‘২০১৪ বিশ্বকাপে সেই সেভেনআপ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নয়’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০

ততক্ষণে শেষ হয়ে গেছে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের স্বাগত বক্তব্য। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি হুলিও সিজারও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে ফেলেছেন। এরপর শুরু হওয়ার কথা প্রশ্নোত্তর পর্ব। যার আহ্বান জানালেন সিজার নিজেই।

তবে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে সবাইকে থামিয়ে সিজার বলতে শুরু করেন, ‘এখন আপনারা প্রশ্ন শুরু করতে পারেন। তবে সবাই শান্ত থাকুন। আমি বলতে চাই, কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে কী হয়েছিল (অট্টহাসি)। সবাই এটা মানছেন তো? (কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করে) আমি মজা করছি (হাহা)। সবাইক ধন্যবাদ।’

সিজার নিজেই যেহেতু মনে করিয়ে দিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচের কথা। তাই প্রথম প্রশ্নটাও হলো সেই ম্যাচকে ঘিরেই। ঘরের মাঠে হওয়া বিশ্বকাপের সেমিতে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। দলের গোলরক্ষক ছিলেন সিজার নিজেই। সেটিই বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচের সর্বোচ্চ গোল হজমের রেকর্ড।

প্রায় ছয় বছর পর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, সেই পরাজয়ের পর ড্রেসিংরুমের অবস্থা কী ছিলো? প্রশ্নটি শুনে যেনো অতীতে ফিরে যান ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। খানিক থমকে গিয়ে উত্তর দেন শীতল কণ্ঠে।

তিনি বলেন, ‘সেই ম্যাচ! কেউই তখন বেশি কথা বলছিলো না, সবাই চুপচাপ ছিলাম। কারণ ওই মুহূর্তটা আমরা এবং আমাদের সমর্থকদের জন্য খুবই কঠিন ছিলো। কেউই ব্যাখ্যা করতে পারছিলাম না আসলে কী হলো সে ম্যাচে। এই ব্যাপারে ভাবাও অনেক কঠিন।’

ড্রেসিংরুমের অবস্থা জানিয়ে সিজার আরও বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে সবাই চুপ থাকার চেষ্টা করছিলো। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় কান্না করছিলো। তাদের মধ্যে একজন ছিলাম আমি (হাসি)। কিন্তু ফুটবলে এমন হতেই পারে। সেটা হোক প্রথম ম্যাচ বা শেষ ম্যাচ। তবে ভবিষ্যতের জন্য আপনাকে তৈরি করতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে সেটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিলো। কেননা আপনি এটা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবেন না। তাই সামনের দিকেই দেখতে হবে এবং ভালো কিছুর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’

এ সময় সিজার জানান, তার নিজের কষ্টটা একটু বেশিই ছিলো। কেননা ২০১৪’ই ছিলো তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ এবং সেবারই প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেও পারেননি ফাইনালে যেতে। তাই তার জন্য নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলাটাও ছিলো একটা নতুন অভিজ্ঞতা।

সিজারের ভাষ্যে, ‘আমাদের সেই দলের অনেক খেলোয়াড়ই ২০১৮ সালের বিশ্বকাপেও খেলেছে; কিন্তু আমার জন্য ২০১৪ই ছিলো শেষ। কারণ তখনই আমার বয়স ছিলো ৩৪-৩৫। এই তো! সেই মুহূর্তে আমরা কথাই বলতে পারছিলাম না। তারপরও অনুশীলন করতে হয়েছে। কারণ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাকি ছিলো। এটাও আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা ছিলো। কারণ, তার আগে যতবারই সেমিফাইনালে খেলেছি, সেটিকে ফাইনালে নিতে পেরেছিলাম আমরা।’

এসএএস/আইএইচএস/পিআর