ইয়াসিন : হার না মানা এক বীরের গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

রক্ত গেলে যাক, মর্যাদা তবু ভূলন্ঠিত হতে দেব না। দেশের সম্মান যেখানে জড়িয়ে, রক্ত তো সেখানে খুব ঠুনকো। ইয়াসিন খান সেটা দেখালেন কলকাতার সল্ট লেকে যুবভারতীয় স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশকে ম্যাচে বাঁচিয়ে রাখতে ঝরালেন রক্ত, তবু ছাড় দিলেন না।

ইয়াসিন যেন লড়াকু বাংলাদেশ দলের প্রতিমূর্তি ছিলেন গতকাল (মঙ্গলবার)। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটের মাথায়ই ভারতীয় এক ফরোয়ার্ডের সঙ্গে মাথায় টক্কর লেগে কপাল ফাটল, ঝরলো রক্ত। কিন্তু ইয়াসিন মাঠ ছাড়লেন না, বরং ব্যান্ডেজ বেঁধে শুরু করলেন নতুন করে।

ম্যাচে বারবার ভারতের আক্রমণগুলো যেন আটকে যাচ্ছিল এক ইয়াসিনের সামনেই। কখনও পা দিয়ে, কখনও শরীর দিয়ে বা কখনও ব্যথা পাওয়া মাথা দিয়ে বল সরিয়ে দিচ্ছিলেন। ইয়াসিনের ওই সাদা ব্যান্ডেজ মাথায় বাঁধা ছবি কাল ঘুরছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়ালে ওয়ালে। কেউবা আবার কভার ফটোও করে রেখেছেন এই যোদ্ধাকে।

YASIN-2.jpg

শুধু যে বাংলাদেশেই প্রশংসা পাচ্ছেন এমন নয়। খোদ ভারতীয় গণমাধ্যমেও আলাদা করে এসেছে ইয়াসিনের নামটি। ভারতের ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকা লিখেছে, ‘খেলার পঞ্চম মিনিটে মাথা কেটে যাওয়ার পর গোটা ম্যাচটাই ব্যান্ডেজ নিয়ে খেললেন ইয়াসিন। কিন্তু এটি তাঁর খেলায় কোনো ছন্দপতন ঘটাতে পারেনি। খুব সম্ভব বাংলাদেশের এই ডিফেন্ডার কাল তাঁর জীবনের সেরা ম্যাচটাই খেলেছেন। গোটা খেলায় ঠিক সময়মতো ট্যাকলগুলো করে গেলেন, হেড করে বল ওড়ালেন। সম্ভব সবকিছুই করেছেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে শরীর দিয়ে ঠেকালেন সাহালের একটু নিচু শট।’

হ্যাঁ, আসলেই সম্ভবত জীবনের সেরা ম্যাচটিই কাল খেলেছেন ইয়াসিন। শুধু গোল করেই নয়, গোল বাঁচিয়েও যে নায়ক হওয়া যায়, সেটি দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশের এই সেন্টারব্যাক।

এমএমআর/এমএস