মৌসুমের প্রথম পরাজয়ে টেবিলের ৯ নম্বরে মেসির বার্সেলোনা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৭ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে বার্সেলোনা। এটি আবার এবার লিগে বার্সার প্রথম হার। প্রতিপক্ষ গেটাফের মাঠে ১-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেসি বাহিনী। পেনাল্টি থেকে গেটাফের স্ট্রাইকার জেমি মাতার করা একমাত্র গোলেই পরাজয় বরণ করতে হয় কোম্যানের শিষ্যদের।

এর আগে এ মৌসুমে লা লিগায় ৩ ম্যাচ খেলে একটিতেও হারেনি কাতালান দলটি। যদিও আন্তর্জাতিক ব্রেকের আগের ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে লিগে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারিয়েছিল বার্সা।

এই ম্যাচে বার্সার সুযোগ ছিল লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে ওঠার। কেননা টেবিলের শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ একইদিন নবাগত কাদিজের বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। আপাতত টেবিল টপার হওয়ার সুযোগটি হাতছাড়া করল বার্সেলোনা। ৫ ম্যাচে ৩ জয়, এক ড্র ও এক পরাজয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে টেবিলের শীর্ষে আছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল। ৪ ম্যাচে ২ জয়, এক ড্র ও এক পরাজয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে অবস্থান করছে লিওনেল মেসির দল বার্সেলোনা। বার্সা ও রিয়ালের পরাজয়ের স্বাদ দেয়া গেটাফে ও কাদিজ রয়েছে যথাক্রমে টেবিলের দুই ও তিন নম্বরে।

গেটাফের বিরুদ্ধে দলে বেশকিছু পরিবর্তন আনেন বার্সা বস রোনাল্ড কোম্যান। নিজের পছন্দের ফরমেশন ৪-২-৩-১ রেখে বার্সেলোনার প্রথাগত ৪-৩-৩-এ মাঠে মেসিদের নামান তিনি। এছাড়া লিগে আগের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা ফিলিপ কুটিনহো ও আনসু ফাতিকে রাখা হয়নি শুরুর একাদশে। তাদের পরিবর্তে মাঠে নামেন ওসমান ডেম্বেলে ও নতুন সাইনিং পেদ্রি। ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকা লেফট ব্যাক জর্ডি আলবার জায়গায় নামানো হয় আরেক নতুন সাইনিং সার্জিনিও ডেস্টকে।

মৌসুমের প্রথম পরাজয়ে টেবিলের ৯ নম্বরে মেসির বার্সেলোনা

ম্যাডম্যাডে এ ম্যাচের ২০ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা। মেসির শর্টটি গেটাফের গোলকিপারকে ফাঁকি দিলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোলপোস্ট। তবে বার্সার হয়ে ম্যাচের সেরা সুযোগটি মিস করেছেন আন্তোনিও গ্রিজম্যান। ৩০ মিনিটে ডাচ তারকা ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের বাড়ানো বলটি ডি বক্সে গেটাফে গোলকিপার ডেভিড সোরিয়াকে একা পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি ফ্রান্সের এ ফুটবলার। মারেন বারের উপর দিয়ে। ৩৪ মিনিটে মেসির ফ্রি কিকটিতে পা ছোঁয়াতে পারেননি লংলেট। এতে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। প্রথমার্ধে গেটাফেও বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে। তবে তা বার্সা ডিফেন্ডাররা-গোলকিপার মিলে সহজেই সামলেছেন।

দ্বিতীয়ার্ধের ৯ মিনিটের মাথায় গেটাফের ডিফেন্ডার জেনেকে নিজেদের ডি বক্সে ফাউল করে বসেন ডি ইয়ং। এতেই রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। জেমি মাতার নেয়া স্পট কিক থেকে নিজেদের মাঠে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ৭৭ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় আনসু ফাতির শটটি ঠেকিয়ে দেন গেটাফে গোলকিপার।

মৌসুমের প্রথম পরাজয়ে টেবিলের ৯ নম্বরে মেসির বার্সেলোনা

৮৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়াতে পারত স্বাগতিকরা। তবে গেটাফে স্ট্রাইকার হুয়ান হার্নান্দেজের নেয়া শর্টটি ফিঙ্গার টিপসে বারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে দলকে রক্ষা করেন বার্সা গোলকিপার। ৮৭ মিনিটে নেতোকে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হার্নান্দেজ। এবার বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন। তবে অতিরিক্ত মিনিটে মেসির শর্টটি গোলপোস্ট ঘেঁষে চলে যায়। শেষ বাঁশি বাজানোর মিনিট খানেক আগে সার্জিনো ডেস্টের বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই প্রায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন গেটাফের ডিফেন্ডার। ফিরে আসে বারে লেগে। অল্পের জন্য বেঁচে যায় স্বাগতিকরা।

ম্যাচে বার্সেলোনা ৭৩ শতাংশ বল দখলে রাখলেও অনেক খেলোয়াড়দের মাঝে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে আসার ক্লান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ২৭ শতাংশ বল দখলে রেখেও বার্সার চেয়ে বেশি শর্ট নিয়েছে গেটাফে। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা গোলের উদ্দেশে শর্ট নিয়েছে ৭টি বিপরীতে গেটাফে নিয়েছে ৯টি। গোলমুখে অতিথিদের শর্ট একটি, স্বাগতিকদের ৪টি।

বার্সেলোনার তিনজন খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেছে। তারা হলেন- জেরার্ড পিকে, সার্জিও রবার্তো ও সার্জিনো ডেস্ট। বিপরীতে গেটাফের চারজন খেলোয়াড় রেফারির হলুদ কার্ডের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

এফআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]