বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৭৫ ভাগ গোলই বিদেশিদের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে বসুন্ধরা কিংসের দুটি গোলই করেছেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এ ম্যাচটি দেখার পর কিঞ্চিত হাসি জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে’র মুখে। বলেই ফেললেন ‘ইব্রাহিমে একটু শান্তি পেলাম।’

শান্তিই তো। পাঁচ দিনের বিরতিতে যাওয়ার আগে শেষ হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ১৭ ম্যাচ। সেখানে জেমির শিষ্যদের গোল কই? এ ম্যাচের আগের ১৬ টিতে গোল ছিল ৩৪ টি। যার মধ্যে স্থানীয়দের মাত্র ৬। এ অবস্থায় জাতীয় দলের কোচের ঘুম না হওয়ারই কথা। এ ম্যাচের ৩ গোলে সংখ্যাটা বেড়ে ৯ হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি কোচের।

লিগ বিরতি যাওয়ার আগে শেষ ম্যাচ দেখে একটু হলেও খুশি হয়ে ছুটিতে যেতে পারছেন কোচ। এ ম্যাচের ৫ গোলের ৩টিই করেছেন স্থানীয়রা। জোড়া গোল করেছেন জেমির উইঙ্গার ইব্রাহিম।

যে কয়টি ম্যাচ শেষ হয়েছে সেগুলোকে ভালো বললেও আহামরি কিছু বলছেন না কোচ। এ ইংরেজের অস্বস্তির জায়গাও আছে। জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় সাইডবেঞ্চে। কয়েকজন ইনজুরিতে। যারা খেলছেন তাদের মধ্যে ফরোয়ার্ডরা গোল পাচ্ছেন না।

শেষ হওয়া ১৭ ম্যাচে গোল হয়েছে ৩৯ টি। এর মধ্যে দুটি আত্মঘাতী। বাকি ৩৭ গোলে নাম আছে ৮ স্থানীয় খেলোয়াড়ের। ৯ গোল করেছেন তারা। বাকিসব বিদেশিদের। বিদেশিরা করেছেন মোট গোলের ৭৫ ভাগ (৭৫.৬৭)। স্থানীয়রা গোলের অনুপাত বাড়াতে না পারলে জাতীয় দলের জন্য দুঃসংবাদ থেকেই যাবে।

জাতীয় দলের প্রধান স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন। তার দল আবাহনী এ পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলেছে। জীবনের গোল নেই। আরেক স্ট্রাইকার বসুন্ধরা কিংসের মতিন মিয়া। তার দল লিগে ৩ ম্যাচ খেলেছে। মতিন মিয়া খুলতে পারেননি গোলের খাতা। আবাহনীর সাদ উদ্দিনও তাই।

এখন পর্যন্ত স্থানীয় যারা গোল পেয়েছেন, তাদের মধ্যে দুটি বসুন্ধরা কিংসের মোহাম্মদ ইব্রাহিমের। বাকি ৭ গোলদাতা হলেন-উত্তর বারিধারার আরিফ হোসেন, ব্রাদার্সের অরুপ কুমার বৈদ্য, চট্টগ্রাম আবাহনীর সাখাওয়াত হোসেন রনি, মুক্তিযোদ্ধার সোহেল রানা, মোহামেডানের শাহেদ, বসুন্ধরা কিংসের তৌহিদুল আলম সবুজ, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ইয়াছিন আরাফাত। আত্মঘাতী হওয়া দুটি গোলের একটি করেছেন স্থানীয় ফুটবলার বসুন্ধরা কিংসের নুরুল নাইম ফয়সাল পুলিশ ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে ম্যাচে।

১৭ ম্যাচ শেষে গোলদাতাদের শীর্ষে আছেন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এলেটা কিংস। ৪ গোল করেছেন তিনি। ৩ গোল নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের রুয়ান্ডার মিডফিল্ডার এমরি।

আরআই/এমএমআর/পিআর