৫ মিনিটের ঝড়ে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন ম্যানসিটি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৮ পিএম, ২২ মে ২০২২

বার্সেলোনা ছেড়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব অ্যাস্টনভিলায় যোগ দেয়ার পরও নিজের ঝাঁঝ হারিয়ে যেতে দেননি ফিলিপ কৌতিনহো। ম্যানসিটির মত দলকে পেয়েও জ্বলে উঠলেন। ৬৯ মিনিটে তিনি যখন গোল করলেন, ম্যানসিটি তখন পিছিয়ে গেলো ২-০ ব্যবধানে। তার আগে ৩৭ মিনিটে গোল করেছিলেন ম্যাথিউ ক্যাশ।

খেলার ৭৫, ৭৬ মিনিট পার হয়ে গেলো, গোলের কোনো দেখা পাচ্ছে না ম্যানচেস্টার সিটি। নিজেদের মাঠ ইত্তিহাদে প্রায় ৫৪ হাজার দর্শকের মাঝে পিনপতন নীরবতা। ৭৬ মিনিটে এসেই পুরো গ্যালারিকে আকাশী-নীল ঢেউয়ে ভাসালেন, বার্নার্ডো সিলভার পরিবর্তে ৬৮ মিনিটে মাঠে নামা জার্মান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইলকায় গুন্ডোগান।

গোলের তালা খোলার পরই যেন সব কাজ একসঙ্গে সেরে রাখার পণ করে ফেলেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। দুই মিনিট পরই আবারও আকাশী-নীল ঢেউ। এবার গোল করলেন রদ্রি। ২-২ ব্যবধান হলো। তাতে কী কোনো লাভ হবে ম্যানসিটির?

কোনোভাবেই না। অন্তত জিততে হবে। কারণ, ওদিকে যে উলভারহ্যাম্পটনের জালে ততক্ষণে ২ গোল দিয়ে ফেলেছে লিভারপুল। এদিকে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই ম্যানসিটির। ৮১ মিনিটে সেই কাঙ্খিত মাহেন্দ্রক্ষণটি এলো। সেই ইলকায় গুন্ডোগানই ব্যবধানটা গড়ে দিলেন। আবারও গোল করলেন তিনি। ম্যানসিটি এগিয়ে গেলো ৩-২ ব্যবধানে।

ম্যান নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর আরও ৪ মিনিট হলো ইনজুরি টাইম। এরপরই রেফারি বাঁজালেন শেষের বাঁশি। ততক্ষণে উল্লাস শুরু হয়ে গেছে ম্যানসিটির ডাগআউট থেকে শুরু করে পুরো গ্যালারিতে। অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়েই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলো ম্যানচেস্টার সিটি। গত ৫ বছরে এ নিয়ে ৪র্থবার চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলো সিটি।

ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলার ৬৮তম মিনিটে নেয়া একটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের চেহারা বদলে দিয়েছিল। অ্যাস্টন ভিলা ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা মানে তো নিশ্চিত পরাজয়। পুরো ম্যাচে সমানে অ্যাস্টন ভিলাকে চাপের উপরে রেখেছে ম্যানসিটি। একের পর এক গোলের সুযোগ। কিন্তু কোনোটিই জাল পর্যন্ত যাচ্ছে না। বাধা পাচ্ছে পার্ক করা বাসের সামনে।

অ্যাস্টন ভিলার দুর্বোধ্য দেয়াল ভেদ করার জন্যই ৬৮তম মিনিটে বার্নার্ডো সিলভাকে তুলে নিলেন গার্দিওলা। মাঠে নামালেন জার্মান মিডফিল্ডার ইলকায় গুন্ডোগানকে। মাঠে নেমেই খেলার চিত্র বদলে ফেলেন তিনি।

৭৬ মিনিটে রাহিম স্টার্লিংয়ের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলটিকেই দুর্দান্ত এক হেডে জড়িয়ে দিলেন অ্যাস্টন ভিলার জালে। শোধ হলো একটি গোল। ১-২। ৭৮ মিনিটে ওলেকজান্ডার জিনচেঙ্কোর পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে বাম পাশ থেকেই ডান পায়ের শট নেন রদ্রি। সোজা গিয়ে জড়িয়ে যায় অ্যাস্ট ভিলার জালে। ২-২ সমতা।

এরপর ৮১ মিনিটে আবারও ইলকায় গুন্ডোগান। কেভিন ডি ব্রুইনের পাস থেকে বল পেয়ে পোস্টের একেবারে সামনে থেকে ডান পায়ের শটে ভিলার জালে বল জড়িয়ে দেন জার্মান এই মিডফিল্ডার। ৩-২। ম্যাচের শেষ অংশে ভিলাকে চেপে ধরে আরও গোল আদায়ের চেষ্টা ছিল সিটির। কিন্তু আর গোল হয়নি। ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন তারা।

পরিসংখ্যান টেবিলে তাকালে দেখা যাবে ৭১ ভাগ বল দখলে ছিল ম্যানসিটির। অ্যাস্টন ভিলার মাত্র ২৯ ভাগ। ভিলার পোস্টে ২৪টা শট নিয়েছিল সিটি। টার্গেটে ছিল ৫টি। আর অ্যাস্টন ভিলা পোস্টে শট নিয়েছিল ৪টি। টার্গেটে ছিল ২টি। সে দুটিতেই হলো গোল।

৩৮ ম্যাচ শেষে সিটির পয়েন্ট দাঁড়ালো ৯৩। লিভারপুলের পয়েন্ট ৯২। চেলসি ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে হলো তৃতীয়। ৭১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হলো টটেনহ্যাম। ৩৮ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে ৬ষ্ঠ হলো ম্যানইউ।

আইএইচএস/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]