এসএ গেমস ফুটবলে খেলা হচ্ছে না সাবিনা-কৃষ্ণা-মারিয়াদের

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে নারী ফুটবল প্রথম অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে। তারপর ২০১৬ সালে ভারতের গুয়াহাটি-শিলং গেমসেও ছিল মেয়েদের ফুটবল। দুইবারই বাংলাদেশের মেয়েরা পেয়েছিলেন ব্রোঞ্জ পদক।

কিন্তু সেই মেয়েদের এবার এসএ গেমসে পাঠাচ্ছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। মেয়েদের না পাঠানোর কথা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়ে দিয়েছে বাফুফে।

সাধারণত দলের বহর বড় করতে ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন ফেডারেশন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বিওএর ভুল বোঝাবুঝিও হয়। কিন্তু ফুটবল ফেডারেশন ছেলেদের দল রেখে বাদ দিয়েছে এসএ গেমসে মেয়েদের ফুটবল। কিন্তু কেন?

‘এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে নেই। বাফুফে আমাদের জানিয়ে দিয়েছে তাদের মেয়ে টিম থাকবে না। এটা বাফুফের বিষয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি পাঠালে ভালো হতো। ফলাফলই তো সব কিছু নয়। মেয়েদের অভিজ্ঞতা বাড়তো’-বলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু।

বাফুফের মহিলা উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণ মেয়েদের দল এসএ গেমসে না পাঠানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এভাবে, ‘আমরা গত দুই আসরে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছি। এবারও হয়তো ব্রোঞ্জের বেশি পাবো না। কারণ, আমাদের মেয়েদের দলটি জুনিয়র। সিনিয়র পর্যায়ে খেলার মতো এখনো নিজেদের তৈরি করতে পারেনি। তাই ব্রোঞ্জের জন্য আমরা খেলতে যাবো না।’

বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন মনে করেন, ‘বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা এখনো বয়সভিত্তিক পর্যায়ের। আরো দুই/তিন বছর পর এরা সিনিয়র পর্যায়ে টক্কর দেয়ার মতো হবে। এই মেয়েদের পক্ষে জাতীয় দলের হয়ে ভালো ফল পাওয়া কঠিন।’

মেয়েদের পাঠানো হবে না এসএ গেমসে-বাফুফের এমন সিদ্ধান্ত কিভাবে নিয়েছেন নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন? ‘আমরা আগের দুইবার যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসএ গেমসে অংশ নিয়েছিলাম, তেমন হয়নি এবার। কারণ, আমরা বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছি। তাছাড়া আমাদের খেলোয়াড়রা বেশিরভাগই ইয়ং। এ দল নিয়ে স্বর্ণ জয়ের আশা করতে পারি না। হয়তো আগের মতো ব্রোঞ্জ পেতে পারি। বাফুফে হয়তো এ বিষয়টি ভেবেই দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে’-বলেছেন মেয়েদের কোচ।

মেয়েদের দল অংশ নিলে তো একটি পদক যোগ হতে পারতো বাংলাদেশের ঝুলিতে। মেয়েদের অভিজ্ঞতাও বাড়তো। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাতীয় দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘আসলে এখন আমরা অংশ নিলেই সবার প্রত্যাশা থাকবে চ্যাম্পিয়ন হবো। বাস্তবতা হলো আমাদের ইয়ং খেলোয়াড়দের নিয়ে এটা কঠিন। আমাদের মেয়েদের বেশিরভাগই ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সের। সাবিনা, কৃষ্ণা, নারগিজ ও সানজিদারা কেবল এর চেয়ে সিনিয়র। এবার যেহেতেু নেপাল স্বাগতিক। ওদেরও অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় আছে। ভারতের তো আছেই। এসব কিছুর হিসেবেই বাফুফে হয়তো মেয়েদের দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মেয়েদের জাতীয় দলের খেলা এমনিতেই কম হয়। তাই এসএ গেমসে খেলতে না পারাটা হতাশা হিসেবেই দেখছেন সিনিয়র খেলোয়াড় কৃষ্ণা রানী সরকার, ‘শুনেছি মেয়েদের দল পাঠানো হবে না। এটা ঠিক আমাদের দলটি জুনিয়র। তবে খেললে দেখা যেতো কি পদক পেতাম। আমাদের জাতীয় দলের খেলার জায়গা তো একটাই। যেহেতু দল পাঠাবে না, তা হলে আর কি করার।’

আগামী ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখারায় বসবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এসএ গেমসের তেরতম আসর।

আরআই/এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]