রঙধনু বিতর্ক : মুখোমুখি উয়েফা-ইইউ

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ২৪ জুন ২০২১

‘রেইনবো কালার’ বা ‘রঙধনু রং’ নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে ইউরোপে। হাঙ্গেরিতে সমকামীদের অধিকারের বিপক্ষে আইন পাস হওয়ায় তার প্রতিবাদ শুরু হয়েছে ইউরোপের অনেক দেশে।

প্রতিবাদের এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে উয়েফা ইউরো কাপেও। তারই অংশ হিসেবে জার্মান ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার রেইনবো কালারের আর্মব্যান্ড পরে নেমেছিলেন মাঠে।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা যদিও বলেছিল, এই ব্যাপারটি নিয়ে তদন্ত হবে। কিন্তু তদন্তে রাজনৈতিক কোনো দুরভিসন্ধির ছোঁয়া পায়নি বলে ন্যুয়ারকে শাস্তি দেয়নি তারা।

এরই মধ্যে জার্মানি প্রস্তুতি নিয়ে ফেলে, বায়ার্ন মিউনিখে নিজেদের হোমভেন্যু আলিয়াঞ্জ এরেনায় হাঙ্গেরির বিপক্ষে ইউরো কাপের ম্যাচটিতে (যে ম্যাচটি বুধবার রাতে হয়েছে) স্টেডিয়ামকে রঙধনুর রঙে রাঙাবে তারা; যেহেতু হাঙ্গেরিতেই সমকামীদের বিরুদ্ধে আইন পাস হয়েছে।

খোদ মিউনিখের মেয়র দিয়েতার রেইতার এমনটা করতে দেয়ার অনুমতির জন্য আবেদন জানান উয়েফার কাছে। কিন্তু এতে সায় দেয়নি ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি। রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে নিজেদের উল্লেখ করে অন্য একটি পথ বাতলে দেয় তারা।

উয়েফা পরামর্শ দেয়, মিউনিখ চাইলে তাদের স্টেডিয়ামটিকে ভিন্ন রঙে রাঙাতে পারে ২৮ জুন, যেটাকে ক্রিস্টোফার স্ট্রিট লিবারেশন ডে হিসেবে পালন করা হয় সেখানে। কিংবা ৩ থেকে ৯ জুলাই, যখন সপ্তাহব্যাপী ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে পালন করা হয়।

ক্রিস্টোফার ডে ইভেন্ট পালন করা হয় মূলতঃ ১৯৬৯ সালে নিউইয়র্কে যখন সমকামিতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, সেই সময়টাকে স্মরণ করে।

কিন্তু উয়েফার এমন কথায় খুশি হতে পারছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা রীতিমত ধুয়ে দিয়েছেন উয়েফাকে। তার দাবি, মিউনিখের পরিকল্পনায় বাগড়া দেয়ার মতো যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোপীয় কমিশনের সহ-সভাপতি মার্গারিটিস স্কিনাস বলেন, ‘হ্যাঁ, মিউনিখ সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগের বিপক্ষে গিয়ে উয়েফা কি করতে চেয়েছে, আমার মাথায় ঢুকছে না। সত্যি করে বললে আমি তাদের অজুহাতের পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’

ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ সংস্থাটি এর আগে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ও জাতিগত অধিকারের পক্ষে অনেক প্রচারণা চালালেও হঠাৎ কেন এমন অবস্থান নিল, বুঝে উঠতে পারছেন না মার্গারিটিস।

তিনি বলেন, ‘তারা সব ভালো বিষয়ের সমর্থন দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এসে তারা এমন একটা বিষয় নিয়ে ইস্যু তৈরি করলো।’

প্রসঙ্গত, হাঙ্গেরিতে সম্প্রতি পাস হওয়া এক আইনে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানির বিজ্ঞাপনে সমকামীদের অধিকারের পক্ষে কিছু বলা যাবে না। সমকামীদের সাধারণ মানুষ হিসেবেও তুলে ধরা যাবে না। এছাড়া ওই আইনে এলজিবিটি অধিকার সম্পর্কে অপ্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষাদানও অবৈধ করা হয়েছে।

এমএমআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]