এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন। কারণ, তার মত কোচের অবশ্যই জানা থাকার কথা, আত্মতুষ্টিই হলো সবচেয়ে বড় শত্রু। এ কারণে ফাইনালের চব্বিশ ঘণ্টা আগে প্রতিপক্ষ কোচকে নিয়ে তার বিশ্লেষণ, ‘যদি কেউ ভাবেন জিদানের জ্ঞান কম, তাহলে আমার সত্যিই কিছু বলার নেই। মজাটা হচ্ছে, আমার সম্পর্কেও অনেকে একই কথা ভাবে। আর কোনও জ্ঞান নেই এমন দু’জন কোচের ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলছে ভাবাটা আরও মজার।’

সঙ্গে জিদান সম্পর্কে তার মুগ্ধতা, শ্রদ্ধা এবং প্রশংসাও ঝরে পড়লো, ‘আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের সর্বকালের সেরা পাঁচ ফুটবলারের একজন জিদান এবং কোচ হিসেবে যে তার দলকে তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে তোলে, হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন দেখায়, সে কত বড়, বলার অপেক্ষা রাখে না।’

বলা হচ্ছে, এই ফাইনাল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর মোহামেদ সালাহর। ‘মিশরের নতুন ফারাও’, কেউ বলেন মিশরের রাজা আবার কারও চোখে মিশরের মেসি, মনে করেন না তার সঙ্গে লড়াইটা রোনালদোর। তিনি বলেন, ‘এখানে ব্যক্তি গুরুত্বহীন। আসলে খেলাটা আমাদের সঙ্গে রিয়ালের।’

রোনালদো তো লিভারপুলের আক্রমণভাগ নিয়ে রীতিমত মুগ্ধ। সমীহও রয়েছে তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘লিভারপুলের আক্রমণে তিনজন অসম্ভব গতিসম্পন্ন। ওদের দেখলে মনে পড়ে যায়, তিন বছর আগের রিয়ালকে। যতই স্বপ্ন দেখি না কেন, আমাদের কাজটা সহজ নয়।’

মার্সেলো ওভারল্যাপে উঠে জায়গায় ফিরতে পারবেন, আর গোল করে যাবেন সালাহরা, এমন ইঙ্গিত ক্লুপ আগেই দিয়ে রেখেছেন। তবে রিয়াল কোচ জিদান এমন সম্ভাবনা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে রিয়াল ভক্তদের জন্য একাদশের খবর হচ্ছে, যতই ফর্মে থাকুন ফাইনালের প্রথম এগারোয় থাকছেন না গ্যারেথ বেল।

বেনজেমার ওপরই আস্থা রাখছেন জিদান। তার মন্তব্য, ‘এগারো জনকে বাছাই করাই সবচেয়ে কঠিন; কিন্তু কোচ হিসেবে এই দায়িত্বটা তো পালন করতেই হবে।’ তবে কিয়েভ ফাইনালের আগে রিয়াল ভক্তদের সমর্থকদের জন্য ভাল খবর, জিদান স্বয়ং জানিয়েছেন, রোনালদো এখন পুরো সুস্থ। তার কথা, ‘এই সব ম্যাচের জন্যই ওর ফুটবলটা খেলা।’

আইএইচএস/জেআইএম