ফুটবলারদের ক্লান্তিই ব্যর্থতার প্রধান কারণ : জেমি ডে

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার শেষ হওয়া সাউথ এশিয়ান গেমসে রেকর্ড স্বর্ণ জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১০ সালের ১৮ স্বর্ণ ছাড়িয়ে এবার সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯টি। তাও বিদেশের মাটিতে। বড় এ প্রাপ্তির মাঝেও আছে কিছু অতৃপ্তি। শ্যুটিং, সুইমিংয়ে স্বর্ণ আসেনি। কাবাডিতে ব্রোঞ্জ, ফুটবলেও একই অবস্থা।

এবার ভারত ও পাকিস্তান না থাকায় ফুটবল নিয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেই ফুটবল ঘরে ফিরছে ব্রোঞ্জ নিয়ে। ৫ দলের মধ্যে তৃতীয়। এর মধ্যে এসএ গেমসের ইতিহাসে ভুটানের কাছে প্রথমবারের মতো হারও হয়েছে নেপালে।

ফুটবলপ্রেমীরা হতাশ। বাংলাদেশ যখন গত দেড় বছর ভালো ফুটবল খেলে আসছিল তখন দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে কেন এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স? চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দেশের ফুটবল বিজ্ঞরা বের করার চেষ্টা করছেন ব্যর্থতার কারণ।

যার হাত ধরে বাংলাদেশের ফুটবল মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করে আসছিল, সেই কোচ জেমি ডে কি ভাবছেন এসএ গেমসের ব্যর্থতা নিয়ে। ফুটবল দল আজ (বুধবার) ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে দেশে ফিরছেন। আর কোচ জেমি ডে কাঠমান্ডু থেকেই ছুটি কাটাতে চলে যাচ্ছে লন্ডনে। ফিরবেন বড় দিনের পর।

এসএ গেমসে দলের ব্যর্থতা নিয়ে কাঠমান্ডু থেকে জেমি ডে মুঠোফোনে জাগো নিউজকে দিয়েছেন একান্ত সাক্ষাৎকার। যার চৌম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

জাগো নিউজ : এসএ গেমসে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
জেমি ডে : আমি ভুটানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ নিয়ে বেশি হতাশ। ওই আমরা মোটেও ভালো খেলতে পারিনি। এরপর প্রত্যেকটি ম্যাচই আমরা ভালো খেলেছি। কিন্তু সেই পুরনো কাহিনী- গোল করতে না পেরে ফল পক্ষে আনা যায়নি। একটা পদক সন্তুষ্টির; কিন্তু সিলভার বা গোল্ড না হওয়াটা হতাশার।

জাগো নিউজ : দেশের মানুষ তো এই পদকে খুশি নয়। তা নিয়ে কী বলবেন?
জেমি ডে : বাংলাদেশের মানুষের এ একটা সমস্যা। তারা জয় এবং সাফল্য প্রত্যাশা করে। কিন্তু জয়ের উৎসটা কি তা জানে না। সমস্যাগুলোও তারা বোঝার চেষ্টাও করে না।

জাগো নিউজ : সমস্যাগুলো কী। আপনি কখনো তা নিয়ে আলোচনা করেছেন?
জেমি ডে : সমস্যাগুলো নিয়ে আমি বহুবার বলেছি। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। সবার একটাই লক্ষ্য ইতিবাচক ফলাফল।

জাগো নিউজ : সর্বশেষ এক দেড় বছর আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি বলেই মানুষের প্রত্যাশা উঁচুতে ছিল। তা কি ভুল ছিল?
জেমি ডে : এখানেই সমস্যা। এই ফুটবলাররা তাদের সামর্থ্যরে বাইরে খেলতে পারে না। যদি তারা শারীরিক ও মানসিক ভাবে সামর্থ্য বাড়াতে না পারে তাহলে কখনোই ভালো সম্ভব নয়।

জাগো নিউজ : প্রস্তুতির কোনো ঘটিতি ছিল বলে কি আপনি করেন?
জাগো নিউজ : হ্যাঁ। প্রস্তুতিটা ভালো ছিল না। যেমন হওয়ার উচিত ছিল, তা হয়নি। কারণ, কিছু বিষয় ছিল, যা আমরা এড়াতে পারিনি।

জাগো নিউজ : তাহলে কি বলবো প্রস্তুতির ঘাটতির জন্যই এমন ফলাফল?
জেমি ডে : এটা একটা কারণ ছিল। কিন্তু সেটা খুবই সামান্য। প্রস্তুতি স্বল্পতাকেই যদি ব্যর্থতার প্রধার কারণ হিসেবে দেখি তাহলে প্রকৃত কারণকে আড়াল করা হবে।

প্রশ্ন : তাহলে আসল কারণ কি মানসিক ও শারীরিক ঘাটতি?
জেমি ডে : একজন ফুটবলের মানুষ হিসেবে তুমি সব বুঝো। খেলোয়াড়দের কোনো বিশ্রাম ছিল না। গত ১৪ মাস ধরে তারা কোনো বিশ্রাম পাননি। যে কারণে তারা পারফম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে নাই। যেমন জামাল ভূঁইয়া গত দুই বছরে ১২২ ম্যাচ খেলেছে, এটা হয় না।

প্রশ্ন : আর কী সমস্যা আপনার চোখে ধরা পড়েছে?
জেমি ডে : আমাদের ফুটবলাররা ঘরোয়া আসরে তাদের প্রকৃত পজিশনে খেলার সুযোগ পায় না। সুতরাং আমরা জাতীয় দলের হয়ে গোল করতে পারি না। এটা কখনো পরিবর্তনও হবে না।

আন্তর্জাতিক খেলাধুলা করার জন্য ফুটবলারদের যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় তাও পর্যাপ্ত নয়। এছাড়াও, খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বসহ ৮টি বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে এসএ গেমসের আগে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপও খেলেছে তারা।

এখন আবার ফেডারেশন কাপ খেলতে হবে। জানুয়ারিতে আছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। সামনে এএফসি কাপ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। এরপর আবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাকি ম্যাচগুলো এসে যাবে। আমাদের আশা থাকবে সবগুলোতেই ভালো পারফরম্যান্স। কিন্তু এর মধ্যে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময়টা কোথায়?

প্রশ্ন : এই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কি এর চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব নয়?
জেমি ডে : যদি এই খেলোয়াড়দের ভালোভাবে পরিচর্যা না করা হয় তাহলে পারফরম্যান্স নিচের দিকেই নামবে। এটা নয় যে, খেলোয়াড়রা চেষ্টা করছে না। আসলে তারা এর চেয়ে বেশি দিতে পারছে না। বাংলাদেশ যদি বড় ধরণের উন্নতি করতে চায় তাহলে উপরের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা লাগবে।

প্রশ্ন : সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবলকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
জেমি ডে : সত্যি কথা বলতে কি আপনি যদি বাংলাদেশের ফুটবলের গত ৫০ বছরের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন গত বছর শেষ করেছে ১৯৭ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে। সুতরাং যা হচ্ছে- তা হলো আমাদের ফুটবল কাজ করছে না।

আরআই/এসএএস/জেআইএম