ধর্মসাগরপাড়ে ফুটবল উৎসব

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা কুমিল্লা থেকে
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২১

কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ধর্মসাগর নামে যে প্রাচীন দীঘি, তার পূর্বপাড়ে জেলা স্কুলের দেয়াল ঘেঁষে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে জেলার ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম। এক সময়ের কুমিল্লা জেলা স্টেডিয়াম নাম বদলে এখন হয়েছে ‘ভাষা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম।’

গত মৌসুমে এ স্টেডিয়ামের অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু হিসেবে। দেশের ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড এ ভেন্যুতে ঘাঁটি গেড়েছিল। এবার সাদাকালোদের ভেন্যু ভাগাভাগি দেশের ফুটবলের নতুন পরাশক্তি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে।

স্টেডিয়ামে ঢুকলেই দুই ক্লাবের ভাগাভাগির দৃশ্যটা স্পষ্ট। পশ্চিম গ্যালারি মোহামেডানের সাদা আর কালোয় রং করা। পূর্ব গ্যালারিতে বসুন্ধরার লালে মাখামাখি। উত্তর পাশের গোলপোস্টের পেছনে দুই গ্যালারির প্রান্তে বড় করে লেখা ‘মোহামেডান’ ও ‘বসুন্ধরা কিংস’-এর নাম। এবারের প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচ এখানে হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার। স্বাগতিক মোহামেডান ও সাইফের পর দ্বিতীয় ম্যাচ বসুন্ধরা কিংস ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের।

গত প্রিমিয়ার লিগে বসুন্ধরা কিংসের হোমভেন্যু ছিল নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়াম। করোনাভাইরাসের কারণে অতিদূরত্বের ওই ভেন্যু এবার বাদ। তাই মোহামেডান-বসুন্ধরার একসঙ্গে কুমিল্লায় বসবাস।

দুই ম্যাচ ঢাকায় খেলে অবশেষে নতুন হোমভেন্যুতে অভিষেক হলো কিংসের। প্রথম ম্যাচ বলে চ্যাম্পিয়নদের প্রস্তুতিও ছিল বেশ। নিজেদের গ্যালারির প্রায় পুরোটাই ভরে দিয়েছিল লালজার্সিপড়া সমর্থকরা। যদিও মাঠে কিংসের খেলোয়াড়দের গায়ে ছিল কালো-সাদা।

নতুন হোমভেন্যুতে প্রথম ম্যাচ। যে কারণে কিছু আনুষ্ঠানিকতাও ছিল কিংসের। বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন হেলিকপ্টার করে কুমিল্লা এসে ম্যাচের আগে পরিচিত হযেছেন দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে। তার সাথে ছিলেন বাফুফের সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক, সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ, ইলিয়াছ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ।

সুন্দর স্টেডিয়াম। ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬৮ মিটার প্রস্থ আয়তনের মাঠও বেশ ভালো। সবুজ ঘাসে মোড়া। পরিবেশটাও মনোরম। তবে এটা ক্রিকেটের আদর্শ স্টেডিয়াম। তৈরি হয়েছে সেভাবে। প্যাভেলিয়ন গোলপোস্টের পেছনে স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশে। সেখানে অবস্থিত প্রেসবক্স থেকে ফুটবল ম্যাচ কাভার করা দুষ্কর। কাজী মো. সালাউদ্দিন এখানে আগামীতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে গেলেন।

রাজধানীর বাইরে প্রিমিয়ার লিগের ভেন্যু বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই গত মৌসুমে এই স্টেডিয়ামকে বেছে নিয়েছিল বাফুফে। দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান ও নতুন শক্তি বসুন্ধরা কিংস স্টেডিয়ামটিকে হোমভেন্যু করায় এখানে নতুন করে তৈরি হয়েছে ফুটবলের উম্মাদনা।

নতুন করে তৈরি করায় খেলা না থাকলেও বিকেলে অনেক মানুষ মাঠ দেখতে আসেন এখানে। আর ম্যাচের দিন রীতিমত ফুটবল ফুটবল ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে কুমিল্লা শহরে। যেমন শনিবার বসুন্ধরা কিংস ও ব্রাদার্সের ম্যাচ ঘিরে ধর্মসাগড়পাড় মেতে উঠেছিল ফুটবল উৎসবে।

আরআই/এমএমআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]