বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে কাজী সালাউদ্দিনের ৩৬ প্রতিশ্রুতি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

এক যুগ দায়িত্বে থাকার পর আরেকবার বাফুফে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন কাজী মো. সালাউদ্দিন। তার নেতৃত্বে সম্মিলিত পরিষদ ২১ জনের পূর্ণ প্যানেল দিয়ে নেমেছে নির্বাচনের মাঠে। ৩ অক্টোবর নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববার প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্যানেল পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণা করেছে সম্মিলিত পরিষদ। গত ১২ বছরে যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি সেই কাজগুলোর সঙ্গে নতুন কিছু যোগ করে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন কাজী মো. সালাউদ্দিন।

চতুর্থবার সভাপতি হতে কি প্রতিশ্রুতি দেবেন সম্মিলিত পরিষদের নেতা সালাউদ্দিন? ইশতেহার ঘোষণার মধ্যে দিয়ে ফুটবলামোদীরে সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। ইশতেহার ঘোষণার পর গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন টানা তিনবারের সভাপতি। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে যাওয়া, প্রিমিয়ার লিগের কাঠামো ঠিক না হওয়া, মাঠে দর্শক কমে যাওয়া নানা প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন তিনি।

চার বছর আগে নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন? এমন প্রশ্ন ছিল কাজী মো. সালাউদ্দিনের কাছে। তিনি বলেছেন, ৭৫ ভাগই সম্পন্ন করতে পেরেছেন। তবে চার বছর আগের নির্বাচনের সময় ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অভিযোগও করেছেন কাজী মো. সালাউদ্দিন। বলেছেন, ‘ওই ইশতেহার আমার ঘোষণা ছিল না। ওই সময়ের নির্বাচনের চীফ কো-অর্ডিনেটর তরফদার মো. রুহুল আমিন ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন।’

তো এবার কি কি প্রতিশ্রুতি দিলেন সম্মিলিত পরিষদের নেতা কাজী মো. সালাউদ্দিন? নতুনই বা কি আছে? আগের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যে প্রতিশ্রুতিগুলো আছে তার মধ্যে নতুন এবং ব্যতিক্রমী হলো অনূর্ধ্ব-১০ জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ। যা আয়োজন হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে মরহুম শেখ রাসেলের নামে। শেখ কামালের নামে হবে অনূর্ধ্ব-১৮ বা অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় যুব চ্যাম্পিয়নশিপ। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক যে টুর্নামেন্টগুলো হয়ে আসছে সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে।

ইশতেহার ঘোষণার প্রক্রিয়াও ছিল ব্যতিক্রমী। ৩৬ প্রতিশ্রুতির এই ইশতেহার একজন পড়ে শোনাননি। আলাদাভাবে কয়েকজনে পড়ে শুনিয়েছেন। যেমন জাতীয় দল নিয়ে প্রতিশ্রুতিগুলো পড়ে শুনিয়েছেন দীর্ঘদিন ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা কাজী নাবিল আহমেদ, ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে প্রতিশ্রুতির কথা পাঠ করেছেন বর্ষিয়ান সংগঠক হারুনুর রশিদ, মহিলা ফুটবল নিয়ে প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছেন মাহফুজা আক্তার কিরণ, উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ফুটবলে নতুন মুখ সম্মিলিত পরিষদের সহসভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান খান মানিক, টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে বলেছেন সহসভাপতি প্রার্থী আমিরুল ইসলাম বাবু ও আরেক সহসভাপতি ইমরুল হাসান।

ফিফা র‌্যাংকিয়ে বাংলাদেশকে ৩০ থেকে ৪০ ধাপ ওপরে তোলার চেষ্টা করার কথা বলা হয়েছে। মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশকে ৯০ এর কাছাকাছি তোলার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে। ঘরোয়া ফুটবলকে নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে আনা, ক্যালেন্ডার মেইনটেইন করা, প্রতিটি লিগের মধ্যে সমন্বয় তৈরির কথাও বলা হয়েছে। অন্তত চারটি আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়াম বৃদ্ধি করা, বাফুফে ভবনে অত্যাধুনিক জিম তৈরি করা, নারী ফুটবলারদের আবাসিক ব্যবস্থা আরো উন্নত করা এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু আরো উন্নত করাসহ ৩৬ টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাজী মো.সালাউদ্দিনের সম্মিলিত পরিষদ।

আরআই/আইএইচএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]