মোনেম মুন্নাকে স্মরণ করল বাফুফে ও তার সতীর্থরা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার মোনেম মুন্নার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ ফেব্রুয়ারি। ২০০৫ সালের এই দিনে ফুটবল অঙ্গনকে কাঁদিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন আবাহনী ও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দাপটের সঙ্গে খেলা এ কিংব্যাক। জাতীয় দল ও আবাহনীর জার্সি গায়ে দেশের ফুটবলকে অনন্য উচ্চতায় তুলেছিলেন তিনি।

মোনেম মুন্নার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এক বিজ্ঞপ্তিতে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন মোনেম মুন্নার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

নারায়ণগঞ্জ সোনালী অতীত ক্লাবে মঙ্গলবার সকালে বন্দরে মোনেম মুন্নার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। সন্ধ্যায় ক্লাবটি আয়োজন করে মিলাদ মাহফিল।

দেশের ফুটবলে মোনেম মুন্না প্রথম লাইমলাইটে এসেছিলেন ১৯৮৪ সালে প্রথম বিভাগের দল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে নাম লিখিয়ে। ঢাকার ফুটবলে তার আগমন ১৯৮১ সালে পাইওনিয়ার লিগে পোস্ট অফিস দলের হয়ে। প্রথম দুই মৌসুম মুক্তিযোদ্ধায় খেলে মুন্না যোগ দিয়েছিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যন্ত খেলা দল আবাহনীতে মুন্না যোগ দিয়েছিলেন ১৯৮৭ সালে।

মুন্না ছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলে অনত্যম বড় সেলিব্রেটি। হালের ফুটবলারদের কেউ কেউ ক্লাব থেকে অর্ধকোটি টাকা পারিশ্রমিক পান। তবে মোনেম মুন্না ১৯৯১ সালে আবাহনীতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ২০ লাখ টাকায়। ওই সময় যা ছিল অকল্পনীয়। তার সেই পারিশ্রমিক ওই সময় এ উপমহাদেশের ফুটবলে হইচই ফেলে দিয়েছিল। কেবল পারিশ্রমিকের দিক দিয়েই নয়, পারফরম্যান্সেও তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী।

মোনেম মুন্না জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন একাধিকবার। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল তার। ১৯৯০ এর বেইজিং এশিয়াডে প্রথমবারের মতো অধিনায়ক হন লাল সবুজ দলের। তার অধিনায়কত্বেই ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। যা ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রথম কোনো ট্রফি জয়।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও জনপ্রিয় ফুটবলার ছিলেন মোনেম মুন্না। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে খেলে তিনি বাংলাদেশের ফুটবলে বিজ্ঞাপন হয়েছিলেন প্রতিবেশি দেশটিতে।

আরআই/আইএইচএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :