‘নিজের পরিচয়ে পরিচিত হোক নারী’

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:০৭ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২১

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সবাইকে দিবসটির শুভেচ্ছা জানিয়ে ফিফা কাউন্সিল মেম্বার, এএফসি ও বাফুফে সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘নারীদের একক কীর্তি গড়তে হবে, যাতে নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে পারেন। আমি অমুকের মেয়ে, অমুকের বোন অথবা অমুকের স্ত্রী-এ পরিচয় আর নয়। একজন নারী নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, এ প্রত্যাশাই করছি।’

নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা উল্লেখ করে কিরণ বলেন, ‘আজ নারী দিবসে যে মহীয়সী নারীর কথা না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার দক্ষ নেতৃত্বে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে অনেক বেশি। আমরা বাংলাদেশকে বলতে পারি, নারী ক্ষমতায়নের রোল মডেল। আজকের এই নারী দিবসে আমি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করছি। আমি চাই, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।’

‘আমি যে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে কথা বলছি সেটা দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংগঠন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এ প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে যার কথা না বললে নয়, তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন। যিনি প্রতি মুহূর্তে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছেন। যার প্রমাণ আমাদের নারী ফুটবল। গত ১০-১২ বছরে নারী ফুটবলের যে অগ্রযাত্রা, তার নেপথ্য কারিগর আমাদের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন। তিনি যদি সভাপতি না থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশের নারী ফুটবল এই পর্যায়ে এগিয়ে যেতে পারতো না’-বাফুফে সভাপতির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন কিরণ।

এক সময় হাতেগোনা কয়েকটি জেলার মেয়েরা ফুটবল খেলতেন। এখন নারী ফুটবল হচ্ছে গোটা দেশে। দিন দিন নারী ফুটবল দেশের সব জায়গায় ছড়িয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ফিফা কাউন্সিল মেম্বার বলেন, ‘আগে আমরা দল গঠন করতে তিন-চার জেলার নারী ফুটবলার পেতাম। নারী ফুটবল এখন আর অল্প কয়েকটা জেলায় সীমাবদ্ধ নেই। আমরা সারাদেশের নারীদের নিয়ে কাজ করছি। যে কারণে দিন দিন নারী ফুটবল বিস্তৃত হচ্ছে পুরো দেশে।’

jagonews24

দেশের নারী ফুটবল এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাহফুজা আক্তার কিরণ। কারণ, শেখ হাসিনার উদ্যোগেই দেশে চালু হয়েছে বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল ফুটবল।

‘আমি আরেকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ বঙ্গমাতা স্কুল টুর্নামেন্টের কারণে আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে সারাদেশের ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করতে পারছি। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বেরিয়ে আসছে। আগামী দিনের জাতীয় দলের পাইপলাইন তৈরি হচ্ছে। যে কারণে, বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলে আমরা কেবল দক্ষিণ এশিয়ায়ই নয়, এশিয়ায়ও একটা ভালো অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ না নিলে আমরা খেলোয়াড় তৈরির এত বড় সুযোগ পেতাম না’-বলেন মাহফুজা আক্তার কিরণ।

মেয়েদের পরিচয় দিতে আগে-পিছে উল্লেখ করতে হয় একজন পুরুষের নাম-বাবা, ভাই বা স্বামী। কিন্তু এ পরিচয়ে নিজের সত্তা প্রকাশ পায় না। যে কারণে নারীদের নিজের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক এই ফুটবল সংগঠক বলেন, ‘মেয়েরা আজ ফুটবল খেলে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছে। ফুটবল খেলেই মেয়েরা একটা পরিচয় তৈরি করতে পারছে। আমার চাওয়াও তাই। মেয়েরা যেন নিজেদের পরিচয়ে পরিচিত হতে পারে, অন্যের পরিচয়ে নয়।’

ছেলেদের ফুটবলের যে কোনো পর্যায়ের বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের কাছে দিবাস্বপ্নের মতো। কিন্তু মেয়েদের ফুটবল নিয়ে এই বড় টুর্নামেন্টের স্বপ্ন দেখা সম্ভব বলেই মনে করেন মাহফুজা আক্তার কিরণ।

তিনি বলেন, ‘নারী দিবসে আমি নারী ফুটবল নিয়ে বড় প্রত্যাশার কথাই বলব। আমার প্রত্যাশা থাকবে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল একদিন বিশ্বকাপ খেলবে। প্রথমে বয়সভিত্তিক দল যাবে সবচেয়ে মর্যাদার ফুটবল আসর বিশ্বকাপে, এরপর জাতীয় দল। আমরা এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা দুবার বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলেছি। আশা করি, আগামীতে আমরা আরও ভালো কিছু করব। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে-নেতৃত্বে নারী, অর্জনে সমান ভবিষ্যৎ। জয় হোক সব নারীর, জয় হোক নারী দিবসের।’

আরআই/এমএমআর/এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]