শেখ জামালকে উড়িয়ে ‘শেষ ভালো’ মাহমুদউল্লাহদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৮ পিএম, ২৬ জুন ২০২১

লিগ শিরোপা নির্ধারিত হয়ে গেছে আগেই। মিরপুরে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব আর গাজী গ্রুপের মধ্যকার সুপার লিগের শেষ ম্যাচটি তাই একেবারেই গুরুত্বহীন ছিল।

তবে যতই গুরুত্বহীন হোক, শেষটা ভালো কে না চায়! সেই শেষ ভালো নিয়ে ঘরে ফিরল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। মিরপুরে শেখ জামালকে ৩৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে লিগ শেষ করেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

শেখ জামালের সামনে লক্ষ্যটা ছিল বেশ বড়, ১৮৫ রানের। রান তাড়ায় নেমে কখনই ম্যাচে ছিল না দলটি। শেষ পর্যন্ত ২ ওভার বাকি থাকতে ১৪৯ রানে অলআউট হয়েছে তারা।

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা মোহাম্মদ আশরাফুল এদিন ভালো শুরু করলেও এগোতে পারেননি। ১১ বলে ১৫ রান করে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। একমাত্র ইমরুল কায়েসই যা ভালো ব্যাটিং করেছেন। ৩৩ বলে তিনি খেলেন ৪৫ রানের ইনিংস।

শেষদিকে মারকুটে ব্যাটিংয়ে হারের ব্যবধান কিছুটা কমান জিয়াউর রহমান। ১১ বলে ১ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ২২ রান করেন এই অলরাউন্ডার।

গাজী গ্রুপের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মহিউদ্দিন তারেক। ২ ওভারে ২২ রান খরচ করলেও ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি।

এর আগে মুমিনুল হক আর ইয়াসির আলী রাব্বির তাণ্ডবে ৪ উইকেটে ১৮৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

শুরুটা মন্দ হয়নি। উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৩৫ রানে (৪.১ ওভারে)। যার বেশিরভাগ সংগ্রহ ছিল ওপেনার শেখ মাহেদি হাসানের। অন্যদিকে সৌম্য সরকার ১০ বলে ৯ রানেই আউট হয়ে যান।

মাহেদিও অবশ্য খুব বেশি দূর যেতে পারেননি। পেসার জিয়াউর রহমানের বলে ২৭ রানে (১৭ বলে) ফেরেন গাজী গ্রুপ ওপেনার। ওয়ান ডাউনে নেমে শাহাদাত হোসেন দিপুও (১৩ বলে ১১) সৌম্য সরকারের মতই স্লথ ব্যাটিং করেন।

প্রায় ইনিংসের মাঝামাঝি ৯.৩ ওভারে ৬৭ রানে খোয়া যায় গাজীর ৩ উইকেট। এরপর তরুণ লেগস্পিনার মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদির বলে ১ রানেই বোল্ড হয়ে যান মাহমুদউল্লাহও।

১০.৩ ওভারে ৭১ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর হাল ধরেন মুমিনুল আর ইয়াসির আলী রাব্বি। পরের ৯.৩ ওভারে ১২ রানের বেশি করে তুলে ১১৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন মুমিনুল-ইয়াসির।

মুমিনুল ৫৩ বলে ৭৮ রানের (স্ট্রাইকরেট ১৪৭.১৬) দারুণ ইনিংস উপহার দেন। ইয়াসির রাব্বি ছিলেন আরও ভয়ংকর। ২৩৩.৩৩ স্ট্রাইকরেটে ২৪ বলে সমান চারটি করে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে ৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এই ডানহাতি।

উইকেট না পেলেও সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং করেন নাসির হোসেন। এ অফস্পিনার আজ বোলিংয়ের সূচনা করে ৪ ওভারের স্পেলে দিয়েছেন মোটে ২২ রান।

এছাড়া তরুণ লেগি আফ্রিদি ৩ ওভারে ২৭ রানে পেয়েছেন ১ উইকেট। সে তুলনায় সবচেয়ে মার খেয়েছেন পেসার ইবাদত হোসেন। তার ৪ ওভারে উঠে ৪৬ রান। অপর পেসার জিয়াউর দুই উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন ৪০।

এই ম্যাচ দিয়ে শেষ হলো লিগ। সামনে দুদিন বিশ্রাম জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের। তারপর ২৯ জুন প্রথম প্রহরেই জিম্বাবুয়ের উদ্দেশ্যে বিমানে চড়বেন তারা।

এমএমআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]