১৯ বছরের লাসিনার একাই পাঁচ, আয়াক্স জিতল ১৩ গোলে

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৪ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

নিজেদের ঘরোয়া লিগে ইতিহাস গড়ল নেদারল্যান্ডসের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব আয়াক্স আমস্টারডাম। বুরকিনা ফাসোর ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লাসিনা ট্রাওরের একার ৫ গোলে ভিভিভি ভেনলোর বিপক্ষে ১৩-০ গোলে জিতেছে আয়াক্স। বলার অপেক্ষা রাখে না, ডাচ লিগের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।

ইউরোপিয়ান ফুটবল যখন বুদ ছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যকার এল ক্ল্যাসিকো ম্যাচকে ঘিরে, তখন নেদারল্যান্ডসে ভিভিভির বিপক্ষে তাদেরই মাঠে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে আয়াক্স। ম্যাচের ১২ মিনিটে শুরু আর ৮৭ মিনিটে শেষ- মাঝের এই ৭৫ মিনিটেই প্রতিপক্ষকে ১৩ বার সেন্টার করিয়েছে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী ক্লাবটি।

বিশাল এ জয়ের মাধ্যমে অবশ্য নিজেদের রেকর্ডই ভেঙেছে আয়াক্স। প্রায় পাঁচ দশক আগে ১৯৭২ সালে ভিত্তেসের বিপক্ষে ১২-১ গোলে জিতেছিল তারা। এতদিন ধরে সেটিই ছিল ডাচ লিগে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। প্রায় ৪৮ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে এবার ১৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আয়াক্স।

শনিবার রাতের ম্যাচটিতে আয়াক্সের হয়ে গোল করেছেন মোট ৭ জন খেলোয়াড়। এর মধ্যে একাই ৫ বার জাল খুঁজে নিয়েছেন লাসিনা, সঙ্গে আবার ৩টি এসিস্টও করেছেন। জোড়া গোলের দেখা পেয়েছেন জার্গেন একেলেনক্যাম্প ও ক্লাস ইয়ান হান্টেলার। এছাড়া একবার করে স্কোরশিটে নাম তুলেছেন ডুসান টাডিচ, অ্যান্টনি, ড্যালে ব্লাইন্ড ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।

ম্যাচের ১২ মিনিটের সময় গোল উৎসবের শুরুটা করেন মিডফিল্ডার একেলেনক্যাম্প। তার এই গোলে এসিস্ট ছিলো লাসিনা। এর পাঁচ মিনিট পর অ্যান্টনির এসিস্টে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাসিনা। অ্যান্টনির এই এসিস্টের 'ঋণ' দ্বিতীয়ার্ধে শোধ করেন লাসিনা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটের সময় গোল করেন অ্যান্টনি, যার এসিস্ট ছিল লাসিনার।

Ajax1

পুরো ম্যাচে মোট ৪৫টি আক্রমণ করেছে আয়াক্স, যার মধ্যে ২৩টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। সেখান থেকে ১৩টি গোল পেলেও, বাকি ১০টি কোনো না কোনোভাবে ফিরিয়ে দেয় ভিভিভি। ম্যাচের ৩২ মিনিটের নিজের দ্বিতীয় ও ম্যাচের তৃতীয় গোল করেন লাসিনা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মিনিটখানেক আগে হালি পূরণ ডুসান টাডিচ।

প্রথমার্ধে এই চার গোলই দিতে পেরেছিল আয়াক্স। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের কাজ সহজ করে দেন ভিভিভি ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান কুম। ম্যাচের ৫১ মিনিটের সময় লাল কার্ড দেখেন কুম, ফলে বাকি ৪০ মিনিট দশজনের দল নিয়েই খেলতে হয় স্বাগতিকদের। এই সুযোগে আরও নয়বার জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আয়াক্সের খেলোয়াড়রা।

পুরো দল নিয়েই আয়াক্সের আক্রমণ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল ভিভিভি, একজন কমে যাওয়ায় রীতিমতো অন্ধকারে ডুবে যায় তারা। ম্যাচের ৫৪ থেকে ৫৯- এই কয় মিনিটেই আরও চারটি গোল করে আয়াক্স। প্রথমে ৫৪ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লাসিনা, পরের মিনিটে অ্যান্টনিওকে দিয়ে করান ষষ্ঠ গোল।

দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এ উৎসবের সূচনা করা একেলেনক্যাম্প। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগলেও, শেষপর্যন্ত তা করতে পারেননি তিনি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে দুই হালি পূরণ করা গোলটি করেন ড্যালে ব্লাইন্ড। এখানেই শেষ হয়নি আয়াক্সের তাণ্ডব, ৬৫ মিনিটের সময় ডাবল হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লাসিনা।

এরপর প্রায় দশ মিনিট কোনো গোল হয়নি। ঝটিকা আক্রমণে ৭৪ ও ৭৬ মিনিটে জোড়া গোল করে ফেলেন ক্লাস ইয়ান হান্টেলার। যার প্রথমটি ছিল পেনাল্টি থেকে। হান্টেলারের জোড়া গোলের দুই মিনিট পর স্কোরশিটে নাম তোলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, ভিভিভির জালে পূরণ হয় এক হালি গোল।

এখানেই শেষ হতে পারতো আয়াক্সের গোলের লীলাখেলা। কিন্তু তা মঞ্জুর ছিল না ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার লাসিনা ট্রাওরের। তাই তো ম্যাচের ৮৭ মিনিটের নিজের পঞ্চম ও দলের ১৩তম গোলের মাধ্যমে ভিভিভির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বুরকিনা ফাসোর এ তরুণ তারকা।

এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]