শততম টেস্টের সামনে দাঁড়িয়ে আমলা


প্রকাশিত: ০৮:০৬ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৭
শততম টেস্টের সামনে দাঁড়িয়ে আমলা

ক্রিকেটে সময়ের সেরা তো বটেই, হাশিম আমলা দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে যায়গা করে নিয়েছেন অনেক আগেই। ২০০৪ সালে ২১ বছর বয়সে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া আমলা এখন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের শততম ম্যাচের সামনে দাড়িয়ে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় টেস্টে যখন মাঠে নামবেন আমলা, একটা মাইলফলকই ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। এমন মূহুর্তে হাশিম আমলার ক্যারিয়ার বিশ্লেষণে দেখা যাবে শুধুই একজন আফ্রিকান ক্রিকেটারই নয়, পুরো বিশ্ব ক্রিকেটেরই দূত তিনি। আমলার ক্যারিয়ারে উল্লেখ্যযোগ্য দিক নিয়ে সাজানো হলো এই প্রতিবেদন-

সংক্ষেপে আমলার টেস্ট ক্যারিয়ার
১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হাশিম আমলার। দক্ষিণ আফ্রিকার সব বয়স ভিত্তিক দলের হয়েই খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ২০০৪ সালে ২১ বছর বয়সে, সাদা পোশাকের ক্রিকেটে।

ভারতের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেনের সেই অভিষেকে প্রথম ইনিংসে ২৪ রান এসেছিল আমলার ব্যাট থেকে, দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ২ রান। এরপর এখনও পর্যন্ত ৯৯ টেস্টে ৪৯.৪৫ গড়ে ৭৬৬৫ রান সংগ্রহ করেছেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরি করেছেন ২৫টি, হাফ সেঞ্চুরি ৩১টি। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকান ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ানও হাশিম আমলা।

সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ তার সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘হাশিম আমলাকে ছাড়া এই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট এক বিন্দু পরিমাণও চিন্তা করা যায় না। তাকে ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট এগুতেই পারবে না।’

টেস্টের আমলা রাজা ওয়ানডেতেও
২০০৪ সালে টেস্ট অভিষেক হলেও রঙ্গিন পোশাকে প্রথম মাঠে নামতে আরও চার বছর সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে আমলাকে। এর প্রথম কারণ হয়তো তার ব্যাটিংয়ের ধরণ। তবে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকের পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটকে আমলা রাঙ্গিয়েছেন নিজস্ব তুলিতেই।

স্লো- ব্যাটিংয়ের কারণে যেখানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অভিষেকের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়ে দীর্ঘ সময়, সেখানে ওয়ানডের রেকর্ড তার সম্পর্কে শুধুই ভুল তথ্য দেবে। ভিভ রিচার্ডসের মত কিংবদন্তিকে পিছনে ফেলেও অনেক রেকর্ডই নিজের করে নিয়েছে আমলা। সবচেয়ে কম ইনিংসে ২০০০ রান (৪০ ইনিংস), ৩০০০ রান (৫৭ ইনিংস), ৪০০০ রান (৮১ ইনিংস), ৫০০০ রান (১০১) এসব রেকর্ডই এখন আমলার দখলে।

অধিনায়ক আমলা
গ্রায়েম স্মিথের উত্তরসূরী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট দলের নেতৃত্বের জন্য প্রথম নামটি ছিল হাশিম আমলারই। দেশের হয়ে সব পর্যায়েই যে নেতৃত্ব দিয়ে গড়ে উঠেছিলেন তিনি! অনূর্ধ্ব-১৩, ১৪, ১৫, ১৭, ১৯ সবগুলো বয়সভিত্তিক দলে অধিনায়কত্ব করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তাই এক সময় তার কাঁধেই প্রোটিয়াদের নেতৃত্ব উঠবে এটা স্বাভাবিকই ছিল। আমলা নেতৃত্বও দিয়েছেন জাতীয় দলকে। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। ২০১৩ সালে ওয়ানডে অধিনায়কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিনয়ের সঙ্গে। পরে অবশ্য টেস্ট দলের নেতৃত্বের ভার নেন।

নিজ ইচ্ছেয় সরে দাঁড়ানোর আগে ১৪ টেস্টে আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৪টি জয় ও সমান সংখ্যক ড্রর বিপরীতে পরাজয় ৬টি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় ৪টিতে, পরাজয় ৫টি। ২০১১ সালে টি-টোয়েন্টিতে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ২টি ম্যাচে। একটি জয়ের বিপরতীতে পরাজয় একটিতে।

এক অনুকরনীয় চরিত্র
শুধু ক্রিকেট কেন? ক্রিকেটের গন্ডি পেরিয়ে হাশিম আমলা এক অণুকরণিয় চরিত্র যেন। সেটা ব্যক্তি জীবন হোক, আর খেলোয়াড়ি জীবন। ধৈর্যশীল, ধর্মভিরু, কঠোর পরিশ্রমী- এই গুণগুলো যে কাউকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দেয়, ক্রিকেটে তার বড় উদাহরণ আমলা। টিমমেট হিসেবে সবার কাছে যেমন প্রিয়, ঠিক তেমনই তরুনদের কাছেও আদর্শ।

আইএইচএস/আরআইপি