ম্যাচের আগেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ নিয়ে উত্তপ্ত কাতার বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২২

বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। ১৯৯৮ সালের সেই বিশ্বকাপে ইরানের কাছে ২-১ গোলে হেরে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই ম্যাচ নিয়ে ইরানের সোশ্যাল মিডিয়া এমনকি কোনো কোনো সংবাদপত্রেও লেখা হয়েছে ‘গ্রেট শয়তান ১:২ ইরান’। যা নিয়ে এবার কাতার বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দুই দেশের ফুটবলাঙ্গন।

শুধু ‘গ্রেট শয়তান ১:২ ইরান’ এই শিরোনামই নয়, ইরানের হিজাব বিরোধী বিক্ষোভ, বিক্ষোভকারীদের প্রতি দেশটির সরকারের কঠোর অবস্থান সারা বিশ্বে সমালোচনা তৈরি করেছে। যা নিয়ে সোচ্চার আমেরিকানরাও। এমনকি বিশ্বকাপে খেলতে আসা ফুটবলাররাও সরকারের কঠোর সমালোচক। যা তাদের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়া থেকেই প্রতীয়মান।

যদিও সরকারের গ্রেফতারের হুমকি পাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিল ইরানি ফুটবলাররা। কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হওয়ার আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তাপ যেন আগেই লেগে গেছে কাতার বিশ্বকাপে।

মূলত এখন অভিযোগ উঠেছে ইরানের জাতীয় পতাকাকে বিকৃত করার। এই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে ইরান। আবার ইরানের সাংবাদিকের প্রশ্ন শুনে সংবাদ সম্মেলন ছেড়েই উঠে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই ফুটবলার।

আমেরিকা এবং ইরানের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিন ধরেই শীতল। সেই শীতলতার আঁচ এবার বিশ্বকাপেও লেগে গেছে। হিজাব-বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান। সুযোগ বুঝে খোঁচা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। ইরানে নারী স্বাধীনতার দাবি সমর্থন করেছে তারা। হিজাব-বিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের জাতীয় পতাকার বিকৃত ছবি দিয়েছে। পতাকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতীক। সঙ্গে লেখা হয়েছে, ‘ইরানের যে নারীরা সাধারণ মানবাধিকারের জন্য লড়াই করছেন, আমরা তাদের পাশে রয়েছি।’

বিষয়টি নজরে আসতেই সরব হয়েছে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন। জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে ফিফার এথিকস কমিটির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে কমপক্ষে ১০টি ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফিফার আইনকেই হাতিয়ার করা হয়েছে।

ফিফার আইনের ১৩ নম্বর ধারায় বলা রয়েছে, ‘কোনও ব্যক্তি বা কোনও দেশের মর্যাদা বা অখণ্ডতায় আঘাত করা হলে কোনও ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীকে ১০টি ম্যাচ বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে বা উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।’

ইরানের জাতীয় পতাকার মাঝে তাদের জাতীয় প্রতীক যুক্ত করা হয় ১৯৮০ সালে। চারটি বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে একটি তলোয়ার। ইরানের প্রতিবাদীদের অনেকের হাতেই দেখা যাচ্ছে সিংহের প্রতীক এবং সূর্য দেওয়া পতাকা। যা আসলে ইরানের সাবেক শাসক শাহ মহম্মদ রেজার প্রতীক এবং পতাকা।

বিশ্বকাপের আসরেও ইরানের অনেক সমর্থক সিংহের প্রতীক এবং সূর্য দেওয়া পতাকা প্রদর্শন করছেন দেশের আন্দোলনকারীদের সমর্থনে। অনেকের পোশাকেও লেখা থাকছে, ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’। ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের আসরে এই ধরনের প্রতিবাদ বন্ধ করার জন্যও ফিফার কাছে আবেদন করা হয়েছে। ফিফার পক্ষ অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ইরানের দাবি মেনে প্রতিবাদীদের আটকানোর নির্দেশও দেয়নি ফিফা।

অন্যদিকে, ইরানের এক সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্র দলের সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। ইরানের সাংবাদিক শেরভিন তাহেরি আমেরিকার দুই ফুটবলার টিম রিয়াম এবং ওয়াকার জিমেরম্যানকে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। এ সংক্রান্ত প্রশ্ন না- করার অনুরোধ করার পরও তাহেরি উত্তরের জন্য চাপ দেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সময় ফুটবলারদের বিতর্ক থেকে দূরে রাখতে সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দেন আমেরিকা ফুটবল দলের ডিরেক্টর অফ কমিউনিকেশন মাইকেল কামেরম্যান।

এর আগে আমেরিকার দুই ফুটবলারকে তাহেরি প্রশ্ন করেছিলেন, ১৯৯৮ সালে শতবর্ষের বিশ্বকাপে ইরান যখন আমেরিকাকে হারিয়েছিল, তখন তাদের কত বয়স ছিল। জবাবে রিয়াম বলেন, ‘মনে হয় তখন আমার নয় বছর বয়স ছিল। অনেকটাই ছোট ছিলাম। ওই ম্যাচটা আমার তেমন মনে নেই। এটুকু বলতে পারি, সেই ম্যাচের ফলের সঙ্গে এ বারের ম্যাচের কোনও সম্পর্ক নেই।’

জিমেরম্যান বলেন, ‘তখন আমার বয়স ছিল পাঁচ। তাই ওই ম্যাচ সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই। ২০০২ বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচের কথা অল্প মনে আছে। সে বারই প্রথম বিশ্বকাপের খেলা দেখেছিলাম।’

উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর দুই দল কাতারে মুখোমুখি হবে গ্রুপ পর্বের খেলায়।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।