এভার্টনকে গোলের মালা পরিয়ে নতুন রেকর্ড লিভারপুলের

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০০ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

৩০ বছর পর ভুলে যাওয়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এবার দেখতেই পারে লিভারপুল। বুধবার রাতে নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে এভার্টনকে ৫-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শীর্ষস্থানটা নিরঙ্কুশ রাখাই নয় শুধু, ৩১ বছরের একটি পুরনো রেকর্ডও ভেঙে দিলো ইয়ুর্গেন ক্লুপের দল।

চলতি প্রিমিয়ার লিগে ১৫তম ম্যাচে ১৪তম জয়ের দেখা পেলো ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। একটি ম্যাচ ড্র করতে হয়েছিল শুধু। সে সঙ্গে নিজেদের রেকর্ড ভেঙে দিলো তারা।

এতদিন ক্লাবের ইতিহাসে টানা ৩১টি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছিল অল রেডদের। আগের ম্যাচ জিতে সেই রেকর্ড স্পর্শ করেছিল তারা। বুধবার এভার্টনকে হারাতে পারলে নতুন রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়েছিল তারা। নিরাশ করলেন না সালাহ-মানেরা। ডার্বি ম্যাচে এভার্টনকে ৫-২ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্থাপন করলেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের মে থেকে ১৯৮৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩১ ম্যাচ অপরাজিত ছিল ইংল্যান্ডের অভিজাত ক্লাবটি। যার ফলে ১৯৮৭-৮৮ সালের লিগ শিরোপাও জিতেছিল তারা। এবার নতুন রেকর্ডের সঙ্গে লিগ শিরোপা আসবে কি না সেটা সময়ই বলবে। চলতি বছর জানুয়ারিতে শেষবার ম্যানসিটির কাছে ১-২ ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছিল ইয়ুর্গেন ক্লুপের শিষ্যরা।

কিন্তু নতুন মাইলস্টোন স্থাপনের দিনে দ্বিতীয়স্থানে থাকা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেস্টার সিটির সঙ্গে ৮ পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করলো লিভারপুল। ১৫ ম্যাচে অলরেডদের পয়েন্ট ৪৩। ওয়ার্টফোর্ডকে হারিয়ে লেস্টার সিটির পয়েন্ট ৩৫। সমান সংখ্যক ম্যাচে ম্যানসিটির পয়েন্ট ৩২। লিভারপুলের সঙ্গে ব্যবধান ১১ পয়েন্টের।

লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লুপের প্রিমিয়ার লিগে শততম জয়ের ম্যাচ ছিল এটি। একই সঙ্গে মার্সিসাইড ডার্বিতে ৮৬ বছরে সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচও ছিল এটি।

বুধবার রাতে প্রথমার্ধেই ম্যাচ জয়ের আসল কাজটা সেরে রাখেন লিভারপুলের ফুটবলাররা। মাত্র ৬ মিনিটে গোলের খাতায় প্রথম নাম তোলেন ডিভোক ওরিগি। ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জাদরান শাকিরি।

২১ মিনিটে একটি গোল শোধ করে দেয় এভার্টন। মিকায়েল কিন গোল করেন এ সময় এভার্টনের হয়ে। ৩১ মিনিটে আবারও এভার্টনের জালে বল। এবারও গোলদাতা ডিভোক ওরিগি। ৪৫ মিনিটে চতুর্থবারের মত এভার্টনের জালে বল জড়িয়ে দেন লিভারপুলের সাদিও মানে।

তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার খানিক আগে, ইনজুরি সময়ে (৪৫+৩) আরও একটি গোল শোধ করে দেন এভার্টনের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন।

দ্বিতীয়ার্ধে আর কেউ কারো জালে বল জড়াতে পারেনি। তবে খেলা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েকমুহূর্ত আগে, ম্যাচের ৯০তম মিনিটে গিয়ে পঞ্চম গোল করেন লিভারপুলের জর্জিনিয়ো উইনালডম।

ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ বলেন, ‘প্রতিটি গোলই ছিল অসাধারণ, বিস্ময়কর। দুর্দান্ত গোল, সেনসেশনাল পাসেস, সুপার পিসেস অব ফুটবল। আমি এগুলোকেই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি।’

আইএইচএস/জেআইএম