অবিস্মরণীয় জয়ের পরদিন কেমন কাটলো মিরাজ-মোস্তাফিজদের!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

একটি ম্যাচের পারফরমেন্স ও ফলে কত কিছুই না বদলে দেয়! ৪ ডিসেম্বর রোববার রাতে শেরে বাংলায় মিরাজের অসামান্য দৃঢ়তায় পাওয়া অবিস্মরণীয় জয়ের পর বদলে গেছে টিম বাংলাদেশের চিত্র। তাদের অনুশীলনের সূচি এবং শারীরিক অভিব্যক্তিও পাল্টে গেছে।

ভারতের মত দলগুলোর বিপক্ষে বেশিরভাগ সময়ই তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ হারে। সিরিজ শুরুই হয় হার দিয়ে। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর মানসিক স্থিরতা যায় কমে। একটা অস্থির ভাব কাজ করে পুরো দলের মধ্যে। হারের পরদিনও প্র্যাকটিস হয়। পরাজয়ের পর রাতটুকু হতাশায় পার করে পরদিন সকাল সকাল ছুটতে হয় মাঠে।

বাংলাদেশ দলকে যারা খুব কাছ থেকে দেখেন, তারা জানেন, বেশির ভাগ সিরিজে টাইগারদের শুরুই হয় হার দিয়ে। আর তার প্রভাবে প্রথম ম্যাচ থেকেই সিরিজ পরাজয়ের শঙ্কা এসে ভর করে। এবার সেই অস্থির ভাব আর সিরিজ পরাজয়ের শঙ্কা ও চিন্তা নেই।

তার পরিবর্তে রোববার রাতে পাওয়া ১ উইকেটের দারুণ জয়ের রেশ নিয়ে একটা উৎসব উৎসব ভাব সবার মনে। ক্রিকেটাররা উৎফুল্ল। উদ্বেলিত। শুরুতেই সিরিজ পরাজয়ের চিন্তা মাথায় ঢোকার বদলে প্রতিটি ক্রিকেটারের মনে এখন ইতিবাচক মানসিকতা জন্ম নিয়েছে। আমাদের সামনে এখন সিরিজ বিজয়ের সম্ভাবনা। সিরিজ জয়ের লাল সূর্য্য উঁকি দিচ্ছে।

৪ ডিসেম্বর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ ও এবাদত হোসেন মাঠে যে লড়াই, সংগ্রাম দেখিয়েছেন, ব্যাট ও বলে যে উদ্ভাসিত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তাতে ২০১৫ সালের সুখ-স্মৃতি ফিরিয়ে আনার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

৭ ও ১০ ডিসেম্বর যে দুটি খেলা বাকি আছে। তার একটিতে জিতলেই ৭ বছর আগের ইতিহাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। আবার ভারতকে ওয়ানডেতে সিরিজ হারানোর দুর্দান্ত কৃতিত্ব হবে অর্জিত। প্রতিটি ক্রিকেটারের মনে এখন সে ভাবনাই বাসা বেধেছে। তারা সবাই নির্ভার। রোববার মাঠেই জয়ের উৎসব হয়েছে। আজ সোমবার কোন প্র্যাকটিস ছিল না। ছুটি ছিল। ক্রিকেটাররা ছুটির আমেজেই কাটিয়েছেন পুরো দিন।

কোন অনুশীলনের তাড়া ছিল না আজ। তার পরিবর্তে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান আর রোকেশ রাহুলের ভারতকে হারানোর মধুর আনন্দের পরশ লেগে ছিল সবার মনে।

সেই সুখ-স্মৃতি বুকে ধরেই বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচের আগে কাল মঙ্গলবার শেরে বাংলায় আবার অনুশীলনে নামবে লিটনের দল। তবে পেসার এবাদতের কথা শুনে মনে হচ্ছে প্রথম ম্যাচ জিতলেও আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে নারাজ টাইগাররা। তবে এবাদত এটাও স্বীকার করেছেন যে, ভারতের বিপক্ষে জয়টা তারা খুব ভালোভাবে উদযাপন করেছেন এবং এমন অবিস্মরনীয় জয়ে সবার আত্মবিশ্বাসটা বেড়েছে।

কিন্তু কেউই তাই বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে না। সোমবার বিসিবি থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় ভারতের সঙ্গে ৪ উইকেট পাওয়া এবাদত বলেন, ‘এমন একটা জয় আমাদের দরকার ছিল। আমরা ওয়ানডেতে খুব ভালো দল। তবু ভারতের বিপক্ষে এই জয়টা আমরা খুব ভালোভাবে উদযাপন করেছি। হয়তো এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছি। এর মানে এই নয় যে সিরিজ জিতে গিয়েছি। কাল আমাদের একটা অনুশীলন সেশন আছে। পরেরদিন ম্যাচ আছে। সবাই এখন আত্মবিশ্বাসী। পরের ম্যাচটাও সবাই মিলে ভালো খেলার চেষ্টা করব।’

তাসকিন কী পরের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন? এবাদত বলেন, ‘তাসকিনের চোটের ব্যাপারটা মেডিকেল বিভাগ ভালো বলতে পারবে। সে আমাদের অন্যতম সেরা বোলার। সে তাড়াতাড়ি ফিরে আসুক, এটাই আমি চাই।’

অন্যদিকে হারলেও অনুশীলনের তাড়া মুক্ত ছিল ভারতীয়রাও। রোহিত শর্মার দলও আজ পুরো বিশ্রামে হোটেলে শুয়ে বসেই কাটিয়েছে।

এআরবি/আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।