ফুটবল স্টেডিয়ামও হবে পূর্বাচলে

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২১

ক্রিকেটের মতো ফুটবল স্টেডিয়ামও হতে পারে রাজধানীর পাশ্ববর্তী নতুন শহর পূর্বাচলে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখানেই ফুটবলের জন্য স্টেডিয়াম করার কথা ভাবছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ফুটবল উন্নয়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাফুফের অন্যতম দাবি ‘নিজস্ব স্টেডিয়াম’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সবাই পূর্বাচলকেই দেখেছে স্টেডিয়াম তৈরির সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে।

তবে সেটা জমি পাওয়া সাপেক্ষে। সভাশেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মো. মাসুদ করিম জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি বাফুফে ভবনে ফুটবল উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। তারই ফলোআপ মিটিং হলো সচিবালয়ে। সভায় ফুটবল ফেডারেশনের স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও চাহিদা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বাফুফে অনেকগুলো দাবি উত্থাপন করেছে। যার মধ্যে অন্যতম রাজধানী কিংবা তার আশপাশে নিজস্ব একটি স্টেডিয়াম তৈরি করে দেয়ার। এ নিয়েও কথা হয়েছে মঙ্গলবারের সভায়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব বলেছেন, ‘ফুটবল ফেডারেশন একটি স্টেডিয়ামের কথা বলেছে। আমরা বলেছি, এরকম একটা নয়, ফুটবলের জন্য আরো স্টেডিয়াম দরকার। দেশের জনপ্রিয় খেলার উন্নয়নে বিভাগ ও জেলা শহরে ফুটবলের নিজস্ব স্টেডিয়াম থাকা দরকার।’

রাজধানী বা এর আশপাশে ফুটবলের স্টেডিয়াম তৈরির জন্য বাফুফেকে বলা হয়েছিল পছন্দের জায়গার কথা বলতে। বাফুফে বলেছে পূর্বাচলের কথা। ‘বাফুফের চাওয়া স্টেডিয়ামটি পূর্বাচলে করে দেয়া হোক। আমরাও মনে করি রাজধানীতে স্টেডিয়াম তৈরির মতো জায়গা পাওয়া দুস্কর-পূর্বাচলে হলে ভালো হয়। জায়গা কিভাবে পাওয়া যায় মন্ত্রণালয় সেভাবে কাজ করবে’ -বলেছেন মাসুদ করিম।

ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি করতে পূর্বাচল কেন ভালো স্থান তার ব্যাখ্যাও করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব, ‘পূর্বাচল উপশহর হয়ে উঠছে। ওখানে ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে। ফুটবল স্টেডিয়াম হলে খেলাধুলার একটা পরিবেশ তৈরি হবে।’

পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণ হলেও সেটা অনেক সময়ের প্রয়োজন। প্রথমতো জায়গা পাওয়া। তাই কক্সবাজারে যে ফুটবল স্টেডিয়াম হচ্ছে তা ফিফা ও এএফসির শতভাগ নিয়ম মেনেই করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেও সচিব, ‘কক্সবাজারে যে স্টেডিয়াম করছি সেটা ফিফা ও এএফসির চাহিদা অনুযায়ীই হবে। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন কক্সবাজারে ফুটবল ও ক্রিকেট দুই স্টেডিয়ামেরই সমূদ্রদিকটা এমনভাবে হবে যাতে মানুষ স্টেডিয়ামে বসে সমূদ্রও দেখতে পান।

‘যারা স্টেডিয়ামের ডিজাইন তৈরি করবে তাদের আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ার কথাটি জানিয়ে দেবো। তারা সেভাবে স্টেডিয়ামের নকশা তৈরি করবেন’- বলেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেও সচিব।

বাফুফে সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ বলেছেন, ‘আসলে গত ৭ জানুয়ারি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা যে আলোচনা করেছিলাম ভবনে তার ফলোআপ সভা হয়েছে। সেখানে আমরা বেশকিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য আমরা পূর্বাচলের কথা বলেছি। কক্সবাজার স্টেডিয়াম যাতে ফিফা ও এএফসির চাহিদা অনুসারে হয় সেটা বলেছি। পল্টন ময়দানে সারাবছর খেলা চালানোর জন্য টার্ফ স্থাপনের কথা বলেছি। বিষয়টি জাতীয় পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় উঠবে। সেখানে অনুমোদন হলেই পল্টন ময়দানে টার্ফ বসাবে এনএসসি।’

কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে চলমান সংস্কার কাজের সময় উত্তর ও দক্ষিণ গ্যালারির নিচে যে জায়গা সেখানে জিমন্যাসিয়াম বা ডরমেটরি করে দেয়া যায় কিনা সে বিষয়টিও সভায় উপস্থাপন করেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক।

আরআই/আইএইচএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]