কাতারের বিপক্ষে আমার গোলে লিড নিয়েছিলাম : কাজী সালাউদ্দিন

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:১২ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

স্বাধীনতার ৪৯ বছরে কাতারের বিপক্ষে মাত্র ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। চারটি এশিয়ান কাপ ও একটি বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচে। একটি ড্র করে চারটি ম্যাচ হেরেছে লাল-সবুজের দল। তবে দুই দেশের প্রথম সাক্ষাতটি মধুরই ছিল বাংলাদেশের। ১৯৮০ সালের এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ম্যাচটি এগিয়ে গিয়ে ড্র করেছিল বাংলাদেশ।

ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৭৯ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কাতারের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটিতে বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছিল কাজী মো. সালাউদ্দিনের গোলে।

দীর্ঘ ৪১ বছর আগের সেই স্মৃতি রোমান্থন করে কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমার গোলে কাতারের বিপক্ষে লিড নিয়েছিলাম। পরের ওরা গোল করে সমতা ফেরায়। ওই ড্র এবং পরে আফগানিস্তানকে হারানোয় আমরা এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করেছিলাম।’

কাতারের বিপক্ষে ৫ ম্যাচে বাংলাদেশ গোল করেছে মাত্র দুটি। দ্বিতীয় গোলটি আরমানের। করেছেন ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে। পরের তিন ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি।

১৯৭৯ সালে কাতারের বিপক্ষে গোলটি কোন অর্ধে করেছিলেন, তা স্মরণে আনতে পারেননি কাজী সালাউদ্দিন। গোলটি কিভাবে করেছিলেন সেটা অবশ্য এখনো মনে আছে তার, ‘৪০-৪১ বছর আগের কথা। তাই মনে নেই গোলটি কত মিনিটে করেছিলাম। তবে গোলটি কিভাবে করেছিলাম তা মনে আছে। বক্সের মাথায় আমার থেকে একটু দূরে বলটি পড়েছিল। আমি দৌঁড়ে গিয়ে হাফভলিতে গোল করেছিলাম। কিন্তু গোলটি ধরে রাখতে পারিনি পরে।’

ম্যাচ জিততে না পারলেও ওই এক পয়েন্ট বাংলাদেশকে তুলে দিয়েছিল এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে। ২ নম্বর গ্রুপ থেকে কাতার ও বাংলাদেশ উঠেছিল ১৯৮০ সালে কুয়েতে অনুুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে। চূড়ান্ত পর্বেও গোল করেছিলেন কাজী সালাউদ্দিন।

‘কুয়েতে আমাদের প্রথম ম্যাচ ছিল উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে। ২-০ তে পিছিয়ে পড়ার পর আমরা ২ গোল করে ম্যাচে ফিরেছিলাম। আমি একটি গোল করেছিলাম। শেষের দিকে গোল খেয়ে ম্যাচটি হেরেছিলাম ৩-২ ব্যবধানে’-বলছিলেন বাংলাদেশ ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার।

এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ছাড়াও ছিল ইরান, সিরিয়া ও চীন। বাংলাদেশ চারটি ম্যাচই হেরেছিল। সবচেয়ে বড় হার ছিল ইরানের বিপক্ষে ৭-০ গোলে।

কাতারের বিপক্ষে আরেকটি স্মরণীয় জয় আছে বাংলাদেশের। গত এশিয়ান গেমসে কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয়পর্বে উঠেছিল বাংলাদেশ। গোল করেছিলেন জামাল ভূঁইয়া। তবে এটি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিধায় ফিফা স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০ দোহায় কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দেশের ষষ্ঠ মোকাবিলায় নিরঙ্কুশ ফেভারিট ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার।

এই ম্যাচ দেখতে এবং জামাল ভূঁইয়াদের অনুপ্রেরণা দিতে এখন দোহায় থাকার কথা ছিল বাফুফে সভাপতি ও কাতারের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম গোলদাতা কাজী সালাউদ্দিনের। কিন্তু করোনাক্রান্ত থাকায় সফর বাতিল করতে হয় তাকে।

তিনি এখন করোনামুক্ত। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ পেয়েছেন। কাজী সালাউদ্দিন করোনামুক্ত হয়ে বলেছেন, ‘আমার বড়সড় উপসর্গ ছিল না। তারপরও পরীক্ষায় যেহেতু পজিটিভ এসেছিল, তাই ডাক্তারের নির্দেশনামতো বাসায় আইসোলেশনে ছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাসেজ পেয়েছি করোনা নেগেটিভ হওয়ার। আমি তো টিকিট কেটে রেখেছিলাম কাতার যাওয়ার জন্য। যাওয়া হলো না। গেলে খেলোয়াড়রা অনুপ্রেরণা পেত।’

এটি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুই দেশের ফিরতি ম্যাচ। গত বছর ১০ অক্টোবর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল কাতার। ম্যাচটি হারলেও জেমি ডে’র শিষ্যরা মন ভরিয়েছিল দর্শকদের।

এক নজরে বাংলাদেশ-কাতার ম্যাচ
১০ জানুয়ারি ১৯৭৯ : ১-১ (এশিয়ান কাপ বাছাই, ঢাকা)
১৪ জানুয়ারি ১৯৭৯ : ০-৪ (এশিয়ান কাপ বাছাই, ঢাকা)
১৬ আগস্ট ২০০৬ : ১-৪ (এশিয়ান কাপ বাছাই, চট্টগ্রাম)
৬ সেপ্টেম্বর ২০০৬ : ০-৩ (এশিয়ান কাপ বাছাই, দোহা)
১০ অক্টোবর ২০১৯ : ০-২ (বিশ্বকাপ বাছাই, ঢাকা)

আরআই/এমএমআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]