‘এর মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়রা আরো দায়িত্বশীল হবে’

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ১০ জুন ২০২১

বিদেশি কোচিং স্টাফ, ক্যাম্পে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পরও জাতীয় ফুটবল দলের কাছ থেকে সাফল্য আদায় করতে পারছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কাজী মো. সালাউদ্দিন সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের শীর্ষ লিগ (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) নিয়মিত মাঠে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকও প্রতিবছর বাড়ছে।

দেশের অন্যান্য পেশার সঙ্গে তুলনা করলে ফুটবলাররা ক্লাব থেকে যে বেতন পান সেটা অবশ্যই ভালো। লিগের খেলার মানও বেড়েছে অনেক। ঘরোয়া ফুটবলে কিছু গোল হয় যাকে অনেকে তুলনা করেন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে। কিন্তু আসল জায়গায় বাংলাদেশের ফুটবলাররা পারেন না। জাতীয় দলের জার্সিতে হতাশার পর হতাশা উপহার দেন। সর্বশেষ উদাহরণ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পারফরম্যান্স।

বাফুফের লক্ষ্য বাংলাদেশকে এশিয়ান পর্যায়ে নেয়া; কিন্তু মাঠে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স দক্ষিণ এশিয়ার পর্যায়েও নেই। ৭ দেশের যে টুর্নামেন্ট সেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি পরপর চার আসরে। হিসাবটা সহজ-দক্ষিণ এশিয়ার ৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নেই শীর্ষে চারে।

কোনো কিছুতেই যখন কাজ হচ্ছে না তখন শেষ দাওয়াই হিসেবে বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন ঘোষণা দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ৩০ ফুটবলারকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বেতনের আওতায় আনতে

বাফুফের এই সিদ্ধান্তকে কিভাবে দেখছেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা? ইনজুরির কারণে শেষ মুহূর্তে কাতার সফরের দল থেকে বাদ পড়া দেশের সিনিয়র গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা বাফুফের সিদ্ধান্ত খুবই কার্যকর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জাগো নিউজ : কিভাবে নিয়েছেন বাফুফের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনের নতুন এই ঘোষণাকে?

আশরাফুল রানা : এটা অবশ্যই ভালো সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীলতা বাড়বে না, যারা পাইপলাইনে থাকবেন তারা উৎসাহিত হবেন।

জাগো নিউজ : বাফুফে এখন জাতীয় দলের পেছনে অনেক টাকা খরচ করে। বিদেশি কোচ, উন্নত ট্রেনিং সুবিধা। তারপরও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আশাব্যঞ্জক ফল আসছে না। বেতন দিলেই কি পারফরম্যান্স ভালো হবে ফুটবলারদের?

আশরাফুল রানা : আগে বাফুফে জাতীয় দলে থাকা ফুটবলারদের নামকাওয়াস্তে একটা সম্মানী দিতো। এখন চুক্তির আওতায় এনে বেতন দেবে। ভালো করলে প্রমোশন, খারাপ করলে বাদ, অপরাধ করলে শাস্তি। এটা অবশ্যই ভালো সিদ্ধান্ত। আগেই বলেছি, এর মধ্য দিয়ে খেলোয়াড়রা আরো দায়িত্বশীল হবে।

জাগো নিউজ : ভালো সুযোগ-সুবিধা আর বেতনই কী কেবল ভালো খেলার দাওয়াই?

আশরাফুল রানা : এসব যেমন দরকার আছে তেমন দরকার আছে তেমন প্রয়োজন আছে খেলোয়াড়দের মনের মধ্যে দেশের জন্য অনুভূতি তৈরি হওয়া। সবকিছু মিলিয়েই পারফরম্যান্স।

জাগো নিউজ : এই যে বাংলাদেশ টানা চারটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালেই উঠতে পারেনি, ফুটবলার হিসেবে এ বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

আশরাফুল রানা : এখানে কোনো অজুহাত নেই। এটা আমাদের সরাসরি ব্যর্থতা। সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কথাই বলি। আমাদের দারুণ সুযোগ ছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি।

জাগো নিউজ : বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে যে পরিমাণ অর্থের প্রবাহ, সে তুলনায় কি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফরম্যান্স আছে?

আশরাফুল রানা : আমরা কখনো আমাদের সমশক্তির দলের বিপক্ষে খেলি, কখনো অধিক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। স্বাভাবিকভাবেই দুই ধরনের দলের বিপক্ষে দুই ধরনের ফল হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আমাদের সেই ধারাবাহিকতা নেই।

জাগো নিউজ : এখন যারা দেশের ফুটবল পরিচালনার দায়িত্বে সেই সালাউদ্দিন-সালাম মুর্শেদীরা যখন জাতীয় দলে খেলেছেন তখন এমন সুযোগ-সুবিধা পাননি। আপনার তো পাচ্ছেন।

আশরাফুল রানা : এখন যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি সেটা দিতেই হবে। না হলে ভালো কিছু আশা করা যায় না। আগের জেনারেশনের ফুটবলাররা এমন সুযোগ-সুবিধা পাননি। তারপরও তারা ভালো খেলেছেন। এই যুগে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান গুরুত্বপূর্ণ।

জাগো নিউজ : এখন জাতীয় দল যে সুযোগ-সুবিধা পায় তা কি পর্যাপ্ত মনে করেন?

আশরাফুল রানা : বর্তমানে আমরা জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকাকালীন যে সুযোগ-সুবিধা পাই সেটা সেটা অবশ্যই ভালো। এর মধ্যে দিয়ে একটা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে-এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরআই/আইএইচএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]