নারী ফুটবলারদের খাবারে তেল-ঝাল-মসলা : রেগে আগুন কাজী সালাউদ্দিন

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২১

ফুটবল ফেডারেশন ভবনে কাজ করছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন। দুপুরের খাবারের সময় হলে তিনি মেয়েদের ক্যাম্পে যা রান্না হয়েছে তাই নিয়ে আসতে বললেন কর্মচারীদের।

বাফুফে ভবনের চতুর্থ তলায় নারী ফুটবলারদের ক্যাম্প। সেখানে রান্না করা খাবার এনে সভাপতিকে দিয়েছিলেন কর্মচারীরা। খাবার মুখে দিয়েই অগ্নিমূর্তি কাজী মো. সালাউদ্দিনের। এ কি খাওয়ানো হচ্ছে মেয়েদের?

ঘটনা বুধবার দুপুরের। নারী ফুটবলারদের খাদ্যতালিকায় ছিল মাছ, মুরগি, শাক। মেন্যু নিয়ে প্রশ্ন নেই- বাফুফে সভাপতির রেগে যাওয়ার কারণ ছিল রান্নার প্রক্রিয়ায়। যেভাবে তেল-মসলা আর ঝালে ভরা ছিল খাবার- তা মোটেও যায় না ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে। অথচ বাফুফের নির্দেশনাই আছে, কম তেল-মসলা আর ঝালের খাবার মেয়েদের না খাওয়ানোর।

কেন এমন হচ্ছে? তখনই ওপর থেকে ডেকে আনা হয় নারী ফুটবল ক্যাম্পের কোচিং স্টাফ ও বাবুর্চিকে। কাজী মো. সালাউদ্দিন কোচিং স্টাফ ও বাবুর্চিকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন, যাতে এখন থেকে বাফুফের নির্দেশনা মতো খেলোয়াড়দের উপযোগী খাবার রান্না করা হয়।

এভাবে রান্না না করলে খেতে চায় না মেয়েরা- একজন কোচ এমন ব্যাখ্যা দিলে আরও ক্ষেপে যান কাজী মো. সালাউদ্দিন। বলেন, ‘এসব আমাকে বোঝাতে এসো না। একবেলা খাবে না, দুইবেলা খাবে না। তৃতীয়বেলায় ঠিকই খাবে। ক্ষুধা লাগলে সিদ্ধ খাবারও খাবে।’

খাবারে তেল, ঝাল, মসলা দেয়া যাবে না। এমনকি রান্নায় সয়াবিন তেল ব্যবহারও নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। বলেছেন, এখন থেকে রান্না হবে অলিভ ওয়েল দিয়ে। এর ব্যতিক্রম হতে পারবে না।

নারী ফুটবলারদের উন্নত খাবার নিশ্চিত করতে বাফুফে প্রতিদিন সবকিছু কিনে আনে উন্নতমানের সুপারশপ থেকে। বর্তমানে ৩৮ জনের মতো মেয়ে আছে ক্যাম্পে। মেয়েদের খাবারের পেছনে ব্যয় মাসে ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার মতো। তারপরও খেলোয়াড়দের সঙ্গে যায় না সেই মানের খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। নিজে খেয়ে বাফুফে সভাপতি ধরতে পারলেন ক্যাম্পে কি খাওয়ানো হচ্ছে মেয়েদের!

আরআই/আইএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]