‘ভারত-পাকিস্তান পারেনি, ভেবেছি বাংলাদেশও পারবে না’


প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৭
‘ভারত-পাকিস্তান পারেনি, ভেবেছি বাংলাদেশও পারবে না’

২০০৯ সালে গল টেস্টে পাকিস্তানকে ১৬৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল কুমার সাঙ্গাকারার নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা। জবাবে হেরাথের ঘূর্ণিতে পড়ে পাকিস্তানি ব্যাটস্যামনরা। সর্বোচ্চ ২৮ রান করেছিলেন সালমান বাট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন খুররাম মনজুর।

এরপর মোহাম্মদ ইউসুফের ব্যাট থেকে আসে ১২ ও আব্দুর রউফের ১৩ রান। বাকিরা দুই অঙ্কই ছুঁতে পারেননি। ১১৭ রানে অলআউট পাকিস্তান। আর তাতে ৫০ রানে জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। চার উইকেট নেন রঙ্গনা হেরাথ।

Babuএরপর লঙ্কানরা দুই শ’র নিয়ে টার্গেট দিয়ে পরাস্ত করে ভারতকে, ২০১৫ সালে। গল টেস্টে ভারতের সামনে ১৭৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় স্বাগতিকরা। অজিঙ্কা রাহানে, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মাদের কাছে এই লক্ষ্য ‘মামুলিই’ মনে হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু তা হলো কই? উল্টো ওই হেরাথের স্পিনের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া; অলআউট হয়ে যায় ১১২ রানে। শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি জিতে নেয় ৬৩ রানে। ৪৮ রান খরচায় ৭ উইকেট নেন লঙ্কান স্পিনার হেরাথ।

ভারত-পাকিস্তানকে দুই শ’র নিচে লক্ষ্য দিয়ে জয় তুলে নেয়ায় কলম্বো টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষেও জয় দেখছিলেন হেরাথ! অতীত যা বলছে তাতে না দেখে পারেন না। সত্যিই, হেরাথের চোখে-মুখে নাকি ভেসে উঠেছিল আগের ওই চিত্র।

Vision

বাংলাদেশের দলীয় স্কোর যখন ২২, পরপর দুই বলে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে আউট করেন হেরাথ। তখন তো জয়ের কথাই ভাবছিলেন। ‘ভারত-পাকিস্তান পারেনি, তো বাংলাদেশও পারবে না!’-এ চিন্তায় বিভোর ছিলেন হেরাথ! হয়তো।

হেরাথের এই ধারণা ভুল করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের ১০৯ রানের জুটি। শততম টেস্টে টাইগাররা জয় পেয়েছেন ৪ উইকেটে। মুশফিকদের এটি ঐতিহাসিক জয়।

বাংলাদেশে কাছে হেরে যাওয়ায় হতাশা ঝড়েছে হেরাথের কণ্ঠে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে লঙ্কান অধিনায়ক বলেন, ‘১৯১ রানের লক্ষ্য। আমি ভেবেছিলাম, আমরা জিতবো। আমরা ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন লো স্কোর (দুই শ’র নিচে লক্ষ্য) নিয়ে জিতেছিলাম। আমাদের হাতে তিন স্পিনার; তাই আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম- এবারও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবো। দ্রুত দুটি উইকেটও পেয়েছিলাম। কিন্তু লাঞ্চের পর তারা (তামিম-সাব্বিররা) আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে; আমাদের হাত থেকে ম্যাচ ফসকে যায় তখনই।’

এনইউ/জেআইএম