মৃত্যুই মোহামেডান থেকে বিচ্ছিন্ন করল বাদল রায়কে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০২০

লাশবাহী গাড়িটি যখন ধীরে ধীরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর পৌনে ১২টা। ওই গাড়িতে করেই চিরদিনের জন্য মোহামেডান ছাড়লেন দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার বাদল রায়। জীবদ্দশায় যে বাদল রায়কে কেউ মোহামেডান থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেননি শেষ পর্যন্ত সেটা পারলো মৃত্যু।

ক্যান্সার আক্রান্ত বাদল রায় রোববার বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে। বেলা ১১টার দিকে বাদল রায়ের মরদেহ আনা হয়েছিল তার প্রিয় ক্লাব মোহামেডানে। পৌনে এক ঘণ্টার মতো সেখানে ছিল বাদল রায়ের নিথর দেহ। ফুটবলাঙ্গনের শত শত মানুষ, শত শত মোহামেডান সমর্থক এবং ভক্তরা মোহামেডান ক্লাবে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান বাদল রায়কে।

jagonews24

‘সৃষ্টিকর্তা ভালো মানুষদের আগে নিয়ে যান। আমার বাবা ভালো মানুষ ছিলেন বলেই তাকে আগে নিয়ে গেলেন। আমার বাবা ফুটবলকে অনেক ভালোবাসতেন। তিনি চলে গেলেন। আমি চাই ফুটবল ভালো থাকুক, ফুটবল এগিয়ে যাক। বাবা নেই, এখানে যারা আছেন তারা আমাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকবেন। ফুটবল ভালো থাকলে ফুটবলের মাঝেই বেঁচে থাকবেন আমার বাবা’- বাদল রায়ের মরহেদের পাশে দাঁড়িয়ে তার কন্যা বৃষ্টি রায়ের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ার সময় আবেগ ছড়িয়ে যায় মোহামেডান ক্লাবে উপস্থিত সবার মধ্যে।

তখন বাদল রায়ের মরদেহের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছিলেন তার স্ত্রী মাধুরী রায় ও ছেলে বর্ণ রায়। প্রতিক্রিয়া জানানোর অনুরোধ করলেও কিছু বলতে পারেননি বাদল রায়ের স্ত্রী মাধুরী রায়।

jagonews24

১৯৭৭ সালে মোহামেডানের হয়ে ঢাকার ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল বাদল রায়ের। ক্লাব পর্যায়ে এক যুগের মতো খেলেছেন এবং পুরো সময়ই মোহামেডানে। বাংলাদেশের অন্যতম তারকা ফুটবলার বাদল রায়, যিনি ঢাকার ফুটবলে একটি ক্লাবেই খেলেছেন। যে কারণে মোহামেডানের বাদল হিসেবেই বেশি সুখ্যাতি ছিল তার।

সাবেক তারকা ফুটবলার জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শঙ্কর হাজরা থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের ফুটবলাররা মোহামেডান ক্লাবে ছুটে গিয়েছিলেন শেষবারের মতো বাদল রায়কে দেখতে। ক্লাবের বর্তমান ফুটবলারা বিদেশি কোচের নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাদল রায়কে।

jagonews24

কারো চোখে পানি, কারো মুখে বাদল রায়ের সোনালি সময়ের গল্প। হাজারো স্মৃতিকথায় ফিরে এসেছিল আশির দশকের মাঠ মাতানো ফুটবলার বাদল রায়। তিনি চলে গেছেন। ফুটবলে তার অবদান সবার মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে চিরদিন।

আরআই/আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]