সচিবদের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ নিয়ে ক্রীড়া উপমন্ত্রীর ক্ষোভ

প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সচিবদের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ নিয়ে ক্রীড়া উপমন্ত্রীর ক্ষোভ

ভেন্যু পরিদর্শন করে অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে তিন সচিবের অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। স্থাপনা তৈরির আগে অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ওমর ফারুক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, পরিষদের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সুকুমার সাহার অস্ট্রেলিয়া সফরের কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না ক্রীড়া উপমন্ত্রী। কেবল ক্রীড়া উপমন্ত্রীই নন, অনেকের চোখেই এটি ভ্রমণবিলাস ছাড়া আর কিছুই নয়।

‘এ সফরের সব আয়োজন হয়েছে আমাকে পাশ কাটিয়ে। এর নোটসিটে আমার স্বাক্ষরও নেয়া হয়নি। এছাড়া আমাদের মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিও এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল নয়। এমন সফরে সরকারের অর্থ ব্যয় ছাড়া আর কিছু নয়। এক সঙ্গে ৩ জন সচিবের বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদনের বিষয়টিও যথাযথভাবে হয়নি। একজন জনপ্রতিনিধিও রাখা হয়নি এ সফরে। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি’-বলেছেন আরিফ খান জয়। যথাযথ টেকনিক্যাল লোক না নিয়ে যাওয়ায় এ সফর ভেন্যু নির্মাণে কোনো কাজে আসবে না বলেও মনে করছেন তিনি।

আরিফ খান জয় বলেছেন, ‘পূর্বাচলে শুধু ক্রিকেট স্টেডিয়াম হবে নাকি পাশপাশি ফুটবলের ব্যবস্থাও থাকবে; তা এখনো ঠিক হয়নি। সরকার চাচ্ছে দুই খেলারই ব্যবস্থা থাকুক। অথচ ভেন্যু দেখতে দুই খেলার সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। যারা গেছেন তারা ভেন্যুর কী বুঝবেন? তাছাড়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব তো বেশি দিন নেই। এ মাসেই তিনি অবসরে যাচ্ছেন। তার অস্ট্রেলিয়া গিয়ে ভেন্যু দেখার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে কিভাবে?’

উল্লেখিত এ চার কর্মকর্তা পূর্বাচলে প্রস্তাবিত স্টেডিয়াম নির্মাণ উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনিতে গিয়েছিলেন সেখানকার অত্যাধুনিক স্থাপনাগুলো দেখতে। প্রায় ৩৮ একর জায়গার উপর পূর্বাচলে তৈরি করা হবে অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। কিছুদিন আগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পূর্বাচলের জায়গা বরাদ্দ করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে। রাজউকের বরাদ্দের চিঠি পাওয়ার পরই ক্রীড়া প্রশাসন প্রথম কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছে বিদেশ ভ্রমণ। তারা ৭ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া গিয়ে ফিরেছেন ১৪ ফেব্রুয়ারি।

এ সফরের পক্ষে সাফাই গেয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেছেন, ‘যারা এ স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা করবেন, সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করবেন তারাই তো গিয়েছিলেন। স্টেডিয়াম নির্মাণে এ সফর কাজে লাগবে।’

এভাবে বিদেশে গিয়ে স্থাপনা পরিদর্শন নতুন নয়, অতীতেও গেছেন অনেকে। কিন্তু তা তো কোনো কাজে লাগেনি। সরকারের অর্থ ব্যয় করে শুধু ভ্রমণবিলাসই হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বীরেন শিকদার বলেছেন, ‘অতীতে কাজে লাগেনি বলে এখন লাগবে না এমন কোনো কারণ নেই।’

এ সফরে ক্রিকেট বা ফুটবলের টেকনিক্যাল কাউকে না নেয়া প্রসঙ্গে বীরেন শিকদার বলেছেন, ‘তারা গিয়ে কি করবেন? তারা তো অবকাঠামো তৈরি করেন না। এখানে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।’

কবে নাগাদ শুরু হতে পারে পূর্বাচলে স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ? ‘এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। একটা পর্যায় আসলে বলতো পারবো। সে পর্যায়ে এখনো আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। কোন প্রতিষ্ঠান কাজ করবে, তা এখনো ঠিক হয়নি’-জবাব যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের।

আরআই/এনইউ/এমএস