বিশ্বকাপ ও রাশিয়ার জাতীয় দিবস মিলেমিশে একাকার

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা মস্কো, রাশিয়া থেকে
প্রকাশিত: ০৩:৪৬ পিএম, ১৩ জুন ২০১৮

প্রতি বছরই আনন্দের বারতা নিয়ে ১২ জুন আসে রাশিয়ানদের মাঝে। দেশটির জাতীয় দিবস বলে কথা! রাজধানী মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কয়ার এ দিনটিতে রঙিন হয় সকাল থেকে। দিনভর এবং মধ্যরাত পর্যন্ত চলে নানা আয়োজন। রাশিয়ার মানুষ এবার সেই দিনটিকে পেলো অন্য রকমভাবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশটির মানুষের আনন্দের সঙ্গে যোগ হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ফুটবল বিশ্বকাপের আবাহ। রাশিয়ার জাতীয় দিবস ও বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাস মিলেমিশে একাকার হয়েছিল দিনভর, গভীর রাত পর্যন্ত।

এমনিতেই যারা মস্কোতে আসেন তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে একবার রেড স্কয়ারে ঢুঁ মারা। সেখানে গিয়ে নান্দনিক সব ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজের একটা ছবি না তুললে কী হয়? পর্যটকদের সেই আকর্ষণের জায়গাটা মঙ্গলবার রঙিন হয়েছিল নানা জাতি ও বর্ণের মানুষের উপস্থিতিতে।

রাশিয়ার জাতীয় দিবসের উৎসব যেন পরিণত হয়েছিল বিশ্বকাপের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের প্রতিযোগিতা। নিজেদের দলের জন্য কারা কতটা গলা ফাটাতে পারে, সে লড়াইতো শুরু হয়েছিল সকাল থেকেই। চললো রাত পর্যন্ত।

প্রতি বছরের মতো এবারও রাশিয়া সরকারের বিশাল আয়োজন ছিল রেড স্কয়ারে। কনসার্ট, গভীর রাতে আতশবাজি। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানগুলো উপভোগ করেছে কেবল ভাগ্যবান টিকিটিধারীরাই; কিন্তু সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো চত্বরটিই যেন দখলে ছিল বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের ভিড়ে।

এই ব্রাজিলের খণ্ড মিছিল তো, পরক্ষণেই আর্জেন্টিনা। তবে এখন পর্যন্ত মস্কোয় ব্রাজিলের চেয়ে আর্জেন্টিনার প্রাধান্যই বেশি। মেসিরা যে এ শহরেই ডেরা পেতে বসেছেন! ব্রাজিল সমর্থকদের স্রোতটাকে তাই পিছিয়েই রাখতে হবে। নেইমাররা যে এখান থেকে অনেক দূরে, সোচিতে!

তবে সমর্থকদের উৎসবমুখর আবহটা বেশি তৈরি হয়েছে পেরুর কারণে। মঙ্গলবার এ দেশটিরে সমর্থকদেরই দেখা গেলো অন্যদের চেয়ে হৈ-হুল্লোড়ে এগিয়ে থাকতে। মাঠে তাদের দল কী করবে, সেটা সময়ই বলে দেবে; কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর ২ দিন আগের উচ্ছ্বাসটায় বাজিমাত করায় পুরো নম্বর তারা পেতেই পারে।

আরআই/আইএইচএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :