জামাল-সাদরা দেশে ফিরলেও আলোচনা থামেনি কলকাতায়

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা কলকাতা (ভারত) থেকে
প্রকাশিত: ১২:২৪ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

ম্যাচের পরদিন সকালে জামাল ভূঁইয়া ও তার সতীর্থদের মুখ দেখেই বোঝা গেলো রাতে ঘুম হয়নি অনেকের। স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন তো বলেই দিলেন-সারারাত চোখের দুই পাতা এক করতে পারিনি। ভোরে ভোরে একটু চোখ লেগেছিল। অনেকেরই ছিল লালচক্ষু, ঘুম না হওয়ার ছাপ। হতাশাটা মন থেকে তাড়িয়ে দিতে চেয়েও পারেননি ফুটবলাররা। ৮৮ মিনিটে গোল খেয়ে জয় বঞ্চিত হলে কারোরই ঘুম হওয়ার কথা নয়।

বুধবার বিকেলের ফ্লাইটে জামাল ভূঁইয়ারা দেশে ফিরে গেলেও কলাকাতায় রেখে গেছেন মহান কীর্তির ছাপ। মোনেম মুন্নারা যখন কলকাতা লিগে খেলতেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মুখে মুখে ছিল বাংলাদেশের ফুটবল। অনেক দিন পর এই বাংলার মানুষের মুখে মুখে লাল-সবুজের দেশের ফুটবল।

‘দারুণ খেলেছে তোমাদের দল। আমরা তো ভাগ্যক্রমে ড্র করেছি’-বললেন কলকাতা মেডিক্যাল রিচার্স ইন্সটিটিউটের হেলপ ডেস্কের বিকাশ ভদ্র নামের যুবকটি। স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু টিভিতে দেখেছেন বাংলাদেশ-ভারতের স্মরণীয় লড়াইটি। রীতিমতো বাংলাদেশের ফুটবলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি।

বিকাশ ভদ্রের মতো কলকাতা শহরে অনেকের মুখেই বাংলাদেশের ফুটবলের প্রশংসা। ধর্মতলার রাস্তার পাশে ফল বিক্রেতা তো রীতিমতো অবাক বাংলাদেশের খেলা দেখে, ‘দোকান বন্ধ করে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। ধারণা ছিল বাংলাদেশকে গোটা তিনেক গোল দেবে ছেত্রিরা। কিন্তু যে ম্যাচ হয়েছে, তাতে বাংলাদেশই গোটা তিনেক গোল দিতে পারতো আমাদের। যাই বলুন, ভারতের ভাগ্যটা ভালো। শেষ দিকে গোল দিয়ে হারটা এড়ানো গেছে।’

সল্টলেকে আগে কখনো বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দেখেছেন? মারকুইস স্টিটের এক রেস্তোবার মধ্যবয়সী ম্যানেজার স্মৃতি হাতরিয়ে বললেন, ‘বহুদিন আগে মনে হয় একবার এখানে ম্যাচ হয়েছিল বাংলাদেশের। কিছু মনে নেই।’

মনে থাকবে কি করে? ৩৪ বছর আগে এই স্টেডিয়ামে ম্যাচ হয়েছিল এর আগে। সেটাও ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ। বহুদিন পর সল্টলেকে যখন ফিরলো বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ তখন লাল-সবুজ জার্সিধারীদের দাপট ছিল মনে রাখার মতো।

এ ম্যাচটি কেবল বাংলাদেশের জন্যই স্মরণীয় নয়, ভারতও মনে রাখবে অনেক দিন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন বিপদে আগে কমই পড়েছিল ভারত। ২০১৪ সালে গোয়ায় এর আগের সর্বশেষ ম্যাচটিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত হার এড়িয়েছিল রেফারির অনুকম্পা নিয়ে। আর এবার হার এড়ালো শেষ মুহূর্তের পাওয়া গোলে।

২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর। ১৭ দিনে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুটি ভুটানের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি এবং দুটি বিশ্বকাপ বাছাই কাতার ও ভারতের বিরুদ্ধে। যার দুটিতে জয় একটিতে ড্র আর একটিতে হার।

দারুণ পারফরম্যান্স করা জেমি ডে’র দলের পরবর্তী মিশন ওমান। ১৪ নভেম্বর ওমানের মাটিতেই স্বাগতিকদের মোকাবিলা করবেন জামাল ভূঁইয়ারা। ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের হোম ম্যাচ আগামী বছর ৪ জুন।

আরআই/এমএমআর/পিআর