ক্রিকেটকে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা মানেন না ফিফা সভাপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

এশিয়া অঞ্চলে শুভেচ্ছা সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভোরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। সংক্ষিপ্ত সফরে মঙ্গোলিয়া থেকে তিনি এসেছেন ঢাকায় এবং আজ বিকেলেই ঢাকা থেকে উড়াল দেবেন লাওসের উদ্দেশ্যে।

তার আগে অবশ্য নিজের সূচি মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ফিফা সভাপতি। ফিফার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ১০ নাম্বার জার্সি উপহার দেন ইনফ্যান্তিনো। প্রধানমন্ত্রীও ইনফ্যান্তিনোর নাম লেখা লাল সবুজ বাংলাদেশ দলের একটি জার্সি উপহার দেন ফিফা সভাপতিকে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষ করেই রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ইনফ্যান্তিনো। যেখানে তিনি উত্তর দেন বাছাইকৃত কিছু প্রশ্নের। যার মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ফেরাতে বাফুফের কী উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করেন ফিফা সভাপতি?

এ প্রশ্নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন ইনফ্যান্তিনো। জানান, মূলত সাফল্যের কারণেই ক্রিকেটে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে সেটিও আবার ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা কম বলেই। অন্যদিকে ফুটবল খেলাটা অনেক বেশি হৃদয় দিয়ে খেলা যায় বলেই মত দেন ফিফা সভাপতি।

সবিস্তরে দেয়া উত্তরে ইনফ্যান্তিনো বলেন, ‘আমি মানি না, ক্রিকেট বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ক্রিকেট তো অনেক কঠিন খেলা। আপনি কীভাবে বলতে পারবেন যে ক্রিকেট সবাই বোঝে? ফুটবল খুবই সহজে বোঝা যায়, খেলা যায়। আপনার কাছে বল আছে, খেলছেন, গোল করছেন, উল্লাস করছেন। ফুটবল হৃদয় দিয়ে খেলা যায়।’

‘হ্যাঁ আমি বুঝতে পারছি যে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অনেক সাফল্য রয়েছে। সারা বিশ্বে হাতেগোনা কিছু দেশ ক্রিকেট খেলে। সংখ্যাটা কত হবে? দশ বা এগার? অন্যদিকে ফুটবল খেলে ২১১টা দেশ। তো আপনি যখন অল্প কয়েকজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবেন তখন আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা এমনিতেই বেড়ে যাবে, সহজেই শীর্ষে যেতে পারবেন।’

‘সেদিক থেকে ফুটবল কিন্তু বেশ কঠিন। তবে এখানেই আসলে ফুটবলের মূল চ্যালেঞ্জটা। ফুটবলে আপনাকে কঠিন লড়াই করতে হবে এবং জিততে হবে। এখানে আমরা সবাই প্রতিযোগী। বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই যোদ্ধা, ইতিবাচক অর্থে। এখানে অনেক কারণেই ফুটবল খেলা হয়, এমনকি স্বাধীনতার জন্যেও।’

‘ফুটবলে এমন হবেই যে আপনি কখনও ওপরে থাকবেন আবার নিচে পড়ে যাবেন। আপনারা জানেন ২১১টি দেশের মধ্যে ফুটবল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কিন্তু ১টি দেশ, যেটা বর্তমানে ফ্রান্স। কিন্তু এর মানে এই না যে বাকি ২১০টি দল খারাপ। এটার মানে এই যে বাকি ২১০ দেশ চ্যাম্পিয়ন হতে চায়। সেটা হোক বয়সভিত্তিক বা নারী ফুটবলে।’

‘আর এ কারণেই বাংলাদেশে আমি যে ফুটবলের প্রতি প্যাশন দেখেছি, বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর সবার যে উন্মাদনা- এটা চলমান থাকলে বাংলাদেশের ফুটবলও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক উঁচুতে যাবে। তখন আর ক্রিকেটের কোনো সুযোগ থাকবে না।’

এসএএস/জেআইএম