বিজেএমসির কাছে লড়াই করে হারলো জামালপুরের মেয়েরা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৭

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী পর্বও তখন মাঝামাঝি পর্যায়ে। এক এক করে ব্যক্তিগত পুরস্কার নিচ্ছেন ‘পদ্ম দল’ নামে জামালপুরের কাবাডির মেয়েরা; কিন্তু অধিনায়ক সোনিয়া আক্তারের নাম বারবার ডাকা হলেও তার দেখা নেই। মঞ্চের অতিথিরা এদিক-সেদিক তাকাচ্ছেন। সোনিয়াকে না পেয়ে বাকিরা এক এক করে শেষ করেন ব্যক্তিগত পুরস্কার নেয়ার পর্ব। একটু পরই সোনিয়াকে খুঁজে বের করেন দলের এক কর্মকর্তা।

সৈয়দপুর বছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী তখনো কাঁদছিলেন কাবাডি কোর্টের এক কোনে দাঁড়িয়ে। কিছুতেই তার কান্না থামানো যাচ্ছিল না। এমন কী মঞ্চে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের হাত থেকে পুরস্কার নেয়ার সময়ও কাঁদছিলেন সোনিয়া। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তখন বারবার বলছিলেন ‘তোমরা অনেক ভালো খেলেছো। আগামীতে আরো ভালো খেলবে।’

kabadi

আসলেই ভালো খেলেছে জামালপুরের মেয়েরা। মঙ্গলবার পল্টনের কাবাডি স্টেডিয়ামে আন্তঃস্কুল চ্যাম্পিয়নশিপের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন দলটির সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। অভিজ্ঞতায় বিজেএমসি অনেক এগিয়ে। দলে আছেন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়। এমনকি জাতীয় দলের ছিলেন কয়েকজন। সেই দলেন কাছে জামালপুরের মেয়েরা হেরেছে মাত্র ২ পয়েন্টে। প্রথমার্ধে ১৭-১৪ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা বিজেএমসি শেষ পর্যন্ত জিতেছে ২৯-২৭ পয়েন্টে। জুনিয়র দলের সঙ্গে খেলে কানের কাছ দিয়েই গুলি গেছে বিজেএমসির মেয়েদের।

তো বড়দের কাছে ছোটরা হারতেই তো পারে। তাই বলে এত কান্না কেন? ‘আমরা রুম থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম হারবো না। আগে কখনো হারিনি। তিন বছর ধরে খেলছি। আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল জিতবোই; কিন্তু অনেক ভালো খেলেও পারলাম না’-পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে যখন এ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিলেন সোনিয়া তখনও তার চোখে পানি।

বিজেএমসির কোচ সুবিমল চন্দ্র দাস দলে ভালো খেলোয়াড়ের স্বপ্লতার কথা বলেছেন, ‘ফাতেমা আক্তার শিলা আর মরিয়ম বর্না ছাড়া আমাদের খেলোয়াড় নেই। সব অন্য দলে চলে গেছেন। বেশ কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় নিয়ে আমাদের খেলতে হয়েছে। জামালপুরের মেয়েরা অনেক ভালো লড়াই করেছে।’

আরআই/আইএইচএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :