সুবিধাবাদীরা সালাউদ্দিন-তরফদার দুই পক্ষেরই খাচ্ছেন

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন হয়েছে ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল। চার বছর মেয়াদি নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব শেষ হতে বাকি ছয় মাসেরও কম। বাফুফের পরের নির্বাচনী উত্তাপ অবশ্য শুরু হয়েছে আরো বছর দুই আগেই। নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে, বাফুফের সম্ভাব্য ভোটারদের কদরও বাড়ছে। দুপক্ষই বেশ খাতির শুরু করেছে কাউন্সিলরদের।

দুপক্ষের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল চেয়ারম্যান এবং সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন।

দেশের শীর্ষ এই ক্রীড়া ফেডারেশনের নির্বাচন প্রতিবারই জমে। বিশেষ করে সর্বশেষ তিনবার দারুণ জমেছিল। তিনবারই ভোটের লড়াইয়ে জিতে এসেছেন কাজী মো. সালাউদ্দিন।

আগের তিনবারের নির্বাচনে কাজী মো. সালাউদ্দিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন ভোটের কয়েক মাস আগে থেকে। এবার পড়েছেন কয়েক বছর আগে থেকে। বলতে গেলে ২০১৬ সালের নির্বাচন শেষ হওয়ার বছর পার না হতেই বেজে ওঠে আরেকটি নির্বাচনের বাদ্য।

আগের তিনবারই দেখা গেছে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সালাউদ্দিন বিরোধীরা একজন সভাপতি প্রার্থী খুঁজে এনে সামনে দাঁড় করিয়েছেন। তবে কোনোবারই কাজী সালাউদ্দিনকে হারাতে পারেননি তারা। সর্বশেষ নির্বাচনে নরসিংদী-২ আসনের তৎকালীন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটনকে ৩৩ ভোটে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন কাজী মো. সালাউদ্দিন।

তবে এবার বেশ আগে থেকেই কোমড় বেঁধে নেমেছে সালাউদ্দিন বিরোধীরা। অনেক আগেই বাফুফের সভাপতি পদে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিমিয়ার লিগের নতুন ক্লাব সাইফ স্পোর্টিংয়ের কর্ণধার তরফদার মো. রুহুল আমিন। যিনি বাফুফের সর্বশেষ নির্বাচনে ছিলেন কাজী মো. সালাউদ্দিনের অন্যতম সহযোগি।

কাজী মো. সালাউদ্দিনের আগের নির্বাচনের সঙ্গী রুহুল আমিন এবার নিজেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দেশের কিংবদন্তি ফুটবলারকে। সভাপতি নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অনেক দিন ধরেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তরফদার মো. রুহুল আমিন। কাজী মো. সালাউদ্দিনও চতুর্থবারের মতো বাফুফের সভাপতি হতে চান। বোঝাই যাচ্ছে, খেলা বেশ জমবে।

বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে তরফদার মো. রুহুল আমিন মফস্বলের ফুটবল সংগঠকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছেন। তার উদ্যোগেই পুনর্গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন। তিনি এই সংগঠনের সভাপতি। দুটি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে মূলতঃ নির্বাচনী কাজ গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন নতুন এই ফুটবল সংগঠক।

বাফুফের নির্বাচন মানেই জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকদের পোয়াবারো। এবার আগেভাগে নির্বাচনী বাতাস শুরু হওয়ায় মফস্বলের সংগঠকরা বেশ খোশ মেজাজেই আছেন। কিছুদিন পরপরই পাচ্ছেন বিশেষ দাওয়াত। দাওয়াত খাওয়ানোটা তরফদার মো. রুহুল আমিনই শুরু করেছিলেন। পরে মাঠে নামেন কাজী মো. সালাউদ্দিনও। দুই দিক থেকে খেয়ে ও পেয়ে বোগল বাজাচ্ছেন কিছু কাউন্সিলর, আর ক্ষণ গুনছেন-কবে আসবে ভোটের দিন, কবে ভরবে পকেট।

বাফুফেতে সাধারণ সভা অনিয়মিত। হয়না বললেও চলে। তবে প্রতিপক্ষের চাপে এবার এজিএম করতে যাচ্ছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। আগামী শনিবার গাজীপুরের একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হবে এই কমিটির অধীনে প্রথম সাধারণ সভা।

এই সাধারণ সভা সামনে রেখে একদিকে বাফুফে ঘনঘন ডেকেছে তাদের কাউন্সিলরদের। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ তরফদার রুহুল আমিনরাও। মজার বিষয় হলো, বাফুফের নির্বাহী কমিটির অনেকে বাফুফেবিরোধী সভা-সেমিনারে যোগ দিচ্ছেন। বাফুফের ব্যর্থতার কথা বলছেন। দুই কূল রক্ষা করে চলছেন কিছু চতুর সংগঠক।

ক্রীড়াঙ্গনের কিছু সুবিধাবাদী সংগঠক দুই নৌকার পালেই হাওয়া দিচ্ছেন। কখনো খাচ্ছেন কাজী মো. সালাউদ্দিনের, কখনো তরফরদার রুহুল আমিনের। কখনো কাজী সালাউদ্দিনের পাশে বসে তার মাথায় ছাতা ধরছেন, কখনো তরফদারের মাথায় হাত বুলিয়ে অগ্রীম অভিনন্দন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু ঠিক সময়ে কার পায়ের নিচের মাটি সরাবেন আর কার কোলে গিয়ে বসবেন, সেটাই দেখার বিষয়।

এই তো আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে যখন বাফুফে তাদের এজিএম নিয়ে জরুরী নির্বাহী কমিটির সভায় বসেছিল, তখন রাজধানীর একটি হোটেলে চলে বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভা। সবারই ব্যস্ত সময় কাটছে নির্বাচন সামনে রেখে।

ভোটের অনেক আগে থেকে দুই পক্ষের দৌড়ঝাপ শুরু হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনের দৃষ্টিটা আছড়ে পড়তে শুরু করেছে মতিঝিলের বাফুফে ভবনে। নাটকীয় কিছু না ঘটলে আগের নির্বাচনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোটের ময়দানে থাকা কাজী মো. সালাউদ্দিন ও তরফদার মো. রুহুল আমিন এবার মুখোমুখি অবস্থানে। ফুটবলের ভোটের ময়দান যে আগাম উত্তাপই ছড়াচ্ছে।

আরআই/এমএমআর/পিআর