ইস্টবেঙ্গলের আচরণে আনন্দবাজারে ক্ষোভ আসলামের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ০৩ আগস্ট ২০২০

১ আগস্ট ২০২০ দিনটি ঐতিহাসিক ছিল ভারতের কলকাতার ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের। ওই দিন দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি পা রাখে শতবর্ষে। বিশেষ এ দিনটিতে ক্লাবটি আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তাদের স্থানীয় ও বিদেশি অনেক তারকা ফুটবলারকে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ক্লাবটি উপেক্ষা করেছে বাংলাদেশের ফুটবলারদের, যারা এক সময় তাদের হয়ে খেলেছেন। শিরোপা জিততেও বড় ভূমিকা রেখেছেন।

১৯৯১ সালে ক্লাবটির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে বিশাল অবদান ছিল বাংলাদেশের চার ফুটবলার-শেখ মোহাম্মদ আসলাম, মোনেম মুন্না, রুমী রিজভি করিম ও গোলাম গাউসের। অথচ ক্লাবটির ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তারা ভুলে গেছেন বাংলাদেশের ফুটবলারদের কথা।

এ নিয়ে কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম। আসলামের ক্ষোভ নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা ‘ক্লাবের হয়ে রক্ত ঝরিয়েছি, ইস্টবেঙ্গল মনেই রাখেনি’, ‘আক্ষেপ সেই বাংলাদেশি গোলমেশিনের’-শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আসলাম আনন্দবাজারকে বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল শতবর্ষে পা রাখলো। তার জন্য ক্লাবকে শুভেচ্ছা জানাই। ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠাদের প্রতি আমার দারুণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু একটা ব্যাপার খুব খারাপ লাগে। সেই যে ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে চলে এসেছি, তার পর থেকে ক্লাবের সঙ্গে আর সেভাবে কোনো যোগাযোগই নেই। এসব অনুষ্ঠানে একটা ফোন-ও তো করা যেতে পারে। ক্লাব ছাড়ার পরে কোনও অনুষ্ঠানেই ওরা আর ডাকে না। অথচ এই ক্লাবের হয়েই তো ঘাম-রক্ত ঝরিয়েছি। আমি তো আশা করতেই পারি যে, আমার ভালবাসার ক্লাবের থেকে ডাক পাব।’

ইস্টবেঙ্গলে খেলার সময়ে জর্জ টেলিগ্রাফের বিরুদ্ধে ম্যাচে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন আসলাম। সেই ম্যাচে ফ্লাইং হেডে গোল করেছিলেন তিনি। জর্জের গোলকিপার তাঁর থুতনিতে হাঁটু দিয়ে মেরে বসেন। সঙ্গে সঙ্গে সংজ্ঞা হারান। মাঠ থেকেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

সেই সময়ে ‘গোলমেশিন’ বলে পরিচিত আসলাম বলেন, ‘জর্জ টেলিগ্রাফের বিরুদ্ধে গোল করে ফেলার পরে ওদের গোলকিপার আমাকে এমন মারল যে, আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। রক্তারক্তি কান্ড। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব স্মৃতি হাতরালে খুব খারাপ লাগে জানেন। যে ক্লাবের জন্য জীবন সংশয় হতে পারত, সেই ক্লাবের কাছ থেকেই আর কোনো ডাক পাই না। পরিবারের কাছ থেকেও গঞ্জনা শুনতে হয়। অনেকেই বলেন, তোমরা যে ক্লাবের হয়ে খেললে. সেই ক্লাব থেকে ডাক পাও না কেন? উত্তর দিতে পারি না।’

স্মৃতিচারণ করে আসলাম বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স কাপ (১৯৮৯) খেলতে সেই সময়ে বাংলাদেশে এসেছিল ইস্টবেঙ্গল। আমি তখন আবাহনীর হয়ে খেলছি। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ফাইনালে আমার দেয়া একমাত্র গোলেই চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী। তার পরেই ইস্টবেঙ্গল কর্তা পল্টু দাস আমাকে ডেকে পাঠান হোটেলে। রাতে হোটেলে গিয়ে দেখি পল্টু দাসের স্ত্রী কাঁদছেন। পল্টু দাস আমাকে বলে উঠলেন- তুমি না এলে তো তোমার বৌদিকে থামাতে পারছি না। তিনি আমাকে বললেন-আসলাম, তোমাকে খেলতে হবে ইস্টবেঙ্গলে। আমার ক্লাব আবাহনীও সেই সময়ে বাধা দেয়নি। আমি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দিল্লিতে ডুরান্ড কাপ খেলতে যাই। তার পরে মুন্না, রুমিও ইস্টবেঙ্গলে সই করে।’

আরআই/এমএমআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]