সভাপতি পদটি উম্মুক্তই রাখলো আসলামের সমন্বয় পরিষদ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ০১ অক্টোবর ২০২০

২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে সভাপতি পদে কাজী মো. সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ও শক্তিশালী প্রার্থী খুঁজেও ব্যর্থ হয়ে আসছিলেন তার বিরোধীরা। প্রথম ও তৃতীয় মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও দ্বিতীয় মেয়াদে তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই পাস করেছেন কাজী মো. সালাউদ্দিন। এই প্রথম তার বিরুদ্ধে দুজন প্রার্থী এবং দুজনই সাবেক তারকা ফুটবলার।

বাদল রায় ও শফিকুল ইসলাম মানিক সভাপতি প্রার্থী হলেও তাদের কাউকেই প্যানেলভুক্ত করেনি কাজী মো. সালাউদ্দিনকে সরানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালানো তার প্রতিপক্ষরা। শীর্ষ পদটি শেষ পর্যন্ত উম্মুক্ত রেখেই বৃহস্পতিবার প্যানেল ঘোষণা করে শেখ মোহাম্মদ আসলামের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদ।

আগে যাদের সভাপতি প্রার্থী দিয়ে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন তাদের চেয়ে যোগ্য দুই প্রার্থী এবার কাজী মো. সালাউদ্দিনের বিপক্ষে দাঁড়ালেও শীর্ষ পদটিতে কাউকে বেছে নেয়নি সমন্বয় পরিষদ।

প্যানেল পরিচিতি ও ইশতেহার ঘোষণার পর সমন্বয় পরিষদের নেতাদের বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় সভাপতি পদটি নিয়েই। প্যানেল ঘোষণার সময় সেখানে উপস্থিতও ছিলেন একজন সভাপতি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মানিক। কিন্তু পরিষদের কর্মকর্তারা পরিষ্কার করেই জানিয়ে দিয়েছেন তাদের প্যানেলে কোনো সভাপতি প্রার্থী থাকছে না। শীর্ষ পদটি তারা উম্মুক্ত রেখেছেন, কাউন্সিলরা সভাপতি পদে যাকে খুশি ভোট দেবেন।

বাফুফের নির্বাহী কমিটি ২১ সদস্যের। কাজী মো. সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ সব পদেই প্রার্থী দিয়েছে। সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আসলামের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় পরিষদ প্রার্থী দিয়েছে ১৯ জন। সভাপতি এবং একজন সহ-সভাপতি প্রার্থী নেই তাদের। পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ লড়াই শেষে তাদের সভাপতি পদ উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি খটকা লেগেছে অনেকের কাছে। যেখানে বাদল রায় ও শফিকুল ইসলাম মানিকের মতো দুজন তারকা ফুটবলার আছেন সভাপতি পদে।

সভাপতি ছাড়া এই প্যানেল পাস করলে কাজে কোনো সমস্যা হবে না উল্লেখ করে সহ-সভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ মহি বলেন, ‘যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাই তাহলে আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব সেটাই তো হবে। তখন সভাপতি আমাদের কাজে তেমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবেন না। সভাপতি তো এককভাবে কিছু করতে পারবেন না।’

প্যানেলের প্রধান সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আসলাম বলেন, ‘এ প্যানেলে জেলা ও বিভাগের মানুষ রয়েছেন। তারা পরীক্ষিত সৈনিক। আমি তাদের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি আশা করি, কাউন্সিলররা পরীক্ষিত সৈনিকদেরই বেছেন নেবেন।’

সমন্বয় পরিষদের প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু এবং ইশতেহার পাঠ করেন সহ-সভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দন আহমেদ মহি।

সমন্বয় পরিষদ
সিনিয়র সহ-সভাপতি : শেখ মোহাম্মদ আসলাম।

সহ-সভাপতি: মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান ও এসএম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ।

সদস্য : আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, মোহাম্মদ সাব্বির হোসেন, মহিদুর রহমান মিরাজ, মনজুরুল আহসান, আ ন ম আমিনুল হক মামুন, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, আমের খান, হাজি মো. টিপু সুলতান, আরিফ হোসেন মুন, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, সৈয়দ মুস্তাক আলী মুকুল, মিজানুর রহমান, ফজলুর রহমান বাবুল, হাসানুজ্জামান খান বাবলু ও শাকিল মাহমুদ চৌধুরী।

আরআই/আইএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]